সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

জামায়াতের চোখে বাজেট বাস্তবায়নে তিন বড় বাধা

জ্বালানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে দলটি। বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক’ আখ্যা দিয়ে সংশোধনের দাবি জানাল জামায়াত।

জামায়াতের চোখে বাজেট বাস্তবায়নে তিন বড় বাধা
ছবি -সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের পথে তিনটি বড় বাধা রয়েছে। এগুলো হলো—গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির লাগামহীন খরচ; উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত কয়েক মাসে দফায় দফায় জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এ কারণে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যাবে। তাঁর মতে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা কাগজে-কলমে সম্ভব হলেও বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব।

রাজস্ব আয়ের ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি। সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, রাজস্ব আদায়ের যেসব উৎসের কথা বলা হয়েছে, সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো কোনো রূপরেখা নেই। কর প্রশাসনে সংস্কার বা দুর্নীতি দমনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। বিশেষ করে, ব্যক্তিগত করের সর্বনিম্ন হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাবটি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন।

বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের বড় আকারের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনাকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির আশঙ্কা, সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাবে, যা শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকার আকার বড় হলেও তা দুর্নীতিমুক্ত করার নিশ্চয়তা না থাকায় লুটপাটের শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিগত সময়ের মতো সরকারের সংস্থা ব্যবহার করে কিছু গোষ্ঠী যেন টাকা লুটপাট করতে না পারে, সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, এই বাজেটে তার প্রতিফলন ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সবশেষে দলটির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটটি সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক একটি বাজেট ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

বিষয় : আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বাস্তবায়ন বাধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার

জামায়াতের চোখে বাজেট বাস্তবায়নে তিন বড় বাধা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


জামায়াতের চোখে বাজেট বাস্তবায়নে তিন বড় বাধা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের পথে তিনটি বড় বাধা রয়েছে। এগুলো হলো—গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির লাগামহীন খরচ; উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত কয়েক মাসে দফায় দফায় জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এ কারণে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যাবে। তাঁর মতে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা কাগজে-কলমে সম্ভব হলেও বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব।

রাজস্ব আয়ের ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি। সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, রাজস্ব আদায়ের যেসব উৎসের কথা বলা হয়েছে, সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো কোনো রূপরেখা নেই। কর প্রশাসনে সংস্কার বা দুর্নীতি দমনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। বিশেষ করে, ব্যক্তিগত করের সর্বনিম্ন হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাবটি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন।

বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের বড় আকারের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনাকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির আশঙ্কা, সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাবে, যা শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকার আকার বড় হলেও তা দুর্নীতিমুক্ত করার নিশ্চয়তা না থাকায় লুটপাটের শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিগত সময়ের মতো সরকারের সংস্থা ব্যবহার করে কিছু গোষ্ঠী যেন টাকা লুটপাট করতে না পারে, সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, এই বাজেটে তার প্রতিফলন ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সবশেষে দলটির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটটি সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক একটি বাজেট ঘোষণার দাবি জানানো হয়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত