খেলা
ফুটবল বিশ্বের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখন পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের এক অসমাপ্ত মিশন নিয়ে ব্যস্ত। মাঠের লড়াইয়ে তিনি যেমন অদম্য, মাঠের বাইরে তার ব্যক্তিত্ব নিয়েও কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সতীর্থ আলভারো মোরাতা ‘এল কামিনো দে মারিও’ নামের এক অনুষ্ঠানে রোনালদোকে নিয়ে এমন সব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা শুনলে পর্তুগিজ অধিনায়কের এক ভিন্ন রূপ সামনে আসে।
তরুণ বয়সে রিয়াল মাদ্রিদে অভিষেকের দিনগুলো মোরাতার এখনো স্পষ্ট মনে আছে। সেই সময়গুলোতে রোনালদোর ভূমিকা ঠিক একজন বড় ভাইয়ের মতোই ছিল। মোরাতা বলেন, ‘তরুণ হিসেবে যখন টিমে ঢুকলাম, তখন রোনালদো আমার ছোট ছোট প্রয়োজনের খেয়াল রাখতেন। আমরা একসঙ্গে কেনাকাটা করতে যেতাম। আইপ্যাড, মোবাইল, পারফিউম—কত কী যে তিনি উপহার দিতেন! বিষয়টি ছিল সত্যিই অসাধারণ।’
তবে পেশাদারিত্বের প্রশ্নে রোনালদো যে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতেন না, তাও খোলাসা করেছেন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। ক্যারিয়ারের শুরুতে মোরাতা নিজেও ছিলেন কিছুটা অপরিণত। গ্যালারিতে বন্ধুবান্ধব বা পরিবার থাকলে অনেক সময় তরুণ খেলোয়াড়রা কিছুটা শো-অফ করার চেষ্টা করেন, যা মোরাতার ক্ষেত্রেও ঘটত। রোনালদোর মতো একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় সেই জায়গায় কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতা আশা করতেন। মোরাতা বলেন, ‘তার মানদণ্ড ছিল অবিশ্বাস্য রকমের উঁচুতে। তবে এত কঠোর হওয়ার মাঝেও আমার সাথে তিনি সবসময় দারুণ ও ব্যতিক্রমী আচরণ করেছেন।’
মানুষ রোনালদোকে কেবল ফুটবলার হিসেবেই দেখে, কিন্তু মাঠের বাইরে তার অন্য একটি জগৎ আছে। মোরাতার মতে, রোনালদো অত্যন্ত মার্জিত এবং পড়ুয়া এক মানুষ। তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে তাকে যেভাবে বিচার করা হয়, রাতের খাবারে বসে আড্ডা দিলে যে কেউ অবাক হয়ে যাবেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার জ্ঞান এবং মার্জিত আচরণ আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে।’
রোনালদোর অবিশ্বাস্য ফিটনেস আর শৃঙ্খলার গোপন রহস্য নিয়েও মোরাতা এক দারুণ গল্প শোনান। একবার ভোর পাঁচটার দিকে ম্যাচ বা কোনো ট্যুর থেকে ফেরার সময় সবাই যখন চরম ক্লান্তিতে বিছানায় গা এলিয়ে দিতে চাইছিলেন, তখনো রোনালদোকে দেখা গেছে তার রুটিন মেনে চলতে। ক্লান্ত শরীরে তিনি তখনই সাইক্লিং শুরু করেছেন, সিট-আপ দিয়েছেন, এমনকি বরফ-শীতল পানিতে গোসলও করেছেন!
মোরাতা বলেন, ‘যখন আপনি নিজের চোখে দেখবেন, একটি মানুষ জীবনের প্রতি কতটা সিরিয়াস এবং প্রতিটি মুহূর্তকে কীভাবে উপভোগ করেন—তখন আপনি বলতে বাধ্য হবেন যে, তিনি কেবল আমার সঙ্গে খেলা সেরা খেলোয়াড়ই নন, বরং সর্বকালের সেরাও।’
2.png)
রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখন পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের এক অসমাপ্ত মিশন নিয়ে ব্যস্ত। মাঠের লড়াইয়ে তিনি যেমন অদম্য, মাঠের বাইরে তার ব্যক্তিত্ব নিয়েও কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সতীর্থ আলভারো মোরাতা ‘এল কামিনো দে মারিও’ নামের এক অনুষ্ঠানে রোনালদোকে নিয়ে এমন সব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা শুনলে পর্তুগিজ অধিনায়কের এক ভিন্ন রূপ সামনে আসে।
তরুণ বয়সে রিয়াল মাদ্রিদে অভিষেকের দিনগুলো মোরাতার এখনো স্পষ্ট মনে আছে। সেই সময়গুলোতে রোনালদোর ভূমিকা ঠিক একজন বড় ভাইয়ের মতোই ছিল। মোরাতা বলেন, ‘তরুণ হিসেবে যখন টিমে ঢুকলাম, তখন রোনালদো আমার ছোট ছোট প্রয়োজনের খেয়াল রাখতেন। আমরা একসঙ্গে কেনাকাটা করতে যেতাম। আইপ্যাড, মোবাইল, পারফিউম—কত কী যে তিনি উপহার দিতেন! বিষয়টি ছিল সত্যিই অসাধারণ।’
তবে পেশাদারিত্বের প্রশ্নে রোনালদো যে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতেন না, তাও খোলাসা করেছেন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। ক্যারিয়ারের শুরুতে মোরাতা নিজেও ছিলেন কিছুটা অপরিণত। গ্যালারিতে বন্ধুবান্ধব বা পরিবার থাকলে অনেক সময় তরুণ খেলোয়াড়রা কিছুটা শো-অফ করার চেষ্টা করেন, যা মোরাতার ক্ষেত্রেও ঘটত। রোনালদোর মতো একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় সেই জায়গায় কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতা আশা করতেন। মোরাতা বলেন, ‘তার মানদণ্ড ছিল অবিশ্বাস্য রকমের উঁচুতে। তবে এত কঠোর হওয়ার মাঝেও আমার সাথে তিনি সবসময় দারুণ ও ব্যতিক্রমী আচরণ করেছেন।’
মানুষ রোনালদোকে কেবল ফুটবলার হিসেবেই দেখে, কিন্তু মাঠের বাইরে তার অন্য একটি জগৎ আছে। মোরাতার মতে, রোনালদো অত্যন্ত মার্জিত এবং পড়ুয়া এক মানুষ। তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে তাকে যেভাবে বিচার করা হয়, রাতের খাবারে বসে আড্ডা দিলে যে কেউ অবাক হয়ে যাবেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার জ্ঞান এবং মার্জিত আচরণ আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে।’
রোনালদোর অবিশ্বাস্য ফিটনেস আর শৃঙ্খলার গোপন রহস্য নিয়েও মোরাতা এক দারুণ গল্প শোনান। একবার ভোর পাঁচটার দিকে ম্যাচ বা কোনো ট্যুর থেকে ফেরার সময় সবাই যখন চরম ক্লান্তিতে বিছানায় গা এলিয়ে দিতে চাইছিলেন, তখনো রোনালদোকে দেখা গেছে তার রুটিন মেনে চলতে। ক্লান্ত শরীরে তিনি তখনই সাইক্লিং শুরু করেছেন, সিট-আপ দিয়েছেন, এমনকি বরফ-শীতল পানিতে গোসলও করেছেন!
মোরাতা বলেন, ‘যখন আপনি নিজের চোখে দেখবেন, একটি মানুষ জীবনের প্রতি কতটা সিরিয়াস এবং প্রতিটি মুহূর্তকে কীভাবে উপভোগ করেন—তখন আপনি বলতে বাধ্য হবেন যে, তিনি কেবল আমার সঙ্গে খেলা সেরা খেলোয়াড়ই নন, বরং সর্বকালের সেরাও।’
2.png)