রাজনীতি
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে আজ যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এস আলমের গাড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চড়ে এলাকা পরিদর্শনের সেই পুরোনো বিতর্ক এবং ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়ন সংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমানের উত্থাপিত প্রশ্ন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যাখ্যা নিয়ে অধিবেশন ছিল বেশ সরগরম।
বক্তব্যের শুরুতেই নজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িতে চড়ার বিষয়টি টেনে এনে রীতিমতো তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নুন খেয়ে’ বিতর্কিত ব্যবসায়ীর গাড়িতে চড়েছেন। এ বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নজিবুর রহমানের ‘সেন্স অব হিউমার’ নিয়ে তিনি কৌতুকবোধ করছেন এবং তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, তিনি কোনো ব্যক্তির গাড়ি বা এস আলমের গাড়ি চিনে চড়ে বেড়াননি। সেদিন কক্সবাজারে লাখো মানুষের ভিড়ে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশের সুযোগ ছিল না। সমর্থকরা তাকে একটি গাড়িতে তুলে দিয়েছিল, যা ছিল ১৭-১৮ বছর আগের পুরোনো একটি মডেল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার নিজেরই চারটি গাড়ি ও নিজস্ব ড্রাইভার রয়েছে, তাই এমন কাজ করার কোনো প্রয়োজন তার নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় সংসদে অসন্তোষ প্রকাশ করে ওই মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানান। বিষয়টি অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এ ধরনের পুরোনো ইস্যু বারবার সামনে আনা অনভিপ্রেত।
গাড়ি বিতর্কের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) থেকে জামায়াতে ইসলামীকে ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গতকালের এমন দাবিকে নজিবুর রহমান সম্পূর্ণ ‘অসত্য’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, যার অডিট রিপোর্ট প্রতিবছর জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রকল্পটিতে ব্যয়ের অংক মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। নজিবুর রহমানের দাবি, অডিট রিপোর্ট অনুসারে এ ব্যয় অনেক কম। তিনি সংসদের রেকর্ডে এই ‘অসত্য’ তথ্য থাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
স্পিকার অবশ্য এ বিষয়ে একটি সাংবিধানিক বাধার কথা তুলে ধরেন। তিনি নজিবুর রহমানকে মনে করিয়ে দেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার মূলত চলমান বা তাৎক্ষণিক বিষয়ের ওপর উত্থাপন করতে হয়। আগের দিনের কোনো আলোচনার ওপর এভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার আনা বিধিসম্মত নয়। তবে তিনি নজিবুর রহমানকে এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন। গাড়ি বিতর্ক বা ব্যাংক ফান্ডিংয়ের বিষয়টি সংসদের রেকর্ডে থাকবে কি না, তা বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্পিকার। তবে দিনের শেষে এই তর্ক-বিতর্ক প্রমাণ করল যে, রাজনীতি ও অর্থনীতির নানা ইস্যু নিয়ে সংসদের অন্দরে উত্তাপ এখনো কমেনি।
2.png)
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে আজ যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এস আলমের গাড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চড়ে এলাকা পরিদর্শনের সেই পুরোনো বিতর্ক এবং ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়ন সংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমানের উত্থাপিত প্রশ্ন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যাখ্যা নিয়ে অধিবেশন ছিল বেশ সরগরম।
বক্তব্যের শুরুতেই নজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িতে চড়ার বিষয়টি টেনে এনে রীতিমতো তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নুন খেয়ে’ বিতর্কিত ব্যবসায়ীর গাড়িতে চড়েছেন। এ বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নজিবুর রহমানের ‘সেন্স অব হিউমার’ নিয়ে তিনি কৌতুকবোধ করছেন এবং তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, তিনি কোনো ব্যক্তির গাড়ি বা এস আলমের গাড়ি চিনে চড়ে বেড়াননি। সেদিন কক্সবাজারে লাখো মানুষের ভিড়ে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশের সুযোগ ছিল না। সমর্থকরা তাকে একটি গাড়িতে তুলে দিয়েছিল, যা ছিল ১৭-১৮ বছর আগের পুরোনো একটি মডেল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার নিজেরই চারটি গাড়ি ও নিজস্ব ড্রাইভার রয়েছে, তাই এমন কাজ করার কোনো প্রয়োজন তার নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় সংসদে অসন্তোষ প্রকাশ করে ওই মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানান। বিষয়টি অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এ ধরনের পুরোনো ইস্যু বারবার সামনে আনা অনভিপ্রেত।
গাড়ি বিতর্কের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) থেকে জামায়াতে ইসলামীকে ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গতকালের এমন দাবিকে নজিবুর রহমান সম্পূর্ণ ‘অসত্য’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, যার অডিট রিপোর্ট প্রতিবছর জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রকল্পটিতে ব্যয়ের অংক মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। নজিবুর রহমানের দাবি, অডিট রিপোর্ট অনুসারে এ ব্যয় অনেক কম। তিনি সংসদের রেকর্ডে এই ‘অসত্য’ তথ্য থাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
স্পিকার অবশ্য এ বিষয়ে একটি সাংবিধানিক বাধার কথা তুলে ধরেন। তিনি নজিবুর রহমানকে মনে করিয়ে দেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার মূলত চলমান বা তাৎক্ষণিক বিষয়ের ওপর উত্থাপন করতে হয়। আগের দিনের কোনো আলোচনার ওপর এভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার আনা বিধিসম্মত নয়। তবে তিনি নজিবুর রহমানকে এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন। গাড়ি বিতর্ক বা ব্যাংক ফান্ডিংয়ের বিষয়টি সংসদের রেকর্ডে থাকবে কি না, তা বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্পিকার। তবে দিনের শেষে এই তর্ক-বিতর্ক প্রমাণ করল যে, রাজনীতি ও অর্থনীতির নানা ইস্যু নিয়ে সংসদের অন্দরে উত্তাপ এখনো কমেনি।
2.png)