জাতীয়জাতীয়

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু ২৮ এপ্রিল

আগস্টেই জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে প্রথম বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু ২৮ এপ্রিল
ছবি -সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জ্বালানি লোডিংয়ের পথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত এই কার্যক্রম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

উদ্বোধনে থাকছেন না শীর্ষ নেতারা

সময়ের স্বল্পতার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের সূচনা করবেন।

আগস্টেই মিলতে পারে প্রথম বিদ্যুৎ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জ্বালানি লোডিং শেষ হলে উৎপাদনের দিকে এগোবে প্রকল্পটি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জুলাইয়ের শেষ অথবা আগস্টের শুরুতেই প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে।

কমিশনিং লাইসেন্সে খুলেছে পথ

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দেয়। এই লাইসেন্স পাওয়ার পরই জ্বালানি লোডিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সামনে

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিয়্যাক্টরে জ্বালানি লোড করতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন।

তিনি বলেন, জ্বালানি প্রবেশের পর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে এবং চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল।

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদায় বড় অবদান

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় গড়ে উঠেছে কেন্দ্রটি।

এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে। দুই ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এতে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের এই অগ্রগতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : পারমাণবিক বিদ্যুৎ

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু ২৮ এপ্রিল

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জ্বালানি লোডিংয়ের পথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত এই কার্যক্রম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

উদ্বোধনে থাকছেন না শীর্ষ নেতারা

সময়ের স্বল্পতার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের সূচনা করবেন।

আগস্টেই মিলতে পারে প্রথম বিদ্যুৎ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জ্বালানি লোডিং শেষ হলে উৎপাদনের দিকে এগোবে প্রকল্পটি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জুলাইয়ের শেষ অথবা আগস্টের শুরুতেই প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে।

কমিশনিং লাইসেন্সে খুলেছে পথ

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দেয়। এই লাইসেন্স পাওয়ার পরই জ্বালানি লোডিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সামনে

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিয়্যাক্টরে জ্বালানি লোড করতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন।

তিনি বলেন, জ্বালানি প্রবেশের পর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে এবং চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল।

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদায় বড় অবদান

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় গড়ে উঠেছে কেন্দ্রটি।

এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে। দুই ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এতে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের এই অগ্রগতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


কাল মহাকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সম্পাদক আলী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত