রাজনীতি
দেশের প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে হয়ে যাওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এবার দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট। আগামী মে মাস থেকে শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় সমাবেশ ও সবশেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে মাঠের রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই নতুন রাজনৈতিক রোডম্যাপ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর দেশজুড়ে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে জুন মাসে চট্টগ্রাম ও খুলনায় এবং জুলাই মাসে ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে বড় ধরনের জমায়েত করবে জোটটি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "আমরা কেবল বিভাগীয় শহর নয়, বরং প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশনের মানুষকে এই দাবির সাথে সম্পৃক্ত করতে চাই।" তিনি আরও জানান, জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করার পাশাপাশি রাজধানীসহ সারা দেশে নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ দেখা যাবে আগামী অক্টোবর মাসে, যখন রাজধানী ঢাকায় বিশাল মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হবে। তবে ১১ দলের সম্মিলিত কর্মসূচির বাইরেও প্রতিটি দল নিজস্ব ব্যানারে সেমিনার, বিক্ষোভ ও সভা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
আন্দোলনের কর্মসূচির বাইরেও বর্তমান সময়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়—শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে এক ধরনের নতুন নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা যে মুক্ত পরিবেশ অর্জন করেছিল, তা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
হামিদুর রহমান আযাদের দাবি, "ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণ করতে এখন ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে প্রতিস্থাপিত করার এক অশুভ পাঁয়তারা চলছে। সরকারের কিছু এজেন্সি ও প্রভাবশালী পক্ষ এই পরিকল্পনার পেছনে কাজ করছে।" এই দখলদারিত্বের রাজনীতি রুখে দিতে শিক্ষার্থীদের সাথেও জোটের পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা করার কথা জানান তিনি। তিনি মনে করেন, সচেতন ছাত্রসমাজ ছাড়া ক্যাম্পাসে দখলদারিত্বের পুরনো সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা। তিনি আরও জানান, সামনের দিনগুলোতে সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সরব ভূমিকার পাশাপাশি রাজপথে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে সফল করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১১-দলীয় জোটের এই দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচির ব্যাপ্তি নির্দেশ করে যে, রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার প্রশ্নে কোনো দীর্ঘসূত্রতা মেনে নিতে রাজি নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। সংবাদ সম্মেলন শেষ করার সময় জোটের পক্ষ থেকে দেশবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
দেশের প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে হয়ে যাওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এবার দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট। আগামী মে মাস থেকে শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় সমাবেশ ও সবশেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে মাঠের রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই নতুন রাজনৈতিক রোডম্যাপ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর দেশজুড়ে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে জুন মাসে চট্টগ্রাম ও খুলনায় এবং জুলাই মাসে ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে বড় ধরনের জমায়েত করবে জোটটি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "আমরা কেবল বিভাগীয় শহর নয়, বরং প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশনের মানুষকে এই দাবির সাথে সম্পৃক্ত করতে চাই।" তিনি আরও জানান, জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করার পাশাপাশি রাজধানীসহ সারা দেশে নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ দেখা যাবে আগামী অক্টোবর মাসে, যখন রাজধানী ঢাকায় বিশাল মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হবে। তবে ১১ দলের সম্মিলিত কর্মসূচির বাইরেও প্রতিটি দল নিজস্ব ব্যানারে সেমিনার, বিক্ষোভ ও সভা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
আন্দোলনের কর্মসূচির বাইরেও বর্তমান সময়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়—শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে এক ধরনের নতুন নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা যে মুক্ত পরিবেশ অর্জন করেছিল, তা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
হামিদুর রহমান আযাদের দাবি, "ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণ করতে এখন ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে প্রতিস্থাপিত করার এক অশুভ পাঁয়তারা চলছে। সরকারের কিছু এজেন্সি ও প্রভাবশালী পক্ষ এই পরিকল্পনার পেছনে কাজ করছে।" এই দখলদারিত্বের রাজনীতি রুখে দিতে শিক্ষার্থীদের সাথেও জোটের পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা করার কথা জানান তিনি। তিনি মনে করেন, সচেতন ছাত্রসমাজ ছাড়া ক্যাম্পাসে দখলদারিত্বের পুরনো সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা। তিনি আরও জানান, সামনের দিনগুলোতে সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সরব ভূমিকার পাশাপাশি রাজপথে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে সফল করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১১-দলীয় জোটের এই দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচির ব্যাপ্তি নির্দেশ করে যে, রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার প্রশ্নে কোনো দীর্ঘসূত্রতা মেনে নিতে রাজি নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। সংবাদ সম্মেলন শেষ করার সময় জোটের পক্ষ থেকে দেশবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।
