জাতীয়
কুয়ালালামপুর: বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে দারুণ সমাদর পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখী দীর্ঘ সড়কটির দুই পাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় কুয়ালালামপুরের ঐতিহ্যবাহী শাংগ্রি লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ঠিক সকাল নয়টায় তিনি পুত্রজায়ায় পৌঁছালে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।
আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান নিজ নিজ সফরসঙ্গী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ভবনের প্রবেশপথে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
আনুষ্ঠানিকতার পর সকাল সাড়ে ৯টায় পেরদানা পুত্রা ভবনের পঞ্চম তলায় দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে বসেন। দুই নেতার একান্ত আলোচনার পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিবের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি পাঠানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো, জ্বালানি ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জনযোগাযোগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আলোচনার বিভিন্ন দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ও সফরসঙ্গীরা। এই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনে মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা শিল্পীরা মালয় ও বাংলা—উভয় ভাষার গানসহ একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে গত রবিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে নয়টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দরেও তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছিল।
2.png)
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
কুয়ালালামপুর: বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে দারুণ সমাদর পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখী দীর্ঘ সড়কটির দুই পাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় কুয়ালালামপুরের ঐতিহ্যবাহী শাংগ্রি লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ঠিক সকাল নয়টায় তিনি পুত্রজায়ায় পৌঁছালে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।
আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান নিজ নিজ সফরসঙ্গী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ভবনের প্রবেশপথে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
আনুষ্ঠানিকতার পর সকাল সাড়ে ৯টায় পেরদানা পুত্রা ভবনের পঞ্চম তলায় দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে বসেন। দুই নেতার একান্ত আলোচনার পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিবের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি পাঠানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো, জ্বালানি ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জনযোগাযোগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আলোচনার বিভিন্ন দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ও সফরসঙ্গীরা। এই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনে মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা শিল্পীরা মালয় ও বাংলা—উভয় ভাষার গানসহ একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে গত রবিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে নয়টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দরেও তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছিল।
2.png)