সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

এমপিদের থোক বরাদ্দ বাতিল করল সরকার

সরাসরি বরাদ্দের বদলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে তৈরি হয়েছে বিশেষ সেল। এখন থেকে উন্নয়ন প্রকল্প যাচাই-বাছাই হবে কেন্দ্রীয়ভাবে, কমবে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি।

এমপিদের থোক বরাদ্দ বাতিল করল সরকার
ছবি -সংগৃহীত

সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য সরাসরি থোক বরাদ্দ দেওয়ার দীর্ঘদিনের বিতর্কিত পদ্ধতিটি অবশেষে বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে এমপিদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য কোনো সরাসরি তহবিল থাকবে না। এর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অধীনে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা এবং এতদিন ধরে চলা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বৃত্ত ভাঙা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে এমপিরা কেবল তাদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন চাহিদা ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। তবে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের মতো কোনো স্বয়ংক্রিয় সুযোগ থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এ লক্ষ্যে ‘সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সেল’ নামে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে গঠিত এই সেলটি এমপিদের জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখবে। কোনো প্রস্তাব সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই কেবল তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা থোক বরাদ্দের ব্যবস্থাটি ছিল সমালোচনার কেন্দ্রে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একজন এমপি বার্ষিক ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পেতেন, যা মূলত এলজিইডি’র মাধ্যমে ব্যয় করা হতো। এই পদ্ধতিটি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। নতুন নিয়মে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমপিদের সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো আইন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এবং প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন সেই বিশেষ সেলকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে এই সেল।

নতুন এই পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, যদি এই সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। টিআইবি প্রধানের মতে, এতদিন সরাসরি তহবিল বরাদ্দের ফলে আইনপ্রণেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জন্য দুর্নীতির যে সুযোগ ছিল, তা এবার সীমিত হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

এই সংস্কার কেবল থোক বরাদ্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরানোর অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর আগে সরকার গঠনের পরপরই এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা এনবিআর এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রস্তাবগুলো যাচাই করে উপযুক্ত প্রকল্পগুলো এখন সরাসরি সেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের প্রত্যাশা, এই কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল গঠনের ফলে উন্নয়ন কাজ হবে আরও গতিশীল, কার্যকর ও সুশৃঙ্খল। মূলত এমপিদের কাজ আইন প্রণয়নে সীমাবদ্ধ রেখে উন্নয়ন প্রকল্পের দেখভাল বা বাস্তবায়নের ভার মন্ত্রণালয়ের হাতে অর্পণ করার এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে একটি বড় সংযোজন।

বিষয় : থোক বরাদ্ধ বাতিল সংসদ সদস্য

এমপিদের থোক বরাদ্দ বাতিল করল সরকার
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


এমপিদের থোক বরাদ্দ বাতিল করল সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য সরাসরি থোক বরাদ্দ দেওয়ার দীর্ঘদিনের বিতর্কিত পদ্ধতিটি অবশেষে বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে এমপিদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য কোনো সরাসরি তহবিল থাকবে না। এর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অধীনে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা এবং এতদিন ধরে চলা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বৃত্ত ভাঙা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে এমপিরা কেবল তাদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন চাহিদা ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। তবে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের মতো কোনো স্বয়ংক্রিয় সুযোগ থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এ লক্ষ্যে ‘সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সেল’ নামে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে গঠিত এই সেলটি এমপিদের জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখবে। কোনো প্রস্তাব সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই কেবল তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা থোক বরাদ্দের ব্যবস্থাটি ছিল সমালোচনার কেন্দ্রে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একজন এমপি বার্ষিক ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পেতেন, যা মূলত এলজিইডি’র মাধ্যমে ব্যয় করা হতো। এই পদ্ধতিটি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। নতুন নিয়মে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমপিদের সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো আইন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এবং প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন সেই বিশেষ সেলকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে এই সেল।

নতুন এই পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, যদি এই সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। টিআইবি প্রধানের মতে, এতদিন সরাসরি তহবিল বরাদ্দের ফলে আইনপ্রণেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জন্য দুর্নীতির যে সুযোগ ছিল, তা এবার সীমিত হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

এই সংস্কার কেবল থোক বরাদ্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরানোর অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর আগে সরকার গঠনের পরপরই এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা এনবিআর এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রস্তাবগুলো যাচাই করে উপযুক্ত প্রকল্পগুলো এখন সরাসরি সেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের প্রত্যাশা, এই কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল গঠনের ফলে উন্নয়ন কাজ হবে আরও গতিশীল, কার্যকর ও সুশৃঙ্খল। মূলত এমপিদের কাজ আইন প্রণয়নে সীমাবদ্ধ রেখে উন্নয়ন প্রকল্পের দেখভাল বা বাস্তবায়নের ভার মন্ত্রণালয়ের হাতে অর্পণ করার এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে একটি বড় সংযোজন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত