সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 খেলাখেলা

অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশি নির্যাতন: থানায় মামলা

নগরের লালখান বাজারে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে; নাঈমের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা।

অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশি নির্যাতন: থানায় মামলা
ছবি -সংগৃহীত

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নাঈম অভিযোগ করেছেন, নিজের পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও তাদের সোর্স তাঁকে অমানবিক নির্যাতন করেছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বরত এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে। ঢাকা থেকে খেলা শেষে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমে অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন নাঈম। লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের একটি দল তাঁর অটোরিকশাটি থামায়। নাঈম জানান, গাড়ি থামানোর পরপরই ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেন এবং তাঁকে নামিয়ে গলার ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখালেও নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি নাঈম। তিনি বলেন, ‘খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করতে থাকেন। তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশের সোর্স সোহেল পাইপ দিয়ে পেটান।’ ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ জড়ো হলেও পুলিশ মারধর থামায়নি বলে অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার। এরপর তাঁকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়।

থানায় নেওয়ার পরও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন নাঈম। তিনি বলেন, ‘ওসির রুমে ঘটনার বর্ণনা দিতে গেলে তিনি উল্টো আমাকে চোখ নিচু করে কথা বলতে বলেন। পরে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল ও ইসরাফিল খসরু পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানোর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়।’ নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ক্রিকেটার বলে হয়তো আমার জন্য অনেকে থানায় ছুটে এসেছেন। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের জন্য কেউ এভাবে এগিয়ে আসবে না। আমি এই অমানবিক নির্যাতনের বিচার চাই।’

এদিকে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে ওই অটোরিকশায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের নিয়মকানুন মানা হয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ভুলত্রুটি পাওয়া গেছে বলেই অভিযুক্তদের ক্লোজ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

খুলশী থানার ওসির তথ্যমতে, চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম এই অভিযানে নেমেছিলেন। শনিবার সকালে ক্রিকেটার নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে।

বিষয় : ক্রিকেটার নাঈম থানায় মামলা পুলিশি নির্যাতন

অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশি নির্যাতন: থানায় মামলা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশি নির্যাতন: থানায় মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নাঈম অভিযোগ করেছেন, নিজের পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও তাদের সোর্স তাঁকে অমানবিক নির্যাতন করেছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বরত এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে। ঢাকা থেকে খেলা শেষে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমে অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন নাঈম। লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের একটি দল তাঁর অটোরিকশাটি থামায়। নাঈম জানান, গাড়ি থামানোর পরপরই ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেন এবং তাঁকে নামিয়ে গলার ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখালেও নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি নাঈম। তিনি বলেন, ‘খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করতে থাকেন। তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশের সোর্স সোহেল পাইপ দিয়ে পেটান।’ ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ জড়ো হলেও পুলিশ মারধর থামায়নি বলে অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার। এরপর তাঁকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়।

থানায় নেওয়ার পরও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন নাঈম। তিনি বলেন, ‘ওসির রুমে ঘটনার বর্ণনা দিতে গেলে তিনি উল্টো আমাকে চোখ নিচু করে কথা বলতে বলেন। পরে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল ও ইসরাফিল খসরু পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানোর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়।’ নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ক্রিকেটার বলে হয়তো আমার জন্য অনেকে থানায় ছুটে এসেছেন। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের জন্য কেউ এভাবে এগিয়ে আসবে না। আমি এই অমানবিক নির্যাতনের বিচার চাই।’

এদিকে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে ওই অটোরিকশায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের নিয়মকানুন মানা হয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ভুলত্রুটি পাওয়া গেছে বলেই অভিযুক্তদের ক্লোজ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

খুলশী থানার ওসির তথ্যমতে, চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম এই অভিযানে নেমেছিলেন। শনিবার সকালে ক্রিকেটার নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত