সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বাজার মনিটর বাজার মনিটর

হু হু করে বাড়ছে ডিমের দাম: নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের

ডজনপ্রতি দাম বাড়ল ৪০ টাকা পর্যন্ত; বৃষ্টি ও পরিবহণ খরচকে দুষছেন বিক্রেতারা, বাজারে সবজি ও মাছ-মাংসও চড়া।

হু হু করে বাড়ছে ডিমের দাম: নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানীর কাঁচাবাজারে যেন আগুন লেগেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু ডিমের দামই ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। তবে দীর্ঘমেয়াদী হিসেবে চিত্রটা আরও ভয়াবহ; মাস না পেরোতেই এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিমে সাধারণ ক্রেতাকে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কেবল ডিমেই স্বস্তি নেই তা নয়, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে সাধারণ সবজির দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অলিগলির মুদি দোকানে এই দাম ঠেকেছে ১৪৫ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। অথচ মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও এই ডিমের ডজন ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে।

​বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা আরশাদ হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে বাজারে ডিমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। পাইকারি আড়তগুলোতে সরবরাহ কম ও চাহিদা বেশি হওয়ার অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা পর্যায়ে।

​এদিকে সবজি বাজারে গিয়েও দেখা গেছে অস্বস্তিকর চিত্র। বর্তমানে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলা ভার। বিক্রেতাদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এর ওপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ট্রাক ভাড়া বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, যা সবজির গায়ে বাড়তি দামের সিল মেরে দিয়েছে।

​আমিষের বাজারেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে আটকে আছে ব্রয়লার মুরগি, যা আগে ১৫০ টাকার আশেপাশে ছিল। সোনালি মুরগির কেজি ছুঁয়েছে ৩৫০-৩৬০ টাকা। আর গরুর মাংসের কেজি তো ৮০০-৮৫০ টাকায় গিয়ে থিতু হয়েছে। মাছের বাজারে গেলে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের রুই মাছ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে অন্তত ৩৫০ টাকা। এমনকি পাঙাশ বা তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে।

​ভোজ্য তেলের বাজারেও কাটেনি অস্বস্তি। লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ টাকা। দাম বাড়ার পর বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সাধারণের পকেটে টান পড়ছে ঠিকই।

​আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষ মাছ-মাংস ছেড়ে সবজিতে মন দেবেন, সে উপায়ও নেই। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে পরিবহণ খরচের দোহাই—সব মিলিয়ে বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দৌড় মধ্য ও নিম্নবিত্তের দৈনন্দিন জীবনে এক ধরনের নীরব সংকট তৈরি করেছে।

বিষয় : বাজার দর ডিমের দাম

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


হু হু করে বাড়ছে ডিমের দাম: নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর কাঁচাবাজারে যেন আগুন লেগেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু ডিমের দামই ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। তবে দীর্ঘমেয়াদী হিসেবে চিত্রটা আরও ভয়াবহ; মাস না পেরোতেই এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিমে সাধারণ ক্রেতাকে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কেবল ডিমেই স্বস্তি নেই তা নয়, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে সাধারণ সবজির দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অলিগলির মুদি দোকানে এই দাম ঠেকেছে ১৪৫ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। অথচ মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও এই ডিমের ডজন ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে।

​বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা আরশাদ হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে বাজারে ডিমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। পাইকারি আড়তগুলোতে সরবরাহ কম ও চাহিদা বেশি হওয়ার অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা পর্যায়ে।

​এদিকে সবজি বাজারে গিয়েও দেখা গেছে অস্বস্তিকর চিত্র। বর্তমানে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলা ভার। বিক্রেতাদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এর ওপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ট্রাক ভাড়া বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, যা সবজির গায়ে বাড়তি দামের সিল মেরে দিয়েছে।

​আমিষের বাজারেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে আটকে আছে ব্রয়লার মুরগি, যা আগে ১৫০ টাকার আশেপাশে ছিল। সোনালি মুরগির কেজি ছুঁয়েছে ৩৫০-৩৬০ টাকা। আর গরুর মাংসের কেজি তো ৮০০-৮৫০ টাকায় গিয়ে থিতু হয়েছে। মাছের বাজারে গেলে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের রুই মাছ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে অন্তত ৩৫০ টাকা। এমনকি পাঙাশ বা তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে।

​ভোজ্য তেলের বাজারেও কাটেনি অস্বস্তি। লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ টাকা। দাম বাড়ার পর বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সাধারণের পকেটে টান পড়ছে ঠিকই।

​আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষ মাছ-মাংস ছেড়ে সবজিতে মন দেবেন, সে উপায়ও নেই। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে পরিবহণ খরচের দোহাই—সব মিলিয়ে বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দৌড় মধ্য ও নিম্নবিত্তের দৈনন্দিন জীবনে এক ধরনের নীরব সংকট তৈরি করেছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত