কৃষকের জানালাকৃষকের জানালা

ডিজেল সংকটে সেচ বন্ধ, ইরি-বোরো আবাদে দুশ্চিন্তায় কৃষক

এফ আই রাজীব
এফ আই রাজীব
ডিজেল সংকটে সেচ বন্ধ, ইরি-বোরো আবাদে দুশ্চিন্তায় কৃষক
ছবি -সংগৃহীত

উপজেলায় ডিজেলের তীব্র সংকটে ইরি-বোরো ধানের আবাদ এখন বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও কৃষকদের মাঝে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের অভাবে ধানক্ষেত ক্ষতির মুখে। সময়মতো পানি না পেয়ে অনেক জায়গায় ধানগাছ নুইয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও শীষে চিটা ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সেচনির্ভর এসব জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া জরুরি। কিন্তু ডিজেল না থাকায় বেশিরভাগ সেচযন্ত্রই বন্ধ পড়ে আছে। কেউ কেউ সীমিত আকারে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রেখেছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম বেশি। এতে খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ফলনের নিশ্চয়তা নেই।

নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী বলেন, “ধান ভালো হয়েছে। কিন্তু পানি দিতে পারছি না। ডিজেল না থাকলে সব পরিশ্রমই বৃথা যাবে। সরকারিভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।”

বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, “ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। এখন যদি ফসল নষ্ট হয়, ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে সেচে সমস্যা হচ্ছে এবং এর প্রভাব মাঠে পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিষয় : বাংলাদেশ কৃষি

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


ডিজেল সংকটে সেচ বন্ধ, ইরি-বোরো আবাদে দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


উপজেলায় ডিজেলের তীব্র সংকটে ইরি-বোরো ধানের আবাদ এখন বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও কৃষকদের মাঝে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের অভাবে ধানক্ষেত ক্ষতির মুখে। সময়মতো পানি না পেয়ে অনেক জায়গায় ধানগাছ নুইয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও শীষে চিটা ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সেচনির্ভর এসব জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া জরুরি। কিন্তু ডিজেল না থাকায় বেশিরভাগ সেচযন্ত্রই বন্ধ পড়ে আছে। কেউ কেউ সীমিত আকারে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রেখেছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম বেশি। এতে খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ফলনের নিশ্চয়তা নেই।

নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী বলেন, “ধান ভালো হয়েছে। কিন্তু পানি দিতে পারছি না। ডিজেল না থাকলে সব পরিশ্রমই বৃথা যাবে। সরকারিভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।”

বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, “ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। এখন যদি ফসল নষ্ট হয়, ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে সেচে সমস্যা হচ্ছে এবং এর প্রভাব মাঠে পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


কাল মহাকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সম্পাদক আলী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত