সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 খেলাখেলা

শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আক্ষেপ, এক উইকেটে হারল বাংলাদেশ

শরীফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল টাইগাররা। তবে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে পরাজয় সঙ্গী হলো স্বাগতিকদের।

শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আক্ষেপ, এক উইকেটে হারল বাংলাদেশ
ছবি -সংগৃহীত

একবার ভাবুন তো, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার মাত্র ৯ রান, হাতে আছে ৪ উইকেট—ম্যাচটি যে তাদের পকেটে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে তখন অনেক দর্শক বাড়ির পথ ধরতে শুরু করেছেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই শরীফুল ইসলামের জাদুকরী স্পেল যেন পুরো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে থমকে দিল। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে শরীফুল যখন ফিরলেন, গ্যালারিতে তখন নতুন করে জয়ের আশা।

শেষ ৩০ বলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ৯ রান খুব বড় কোনো লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু শরীফুলের ওই মুহূর্তের অবিশ্বাস্য বোলিং পুরো স্টেডিয়ামে একটা ‘বিশ্বাস’ ছড়িয়ে দিয়েছিল। মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ মিস হওয়ার পরেও যখন শরীফুল উইকেট মেডেন নিলেন, তখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ সত্যিই পারবে। তানজিদ হাসানের ক্যাচ মিস এবং মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে একসময় জয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু তাসকিনের বলে অ্যাডাম জাম্পার সেই বাউন্ডারিটি বাংলাদেশের হৃদয়ে বড় এক আক্ষেপের দাগ রেখে গেল। এক উইকেটের হার, তবু লড়াইটা ছিল দেখার মতো।

২৭৫ রান তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা ছিল বাংলাদেশের। যদিও পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট পেতে বেশ কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। এরপরই শরীফুলের বিধ্বংসী রূপ। একপ্রান্ত আগলে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে নিয়েছেন কুপার কনোলি। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করা এই ওপেনার ১৪৯ রান করে যখন ফিরলেন, ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় শেষ। তাসকিনকে টানা তিন ছক্কা মেরে কনোলি যখন অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিচ্ছিলেন, তখনই শরীফুলের ৫ উইকেট ম্যাচটিকে নাটকীয়তার চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিল।

অথচ এই ম্যাচের শুরুটা ছিল বেশ নড়বড়ে। প্রথম বলেই সৌম্য সরকার আউট হওয়ার পর দলের রান যখন ৬১, তখন বাংলাদেশ হারিয়ে বসেছে ৩ উইকেট। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস। লিটন অস্বস্তি নিয়ে খেললেও হৃদয়ের ব্যাটে আসে ৮৮ বলে ৮৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। এরপর ৪ বছর পর ওয়ানডেতে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন ৫১ বলে ৫৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান।

লিটন দাসের ১১ বছরে মিরপুরে প্রথম ফিফটি পাওয়ার আনন্দটা হয়তো পরাজয়ের ভারে কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে রানটা আরেকটু বেশি হলে হয়তো আজকের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। দারুণ এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে হারলেও, বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতা এদিন দর্শকদের বেশ মুগ্ধ করেছে।

বিষয় : অস্ট্রেলিয়া হারল বাংলাদেশ

শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আক্ষেপ, এক উইকেটে হারল বাংলাদেশ
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আক্ষেপ, এক উইকেটে হারল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

একবার ভাবুন তো, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার মাত্র ৯ রান, হাতে আছে ৪ উইকেট—ম্যাচটি যে তাদের পকেটে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে তখন অনেক দর্শক বাড়ির পথ ধরতে শুরু করেছেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই শরীফুল ইসলামের জাদুকরী স্পেল যেন পুরো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে থমকে দিল। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে শরীফুল যখন ফিরলেন, গ্যালারিতে তখন নতুন করে জয়ের আশা।

শেষ ৩০ বলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ৯ রান খুব বড় কোনো লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু শরীফুলের ওই মুহূর্তের অবিশ্বাস্য বোলিং পুরো স্টেডিয়ামে একটা ‘বিশ্বাস’ ছড়িয়ে দিয়েছিল। মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ মিস হওয়ার পরেও যখন শরীফুল উইকেট মেডেন নিলেন, তখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ সত্যিই পারবে। তানজিদ হাসানের ক্যাচ মিস এবং মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে একসময় জয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু তাসকিনের বলে অ্যাডাম জাম্পার সেই বাউন্ডারিটি বাংলাদেশের হৃদয়ে বড় এক আক্ষেপের দাগ রেখে গেল। এক উইকেটের হার, তবু লড়াইটা ছিল দেখার মতো।

২৭৫ রান তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা ছিল বাংলাদেশের। যদিও পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট পেতে বেশ কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। এরপরই শরীফুলের বিধ্বংসী রূপ। একপ্রান্ত আগলে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে নিয়েছেন কুপার কনোলি। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করা এই ওপেনার ১৪৯ রান করে যখন ফিরলেন, ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় শেষ। তাসকিনকে টানা তিন ছক্কা মেরে কনোলি যখন অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিচ্ছিলেন, তখনই শরীফুলের ৫ উইকেট ম্যাচটিকে নাটকীয়তার চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিল।

অথচ এই ম্যাচের শুরুটা ছিল বেশ নড়বড়ে। প্রথম বলেই সৌম্য সরকার আউট হওয়ার পর দলের রান যখন ৬১, তখন বাংলাদেশ হারিয়ে বসেছে ৩ উইকেট। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস। লিটন অস্বস্তি নিয়ে খেললেও হৃদয়ের ব্যাটে আসে ৮৮ বলে ৮৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। এরপর ৪ বছর পর ওয়ানডেতে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন ৫১ বলে ৫৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান।

লিটন দাসের ১১ বছরে মিরপুরে প্রথম ফিফটি পাওয়ার আনন্দটা হয়তো পরাজয়ের ভারে কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে রানটা আরেকটু বেশি হলে হয়তো আজকের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। দারুণ এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে হারলেও, বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতা এদিন দর্শকদের বেশ মুগ্ধ করেছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত