বাংলাদেশ
আমাদের চারপাশের দৃশ্যপটটা দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তবে এই বদলটা মোটেও সুখকর নয়। দেশে এখন মাদকের জোয়ার চলছে, আর সেই স্রোতে সবচেয়ে বেশি তলিয়ে যাচ্ছে আমাদের কিশোর ও তরুণ সমাজ। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাই এই সর্বনাশা নেশার প্রধান শিকার। ইয়াবা আর গাঁজার ঘোরে থাকা এই তরুণরাই পাড়া-মহল্লায় গড়ে তুলছে ভয়ঙ্কর সব ‘কিশোর গ্যাং’। তুচ্ছ কারণে মানুষ কুপিয়ে হত্যা করা কিংবা দেহ থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুরতা এখন এদের কাছে মামুলি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা কিংবা রায়েরবাজারের মতো এলাকাগুলোতে এখন কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব। এদের হাতে হাতে রামদা, চাপাতি আর ধারালো অস্ত্র। শুধু রাজধানী নয়, দেশব্যাপী এই গ্যাং কালচার এখন এক আতঙ্কের নাম। সত্য বলতে, এই কিশোরদের পেছনে রয়েছে একশ্রেণির ‘বড় ভাই’, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ভূমিদস্যু। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এই কোমলমতিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। স্কুলে যে বয়সে বই হাতে থাকার কথা, সেই বয়সে এরা লিপ্ত হচ্ছে ভাড়ায় খুন, চাঁদাবাজি আর দখলবাজিতে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশব্যাপী মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হলেও দৃশ্যমান ফলাফল নিয়ে এখনো প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ধরা পড়লেও অনেক সময় প্রভাবশালী মহলের মদদে এরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসছে এবং দ্বিগুণ উদ্যমে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযান নিয়মিত চলছে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
জেনেভা ক্যাম্পের মতো জায়গাগুলো এখন মাদকের প্রকাশ্য হাটে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনেই পলিথিনে ভরে ইয়াবা-গাঁজা বিক্রি হতে দেখা যায়। অধিদপ্তর বলছে, প্রতিদিন যে পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়, তা দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের তুলনায় মহাসমুদ্রে এক ফোঁটা পানির মতো। সীমান্ত দিয়ে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে শুধু অভিযান দিয়ে এই বিষবৃক্ষ উপড়ানো অসম্ভব।
প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল এক গভীর উদ্বেগের কথা শুনিয়েছেন। তাঁর কাছে আসা মাদকাসক্ত রোগীদের মধ্যে কিশোরদের সংখ্যাই বেশি। তিনি জানাচ্ছেন, নিয়মিত ইয়াবা সেবনের ফলে এই তরুণদের আবেগ বলতে কিছু থাকছে না; তারা চরম রূঢ ও নৃশংস হয়ে উঠছে। সবশেষে এটাই বলতে হয়—মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অভিভাবকদের সচেতনতা ছাড়া এই অন্ধকারের সুড়ঙ্গ থেকে আমাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান ছাড়া কি আমরা আসলেও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারব? এই প্রশ্ন এখন সবার।
বিষয় : মাদক কিশোর গ্যাং চাঁদাবাজি

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
আমাদের চারপাশের দৃশ্যপটটা দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তবে এই বদলটা মোটেও সুখকর নয়। দেশে এখন মাদকের জোয়ার চলছে, আর সেই স্রোতে সবচেয়ে বেশি তলিয়ে যাচ্ছে আমাদের কিশোর ও তরুণ সমাজ। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাই এই সর্বনাশা নেশার প্রধান শিকার। ইয়াবা আর গাঁজার ঘোরে থাকা এই তরুণরাই পাড়া-মহল্লায় গড়ে তুলছে ভয়ঙ্কর সব ‘কিশোর গ্যাং’। তুচ্ছ কারণে মানুষ কুপিয়ে হত্যা করা কিংবা দেহ থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুরতা এখন এদের কাছে মামুলি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা কিংবা রায়েরবাজারের মতো এলাকাগুলোতে এখন কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব। এদের হাতে হাতে রামদা, চাপাতি আর ধারালো অস্ত্র। শুধু রাজধানী নয়, দেশব্যাপী এই গ্যাং কালচার এখন এক আতঙ্কের নাম। সত্য বলতে, এই কিশোরদের পেছনে রয়েছে একশ্রেণির ‘বড় ভাই’, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ভূমিদস্যু। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এই কোমলমতিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। স্কুলে যে বয়সে বই হাতে থাকার কথা, সেই বয়সে এরা লিপ্ত হচ্ছে ভাড়ায় খুন, চাঁদাবাজি আর দখলবাজিতে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশব্যাপী মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হলেও দৃশ্যমান ফলাফল নিয়ে এখনো প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ধরা পড়লেও অনেক সময় প্রভাবশালী মহলের মদদে এরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসছে এবং দ্বিগুণ উদ্যমে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযান নিয়মিত চলছে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
জেনেভা ক্যাম্পের মতো জায়গাগুলো এখন মাদকের প্রকাশ্য হাটে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনেই পলিথিনে ভরে ইয়াবা-গাঁজা বিক্রি হতে দেখা যায়। অধিদপ্তর বলছে, প্রতিদিন যে পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়, তা দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের তুলনায় মহাসমুদ্রে এক ফোঁটা পানির মতো। সীমান্ত দিয়ে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে শুধু অভিযান দিয়ে এই বিষবৃক্ষ উপড়ানো অসম্ভব।
প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল এক গভীর উদ্বেগের কথা শুনিয়েছেন। তাঁর কাছে আসা মাদকাসক্ত রোগীদের মধ্যে কিশোরদের সংখ্যাই বেশি। তিনি জানাচ্ছেন, নিয়মিত ইয়াবা সেবনের ফলে এই তরুণদের আবেগ বলতে কিছু থাকছে না; তারা চরম রূঢ ও নৃশংস হয়ে উঠছে। সবশেষে এটাই বলতে হয়—মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অভিভাবকদের সচেতনতা ছাড়া এই অন্ধকারের সুড়ঙ্গ থেকে আমাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান ছাড়া কি আমরা আসলেও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারব? এই প্রশ্ন এখন সবার।
