সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

মালয়েশিয়াকে শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

কুয়ালালামপুরে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যৌথ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী; কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা।

মালয়েশিয়াকে শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ছবি -সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় আরও বেশি সংখ্যায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

যৌথ ব্রিফিংয়ের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাওয়া অভিনন্দন ও সফরের আমন্ত্রণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই আমার প্রথম বিদেশ সফর। আমার স্ত্রী এবং আমি মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি।”

সফরে নিজের পারিবারিক ও ঐতিহাসিক স্মৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের শ্রমশক্তি সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করে। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে আমার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছিল।”

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ আমাদের প্রতি শক্তিশালী জনসমর্থন উজাড় করে দিয়েছে। এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।” দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। 

উভয় নেতার মধ্যকার বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, হালাল শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণ এবং ডিটেনশন সেন্টারে বা আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশই একমত হয়েছে যে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো যায়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়া এবং ‘আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব’ (RCEP)-এ যোগদানে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ের শেষভাগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় দলিল ও সমঝোতা স্মারকগুলোকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, এই ঐতিহাসিক আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন ও সমৃদ্ধশালী অধ্যায়ের সূচনা করবে।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আনোয়ার ইব্রাহিম

মালয়েশিয়াকে শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


মালয়েশিয়াকে শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ায় আরও বেশি সংখ্যায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

যৌথ ব্রিফিংয়ের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাওয়া অভিনন্দন ও সফরের আমন্ত্রণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই আমার প্রথম বিদেশ সফর। আমার স্ত্রী এবং আমি মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি।”

সফরে নিজের পারিবারিক ও ঐতিহাসিক স্মৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের শ্রমশক্তি সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করে। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে আমার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছিল।”

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ আমাদের প্রতি শক্তিশালী জনসমর্থন উজাড় করে দিয়েছে। এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।” দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। 

উভয় নেতার মধ্যকার বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, হালাল শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণ এবং ডিটেনশন সেন্টারে বা আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশই একমত হয়েছে যে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো যায়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়া এবং ‘আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব’ (RCEP)-এ যোগদানে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ের শেষভাগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় দলিল ও সমঝোতা স্মারকগুলোকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, এই ঐতিহাসিক আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন ও সমৃদ্ধশালী অধ্যায়ের সূচনা করবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত