জাতীয়
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুবাইয়ে ধরা পড়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জোর তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। রোববার জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরটি প্রথম সামনে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। ইন্টারপোল ও ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইনি নিয়ম মেনে তাকে দেশে আনতে এখন তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার (এক্সট্রাডিশন) আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সরকার সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছিলেন। এরপর চলতি বছরের ৮ মার্চ একই আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর দুদক তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর সম্পদ হিসেবে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার হিসাব দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। মূলত সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এখন বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।
2.png)
রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুবাইয়ে ধরা পড়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জোর তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। রোববার জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরটি প্রথম সামনে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। ইন্টারপোল ও ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইনি নিয়ম মেনে তাকে দেশে আনতে এখন তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার (এক্সট্রাডিশন) আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সরকার সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছিলেন। এরপর চলতি বছরের ৮ মার্চ একই আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর দুদক তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর সম্পদ হিসেবে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার হিসাব দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। মূলত সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এখন বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।
2.png)