সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

হামলা থামাতে ইরানকে বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে আমিরাত?

উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আমিরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানের সঙ্গে বড় অঙ্কের লেনদেনের গুঞ্জন; পুরো খবর ভিত্তিহীন বলছে আবুধাবি।

হামলা থামাতে ইরানকে বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে আমিরাত?
ছবি -সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ করতে তেহরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত—এমনটাই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যদিও এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর আবুধাবি জানিয়েছে, ৩ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তরের এই পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাতের ওপর বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অন্তত চারটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং আমিরাতের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধের শর্তে তেহরানকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার সমঝোতা করেছে আবুধাবি। কোনো কোনো সূত্র বলছে, মোট ১০ বিলিয়ন থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লেনদেন হতে পারে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।

এই সমঝোতা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো দাবি করছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। আলোচনার গতি বাড়ে গত সপ্তাহে, যখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা আবুধাবি সফর করেন। এ সময় তারা আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আবুধাবির উপ-শাসক শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের দাবি, ওই সফরের পরপরই এই অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যদিও পুরো বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে, তবে দেশটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতির হাত থেকে অঞ্চলকে বাঁচাতে ওয়াশিংটনের উদ্যোগসহ যেকোনো গঠনমূলক চেষ্টাকে সমর্থন করছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা আমিরাত ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতায় নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে দুবাইয়ের হোটেলগুলো পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছিল এবং অনেক প্রবাসী দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের যে বৈশ্বিক সুনাম, তা এই সংঘাতের কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। ফলে এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আবুধাবির জন্য একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বাণিজ্যিক মর্যাদা রক্ষার কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার ওয়াশিংটনে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরান কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে না। অর্থাৎ পুরো বিষয়টি এখন কেবল আমিরাত ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বৃহত্তর কূটনৈতিক দরকষাকষিও। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিনিময়ে ইরান তাদের আটকে থাকা সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয়। তবে ইরান কিংবা হোয়াইট হাউস—কোনো পক্ষই এই সমঝোতার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি।

বিষয় : ইরান আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতা লেনদেনের গুঞ্জন

হামলা থামাতে ইরানকে বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে আমিরাত?
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


হামলা থামাতে ইরানকে বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে আমিরাত?

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ করতে তেহরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত—এমনটাই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যদিও এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর আবুধাবি জানিয়েছে, ৩ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তরের এই পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাতের ওপর বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অন্তত চারটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং আমিরাতের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধের শর্তে তেহরানকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার সমঝোতা করেছে আবুধাবি। কোনো কোনো সূত্র বলছে, মোট ১০ বিলিয়ন থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লেনদেন হতে পারে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।

এই সমঝোতা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো দাবি করছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। আলোচনার গতি বাড়ে গত সপ্তাহে, যখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা আবুধাবি সফর করেন। এ সময় তারা আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আবুধাবির উপ-শাসক শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের দাবি, ওই সফরের পরপরই এই অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যদিও পুরো বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে, তবে দেশটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতির হাত থেকে অঞ্চলকে বাঁচাতে ওয়াশিংটনের উদ্যোগসহ যেকোনো গঠনমূলক চেষ্টাকে সমর্থন করছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা আমিরাত ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতায় নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে দুবাইয়ের হোটেলগুলো পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছিল এবং অনেক প্রবাসী দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের যে বৈশ্বিক সুনাম, তা এই সংঘাতের কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। ফলে এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আবুধাবির জন্য একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বাণিজ্যিক মর্যাদা রক্ষার কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার ওয়াশিংটনে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরান কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে না। অর্থাৎ পুরো বিষয়টি এখন কেবল আমিরাত ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বৃহত্তর কূটনৈতিক দরকষাকষিও। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিনিময়ে ইরান তাদের আটকে থাকা সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয়। তবে ইরান কিংবা হোয়াইট হাউস—কোনো পক্ষই এই সমঝোতার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত