১৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ইকুয়েডর-আইভরি কোস্ট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফিলাডেলফিয়া
সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট। এই গ্রুপের ফেভারিট জার্মানি হওয়ায়, নকআউট পর্বের লড়াইয়ে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে আজকের ম্যাচের গুরুত্ব দুই দলের কাছেই অনেক বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে দুই দলই মাঠে নামবে পূর্ণ শক্তি নিয়ে।
দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার পর বিশ্বমঞ্চে ফিরছে আফ্রিকার ‘এলিফ্যান্টস’ বা আইভরি কোস্ট। ২০১৪ সালের পর টানা দুটি আসরে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দেশটি এবার কোচ এমেরসে ফায়ের নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন দেখছে। টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা দলটি এবারের ৪৮ দলের ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় স্থানধারী হয়েও পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তাদের শক্তির জায়গা মূলত উইং আক্রমণ। আমাদ দিয়ালো, নিকোলাস পেপে ও সিমন আদিংরার মতো গতিশীল খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে চাইবে। তবে বড় ধাক্কা হলো দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সেবাস্টিয়ান হালের অনুপস্থিতি এবং ডিফেন্ডার ইভান এনডিকার চোটজনিত অনিশ্চয়তা, যা কোচ ফায়েকে কিছুটা ভাবনায় ফেলেছে।
অন্যদিকে, ইকুয়েডর আছে দুর্দান্ত ছন্দে। সেবাস্টিয়ান বেকাসেসের শিষ্যরা গত দুই বছরে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে। ১৯ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকা ইকুয়েডরের বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ, যেখানে তারা গত ১৯ ম্যাচে ১৩ বারই ক্লিন শিট রেখেছে। তবে আক্রমণভাগে তাদের কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে, প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র একটি গোল করায় ফরোয়ার্ডদের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া দলের অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা এনর ভ্যালেন্সিয়ার ফিটনেস নিয়েও রয়েছে সংশয়। তবে মোইসেস কাইসেদো, পিয়েরো হিনকাপিয়ে এবং তরুণ বিস্ময় কেন্দ্রি পায়েজের মতো তারকারা ইকুয়েডরের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন।
দুই দলের লড়াইয়ে একদিকে ইকুয়েডরের দুর্ভেদ্য রক্ষণ প্রাচীর, অন্যদিকে আইভরি কোস্টের উইংনির্ভর বিধ্বংসী আক্রমণ। এই দুই ঘরানার ফুটবলের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা। গ্রুপ পর্বের হিসাব-নিকাশে এগিয়ে থাকতে এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই হতে পারে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল। প্রথমার্ধের ২০ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের দুর্দান্ত এক থ্রু পাস থেকে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে একা পেয়ে অত্যন্ত নিখুঁত দক্ষতায় গোলটি করেন ইসমাইল সাইবারি। পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল কিছুটা চাপে পড়লেও দ্রুতই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান, যা দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে উভয় দল। ব্রাজিল বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে রাফিনহা যখন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি, তখন ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মরক্কোর নিল এল আইনাউইয়ের একটি নিচু শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। এই সেভটি না হলে ব্রাজিলকে হারের মুখ দেখতে হতে পারত।
পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে দুই দলই ছিল সমানে সমান। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের দখলে ছিল ৫১ শতাংশ বল এবং মরক্কোর দখলে ছিল ৪৯ শতাংশ। মাঠের খেলার মতোই পরিসংখ্যানের দিক থেকে দুই দল ছিল প্রায় অভিন্ন। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মরক্কো কিছুটা এগিয়ে থেকেছে। কম হলুদ কার্ড পাওয়ার কারণে আপাতত পয়েন্ট টেবিলে গোল পার্থক্যের চেয়ে এগিয়ে থেকে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে অবস্থান করছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো। প্রথম ম্যাচেই দুই দলের এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বিশ্বমঞ্চে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ম্যাচ প্রায় শেষ, সুইজারল্যান্ড তখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল। ঘড়িতে তখন অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে। আর ঠিক তখনই ফুটবল বিশ্বের মঞ্চে ঘটল এক নাটকীয় মুহূর্ত। শেষ মুহূর্তে গোল করে সমতায় ফিরে কাতার রূপকথার জন্ম দিল। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে মাঠ ছাড়ল এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার, আর এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের নামের পাশে প্রথম পয়েন্ট যোগ করল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এর আগে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই তাদের ভাগ্যে জুটেছিল হারের তেঁতো স্বাদ।
ম্যাচের শুরু থেকেই কাতারকে চাপে রেখেছিল সুইজারল্যান্ড। প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটের মাথায় সুইসরা কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়। ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করায় ভিএআর চেকের মাধ্যমে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেই পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তাদের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা কাতার প্রথমার্ধে বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে কাতার অল-আউট ফুটবলের চেষ্টা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল ব্যবধান কমানো এবং ম্যাচে ফেরার। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জিদের কড়া রক্ষণভাগের সামনে কাতারের প্রতিটি আক্রমণ যেন বারবার থমকে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল সুইসদের রক্ষণদুর্গ ভেদ করা কাতারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। তবে খেলা যখন শেষের পথে, তখনই ইনজুরি টাইমে সুইজারল্যান্ডের ডি-বক্সের ভেতর এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুইস রক্ষণভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবিশ্বাস্য এক গোল করে বসেন বুয়ালেম খুখি। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই কাতারের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট নিশ্চিত হয়।
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে যে অদ্ভুত এক রূপান্তর ঘটে, তা হয়তো পৃথিবীর আর কোনো দেশে দেখা যায় না। লাল-সবুজের এই দেশের অলিগলি, ছাদ কিংবা গাছের চূড়া—সবই যেন মুহূর্তেই সেজে ওঠে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার পতাকায়। ফুটবল নিয়ে এই দেশের মানুষের আবেগ শুধু মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়, তা মিশে আছে তাদের প্রতিদিনের উচ্ছ্বাসে। আর এবারের বিশ্বকাপে আমাদের এই আবেগই আছড়ে পড়েছে হাজার মাইল দূরে ব্রাজিলের বুকে। বাংলাদেশের মানুষের এই ‘সবুজ-হলুদ’ জ্বর এখন লাতিন আমেরিকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ব্রাজিলিয়ান মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘গি গ্লোবো’ সম্প্রতি এক বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকদের এই পাগলামি। হাজার মাইল দূরের এক দেশের মানুষ কীভাবে সেলেসাওদের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে তুলছে, তা দেখে রীতিমতো বিস্ময় আর মুগ্ধতা প্রকাশ করেছে তারা। তাদের প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বাংলাদেশের অলিগলি, ছাদ আর রাস্তাঘাট ব্রাজিলীয় পতাকায় ছেয়ে যাওয়ার দৃশ্য।
ফুটবল মাঠে আমাদের নিজস্ব সাফল্য হয়তো তেমন বড় কোনো উচ্চতায় নেই, কিন্তু আবেগ? তা কিন্তু আকাশচুম্বী। বিশ্বকাপের উন্মাদনায় আমরা যখন আমাদের প্রিয় দলের রঙে পুরো দেশ মুড়িয়ে ফেলি, তা দেখে ভিনদেশিরা অবাক না হয়ে পারে না। ব্রাজিলের কাছে এই বিষয়টি এতটাই চমকপ্রদ যে, তারা বিশ্বাসই করতে পারছে না হাজার মাইল দূরের এই প্রান্তিক দেশের মানুষ এতটা নিবিড়ভাবে তাদের ভালোবেসে ফেলেছে। নিজের দেশের পতাকার পাশাপাশি ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ (কিংবা আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা) রঙে পুরো দেশকে মুড়িয়ে ফেলার এমন নজির আর কোথাও নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচকে সামনে রেখে এখন সেই আবেগ আরও তীব্র। সেলেসাওদের জয়ের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের হাজারো ভক্তের খবর এখন খোদ ব্রাজিলের সংবাদপত্রের শিরোনাম। ফুটবলের এমন ভালোবাসা যে কোনো ভৌগোলিক সীমানা মানে না, তার জ্বলন্ত প্রমাণ যেন এই বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আজ মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-র নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটিতে শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে তিতের শিষ্যরা।
ব্রাজিল কোচ এবারের দল সাজিয়েছেন অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক দারুণ সমন্বয়ে। আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দলের এই তারকা ফুটবলারকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। রক্ষণভাগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোচ ভরসা রাখছেন অভিজ্ঞ অ্যালিসন বেকারের ওপর।
ম্যাচের কৌশল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে দলটির সম্ভাব্য একাদশ থেকে। রক্ষণভাগে মারকুইনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের জুটির ওপর থাকবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর মূল দায়িত্ব। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে কাসেমিরোর সাথে থাকছেন ব্রুনো গিমারাইস ও লুকাস পাকেতা। অন্যদিকে, আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুসের সাথে রাফিনিয়া ও সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে মাতেউস কুনিয়া প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রাখার পরিকল্পনা করছেন।
মরক্কো যেকোনো বড় দলের জন্যই এখন এক কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে দ্রুত গোল আদায় করে নেওয়াই হবে ব্রাজিলের মূল লক্ষ্য। ভিনিসিয়ুসের গতি আর রাফিনিয়ার পাসিং জাদুতে মরক্কোর রক্ষণদুর্গ ভাঙার ছক কষছে সেলেসাওরা।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ:
গোলরক্ষক: অ্যালিসন বেকার
রক্ষণভাগ: দানিলো, মারকুইনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, অ্যালেক্স সান্দ্রো
মাঝমাঠ: কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারাইস, লুকাস পাকেতা
আক্রমণভাগ: রাফিনিয়া, মাতেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
বিশ্বমঞ্চে প্রথম ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিতে দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় ভোরের সেই লড়াইয়ের, যেখানে ব্রাজিল তার হেক্সা জয়ের যাত্রা কতটা দাপটের সাথে শুরু করে, তা দেখার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্র ৪ঃ১ প্যারাগুয়ে
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম সেদিন সাধারণ কোনো ফুটবল মাঠ ছিল না, বরং পরিণত হয়েছিল তারার মেলায়। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ও টম ক্রুজ থেকে শুরু করে ডেভিড বেকহ্যাম, কারিম আব্দুল জাব্বার এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতো ব্যক্তিত্বরা। তারকাখচিত এই দর্শকের সামনে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলও যেন নিজেদের সেরাটা উজার করে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিল। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের এই দাপুটে জয় শুধু মাঠের লড়াইয়ে সাফল্যই দেয়নি, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের নতুন ইতিহাসও লিখেছে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার সাথে সাথেই পচেত্তিনোর দল যেন প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মাত্র সাত মিনিটের মাথায় ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার বোবাদিয়া নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোলের খাতা খুলে দেন। এরপর পুরো ম্যাচে আলো কেড়ে নেন ফ্লোরিয়ান বালোগান। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন তিনি। বালোগানের আরেকটি গোল অফসাইডের খাঁড়ায় কাটা না পড়লে ব্যবধান আরও বাড়ার সুযোগ ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটিতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তাপ। প্যারাগুয়ের আলমিরনের একটি ফাউলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়, যেখানে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর রেফারি রিমের কার্ড প্রত্যাহার করে নেন এবং উল্টো আলমিরনকেই হলুদ কার্ড দেখান। বদলি হিসেবে নেমে মাউরিসিও একটি গোল করে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাতে যুক্তরাষ্ট্রের জয়রথ থামেনি। ম্যাচের একদম শেষ দিকে জিও রেইনার গোলটি ৪-১ ব্যবধান নিশ্চিত করে। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে চার গোল করার এই অনন্য কৃতিত্ব এর আগে কখনোই দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে বেশ কয়েকবার পা রাখলেও পয়েন্টের খাতাটা খোলা হয়নি কানাডার। ১৯৮৬ কিংবা ২০২২—অতীতের সব আসরই তাদের জন্য ছিল শূন্য হাতে ফেরার গল্প। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়ল স্বাগতিক কানাডা। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশটির প্রথম পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য কানাডার জন্য সুখকর ছিল না। ম্যাচের একদম শুরুতেই কানাডার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় বসনিয়া। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডে লক্ষ্যভেদ করেন বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচ। প্রথমার্ধে সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি স্বাগতিকরা। পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ায় গ্যালারির কানাডান ভক্তদের মনে তখন উদ্বেগের ছাপ।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কানাডা। পুরো ম্যাচজুড়ে মরিয়া লড়াই চালানো দলটি অবশেষে গোলের দেখা পায় ৭৯ মিনিটে। কাইল লারিনের পা থেকে আসা সেই গোলটি স্টেডিয়ামে কানফাটা উল্লাসের জন্ম দেয়। ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর শেষদিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
বসনিয়ার জন্য এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৪ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই ইরানকে হারিয়ে বাজিমাত করেছিল তারা। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরলেও কানাডার অদম্য মানসিকতার কাছে আজ তাদের পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে।
স্বাগতিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মতোই সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছে কানাডা। ড্রয়ের মাধ্যমে এবারের আসরে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল তারা। এখন কানাডার সামনে লক্ষ্য পরবর্তী ম্যাচ। কাতারকে হারাতে পারলে নকআউট পর্বে ওঠার দারুণ সুযোগ থাকবে তাদের সামনে। বিশ্বকাপের এই প্রথম পয়েন্ট তাই কানাডার জন্য শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং বড় অর্জনের পথে এক আত্মবিশ্বাসের নাম।
হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করতে যাওয়া ব্রাজিলের জন্য রোববার সকালটা হয়ে এসেছে একরাশ দুশ্চিন্তার বার্তা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চটা এমনিতেই আবেগের, কিন্তু মাঠে বল গড়ানোর আগেই সেলেসাও শিবিরে নেমে এসেছে বড় ধাক্কা। কাফ মাসলের পুরনো চোট থেকে সেরে উঠতে না পারায় মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল।
গত ১৭ মে ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট পান এই তারকা ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলীয় মেডিকেল টিম শুরুতে তিন সপ্তাহের পুনর্বাসন সময়ের কথা জানালেও, পরিস্থিতি এখন প্রত্যাশার চেয়েও জটিল। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফুটমেরকাতোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় ৩৪ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড এখনো মূল দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। নেইমার এখন নিউ জার্সিতে দলের বাকি সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল জিম আর সাইক্লিংয়ে নিজেকে প্রস্তুত করার কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনায় নেইমার ছিলেন অন্যতম বড় ভরসার জায়গা। নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপকে ঘিরে তিনি নিজেও ছিলেন দারুণ আবেগপ্রবণ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তার এই ইনজুরি এখন পুরো দলের রণকৌশল নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে কোচকে।
যদিও উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারের না থাকাটা এখন নিশ্চিত, তবুও ব্রাজিল ভক্তদের জন্য মেডিকেল টিমের একটি সূত্র কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোয় তাকে মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। এখন দেখার বিষয়, দলের প্রাণভোমরাকে ডাগআউটে রেখে কোচ আনচেলত্তি মরক্কোর বিপক্ষে কী মাস্টারপ্ল্যান সাজান।
ফুটবল মানেই একসময় ছিল সাদা-কালোর ধ্রুপদী লড়াই। মাঠের সবুজ ঘাসে কালো রঙের বুট পরা খেলোয়াড়দের দৌড়ঝাঁপ ছিল সেই আমলের চিরাচরিত দৃশ্য। তবে গত পঁচিশ বছরে ফুটবলের এই নান্দনিকতায় লেগেছে রঙের ছোঁয়া। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই ধারা যেন চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাল। মাঠের প্রতিটি কোণে ফুটবলারদের পায়ে এখন কেবলই গোলাপি রঙের দ্যুতি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনো এত খেলোয়াড়কে একসঙ্গে একই রঙের বুট পরতে দেখা যায়নি। কেন এত রঙের ভিড়ে এবার গোলাপিকেই বেছে নেওয়া হলো?
ফুটবলের দুনিয়ায় বুট বা কিটের ডিজাইন স্রেফ কোনো শখের বিষয় নয়; এটি এখন বিশাল এক বাণিজ্যের অংশ। নাইকি, অ্যাডিডাস কিংবা পুমার মতো বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো এবার যেন অলিখিত এক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাদের লক্ষ্য একটাই—মাঠের সবুজ ঘাসের সঙ্গে এমন কোনো রঙ ব্যবহার করা যা টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা গ্যালারি থেকে দর্শকদের চোখে মুহূর্তেই ধরা দেয়। আর এই ‘ইলেকট্রিক ফুশিয়া’ বা গোলাপি-বেগুনি মিশ্রিত রঙের আভা সবুজের বিপরীতে দারুণ এক বৈপরীত্য (Contrast) তৈরি করে। ফ্লাডলাইটের নিচে কিংবা স্লো-মোশন রিপ্লেতে গোলাপি বুটটি তাই সবার আগে নজর কাড়ে।
গোলাপি রঙের এই আধিপত্য মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। বড় ব্র্যান্ডগুলো কোনো পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রেন্ড কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কাজ করে ডব্লিউজিএসএন (WGSN)-এর মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গোলাপি ও বেগুনি ঘরানার রঙগুলো আধিপত্য বিস্তার করবে। আর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক দুই বছর আগে থেকেই সেই পূর্বাভাস মাথায় রেখে তাদের বুটের নকশা চূড়ান্ত করতে শুরু করে।
আজকের ফুটবল কেবল ৯০ মিনিটের খেলা নয়, এটি ফ্যাশন স্টেটমেন্টও বটে। মাঠে ফুটবলাররা যখন বল নিয়ে কারিকুরি করেন, তখন তাদের পায়ে থাকা এই গোলাপি বুটগুলো ক্যামেরার লেন্সকে বারবার নিজেদের দিকে টেনে নেয়। সব মিলিয়ে, গোলাপি রঙের এই ট্রেন্ড একদিকে যেমন নিখুঁত ব্যবসায়িক কৌশলের ফসল, তেমনি এটি আধুনিক ফুটবলের গ্ল্যামারের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।
গোল হজম করেও দমে যায়নি এশিয়ান জায়ান্টরা; ওহ হিউয়ান-গিউর শেষ মুহূর্তের জাদুতে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
গুয়াদালাহারার মাঠে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু ফুটবলের অদ্ভুত নিয়মে সব সময় সুন্দর ফুটবল গোল উপহার দেয় না। একের পর এক আক্রমণ করেও প্রথমার্ধে জালের দেখা পায়নি কোরিয়ানরা। উল্টো ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে স্রোতের বিপরীতে গোল খেয়ে বসে তারা। চেক প্রজাতন্ত্রের অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচির হেডে যখন স্কোরবোর্ড ১-০ হলো, তখন অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার দিনটি আজ ভালো যাবে না।
কিন্তু এশিয়ান জায়ান্টরা যে সহজে হার মানার পাত্র নয়, তা প্রমাণ করতে সময় নিল মাত্র ৮ মিনিট। ৬৭তম মিনিটে দলকে ম্যাচে ফেরান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বম। সমতায় ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭৮তম মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্রের তমাশ সুচেকের গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় হাফ ছেড়ে বাঁচে কোরিয়া। এরপরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৮০তম মিনিটে হোয়াং ইন-বমের বাড়িয়ে দেওয়া দারুণ এক ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে কোরিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান বেসিকতাস ফরোয়ার্ড ওহ হিউয়ান-গিউ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার এটি অষ্টম জয়। মজার ব্যাপার হলো, এই অষ্টম জয়ের মধ্যে চারবারই তারা প্রথমে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানো যেন তাদের রক্তে মিশে গেছে। গোলরক্ষক কিম সুং-গিউর শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত এক সেভ না থাকলে হয়তো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতো না কোরিয়া।
হারলেও চেক প্রজাতন্ত্রের লড়াই ছিল প্রশংসনীয়। তবে শেষ পর্যন্ত গুয়াদালাহারার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে কোরিয়ানরা। গ্রুপ ‘এ’-এর এই লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানের জয়টি তাদের পরের রাউন্ডের পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল। আগামী ১৮ জুন মেক্সিকোর বিপক্ষে পরবর্তী পরীক্ষায় নামবে দক্ষিণ কোরিয়া। একই দিনে চেক প্রজাতন্ত্র লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল স্বাগতিক মেক্সিকো; রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে দেখা মিলল রেকর্ড তিন লাল কার্ডের।
১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ যাত্রায় মেক্সিকোর জন্য উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল যেন এক অদৃশ্য বাধা, এক দীর্ঘদিনের ‘অভিশাপ’। গত সাতবারের চেষ্টায় একবারও জয় না পাওয়া মেক্সিকানরা এবার আজতেকা স্টেডিয়ামে সেই ইতিহাস বদলে দিল। ঘরের মাঠে ৮৩ হাজার দর্শকের উত্তাল গর্জন আর সমর্থকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল তারা।
ম্যাচ শুরুর ৯ মিনিটের মাথায় জুলিয়ান কিনয়োনেসের গোলে যে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছিল গ্যালারিতে, তা পুরো ম্যাচজুড়েই বজায় ছিল। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও বল আটকাতে পারেননি, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম গোল। এই গোলের পর মেক্সিকোর ফুটবলাররা যেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ৬৬ মিনিটে মাত্র ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সী গিলবার্তো মোরাকে মাঠে নামিয়ে মেক্সিকো নতুন ইতিহাস গড়ে। এর এক মিনিট পরেই রাউল হিমিনেজের দারুণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। আলভারাদোর নিখুঁত পাস থেকে করা এই গোলের পর হিমিনেজের চোখে ছিল আনন্দের জল, আর গ্যালারিতে তখন সবুজের জয়গান।
তবে খেলার মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কার্ডের ছড়াছড়ি। ম্যাচে রেফারি মোট তিনবার লাল কার্ড বের করেছেন, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড। ৫০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার স্ফেফেলো সিথোলে এবং ৮৪ মিনিটে থেম্বা জেওয়ানে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আফ্রিকান দলটি একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়ে। মেক্সিকোর সেন্টার ব্যাক সেজার মন্তেস অবশ্য যোগ করা সময়ে লাল কার্ড দেখে সেই জয়ের আনন্দের সমাপ্তি কিছুটা ম্লান করেছেন। ৯ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই জয় মেক্সিকোর জন্য এক বড় স্বস্তি ও প্রেরণা হয়ে থাকল।
2.png)
রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট। এই গ্রুপের ফেভারিট জার্মানি হওয়ায়, নকআউট পর্বের লড়াইয়ে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে আজকের ম্যাচের গুরুত্ব দুই দলের কাছেই অনেক বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে দুই দলই মাঠে নামবে পূর্ণ শক্তি নিয়ে।
দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার পর বিশ্বমঞ্চে ফিরছে আফ্রিকার ‘এলিফ্যান্টস’ বা আইভরি কোস্ট। ২০১৪ সালের পর টানা দুটি আসরে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দেশটি এবার কোচ এমেরসে ফায়ের নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন দেখছে। টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা দলটি এবারের ৪৮ দলের ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় স্থানধারী হয়েও পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তাদের শক্তির জায়গা মূলত উইং আক্রমণ। আমাদ দিয়ালো, নিকোলাস পেপে ও সিমন আদিংরার মতো গতিশীল খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে চাইবে। তবে বড় ধাক্কা হলো দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সেবাস্টিয়ান হালের অনুপস্থিতি এবং ডিফেন্ডার ইভান এনডিকার চোটজনিত অনিশ্চয়তা, যা কোচ ফায়েকে কিছুটা ভাবনায় ফেলেছে।
অন্যদিকে, ইকুয়েডর আছে দুর্দান্ত ছন্দে। সেবাস্টিয়ান বেকাসেসের শিষ্যরা গত দুই বছরে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে। ১৯ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকা ইকুয়েডরের বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ, যেখানে তারা গত ১৯ ম্যাচে ১৩ বারই ক্লিন শিট রেখেছে। তবে আক্রমণভাগে তাদের কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে, প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র একটি গোল করায় ফরোয়ার্ডদের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া দলের অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা এনর ভ্যালেন্সিয়ার ফিটনেস নিয়েও রয়েছে সংশয়। তবে মোইসেস কাইসেদো, পিয়েরো হিনকাপিয়ে এবং তরুণ বিস্ময় কেন্দ্রি পায়েজের মতো তারকারা ইকুয়েডরের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন।
দুই দলের লড়াইয়ে একদিকে ইকুয়েডরের দুর্ভেদ্য রক্ষণ প্রাচীর, অন্যদিকে আইভরি কোস্টের উইংনির্ভর বিধ্বংসী আক্রমণ। এই দুই ঘরানার ফুটবলের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা। গ্রুপ পর্বের হিসাব-নিকাশে এগিয়ে থাকতে এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই হতে পারে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট।
2.png)