রাজনীতি
সংসদের গতানুগতিক পরিবেশ যেন কিছুটা ভিন্ন ছিলো। ইসলামি ব্যাংকের পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় সংসদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন সরকারি বেঞ্চের দিকে। ৭০০ কোটি টাকার ঋণের অর্থের উৎস নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা প্রমাণ করতে পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে ‘মেডেল’ দেওয়ার ঘোষণা দিলেন তিনি।
সংসদে নিজের বক্তব্যে শফিকুর রহমান বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেসব অভিযোগ আনছেন, তা কোনো একটি বিশেষ দলকে উদ্দেশ্য করেই। তিনি যদি সাহস করে জামায়াতে ইসলামীর নামটা বলতেন, তবে তা অনেক বেশি পরিষ্কার হতো। শফিকুর রহমানের ভাষায়, মাঝেমধ্যে নেকাব খোলার যে পরামর্শ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছেন, সেই নেকাব যেন তিনি নিজেই খুলে ফেলেন। শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, কোনো নির্বাচনী তহবিলে যদি দলগতভাবে এক টাকাও আসে, তবে সার্চলাইট দিয়ে খুঁজে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তিনি এর মাধ্যমে নিজেদের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নন।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান দুরবস্থার পেছনের কারিগর হিসেবে এস আলমের কর্মকাণ্ডের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষুরধার মন্তব্য করেন। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেন, ৮২ হাজার কোটি টাকা এই ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে, অথচ ওই কোম্পানি ৮২ শতাংশ শেয়ার কিনেছে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকায়। অনেকটা লোকজ প্রবাদের সুরে তিনি বললেন, “তিনি কইয়ের তেল দিয়ে শুধু কই ভাজেননি, শোল মাছও ভেজেছেন।” সব ব্যাংক থেকে টাকা ডাকাতি করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার। শেয়ার হস্তান্তরের পেছনে বিশেষ এজেন্সির চাপের বিষয়টিও তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
দেশের সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শফিকুর রহমান দেশবাসীকে এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইসলামি ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংক। যদি কোনো কারণে এই ব্যাংক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে দেশের পুরো অর্থনীতিই মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি জানিয়েছেন, যাদের কাছ থেকে জোরজবরদস্তি করে শেয়ার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, অনতিবিলম্বে সসম্মানে তাদের কাছে সেই শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামি ব্যাংক ধ্বংসের যে চিত্র আমরা দেখেছি, বর্তমান পরিস্থিতি তার থেকে খুব একটা ভিন্ন নয় বলেও শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন। এস আলমকে যারা ফিরে আসার পথ তৈরি করে দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন। বিশেষ করে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের অতীত ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যার মাধ্যমে এস আলমের অপকর্মের বৈধতা দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের প্রতি তার আহ্বান—সব নিয়ম-কানুন মেনে বোর্ড পুনর্গঠন করা হোক, তবে সেই দায়িত্ব নিতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। আমানতকারীরা যখন অর্থ ফেরতের ভোগান্তিতে আছেন, তখন আর কোনো ভুল সিদ্ধান্তের অবকাশ নেই বলেই বিরোধীদলীয় নেতার হুশিয়ারি।
2.png)
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
সংসদের গতানুগতিক পরিবেশ যেন কিছুটা ভিন্ন ছিলো। ইসলামি ব্যাংকের পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় সংসদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন সরকারি বেঞ্চের দিকে। ৭০০ কোটি টাকার ঋণের অর্থের উৎস নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা প্রমাণ করতে পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে ‘মেডেল’ দেওয়ার ঘোষণা দিলেন তিনি।
সংসদে নিজের বক্তব্যে শফিকুর রহমান বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেসব অভিযোগ আনছেন, তা কোনো একটি বিশেষ দলকে উদ্দেশ্য করেই। তিনি যদি সাহস করে জামায়াতে ইসলামীর নামটা বলতেন, তবে তা অনেক বেশি পরিষ্কার হতো। শফিকুর রহমানের ভাষায়, মাঝেমধ্যে নেকাব খোলার যে পরামর্শ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছেন, সেই নেকাব যেন তিনি নিজেই খুলে ফেলেন। শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, কোনো নির্বাচনী তহবিলে যদি দলগতভাবে এক টাকাও আসে, তবে সার্চলাইট দিয়ে খুঁজে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তিনি এর মাধ্যমে নিজেদের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নন।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান দুরবস্থার পেছনের কারিগর হিসেবে এস আলমের কর্মকাণ্ডের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষুরধার মন্তব্য করেন। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেন, ৮২ হাজার কোটি টাকা এই ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে, অথচ ওই কোম্পানি ৮২ শতাংশ শেয়ার কিনেছে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকায়। অনেকটা লোকজ প্রবাদের সুরে তিনি বললেন, “তিনি কইয়ের তেল দিয়ে শুধু কই ভাজেননি, শোল মাছও ভেজেছেন।” সব ব্যাংক থেকে টাকা ডাকাতি করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার। শেয়ার হস্তান্তরের পেছনে বিশেষ এজেন্সির চাপের বিষয়টিও তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
দেশের সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শফিকুর রহমান দেশবাসীকে এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইসলামি ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংক। যদি কোনো কারণে এই ব্যাংক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে দেশের পুরো অর্থনীতিই মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি জানিয়েছেন, যাদের কাছ থেকে জোরজবরদস্তি করে শেয়ার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, অনতিবিলম্বে সসম্মানে তাদের কাছে সেই শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামি ব্যাংক ধ্বংসের যে চিত্র আমরা দেখেছি, বর্তমান পরিস্থিতি তার থেকে খুব একটা ভিন্ন নয় বলেও শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন। এস আলমকে যারা ফিরে আসার পথ তৈরি করে দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন। বিশেষ করে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের অতীত ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যার মাধ্যমে এস আলমের অপকর্মের বৈধতা দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের প্রতি তার আহ্বান—সব নিয়ম-কানুন মেনে বোর্ড পুনর্গঠন করা হোক, তবে সেই দায়িত্ব নিতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। আমানতকারীরা যখন অর্থ ফেরতের ভোগান্তিতে আছেন, তখন আর কোনো ভুল সিদ্ধান্তের অবকাশ নেই বলেই বিরোধীদলীয় নেতার হুশিয়ারি।
2.png)