শিক্ষাঙ্গনশিক্ষাঙ্গন

৫৪% মুসলিম শিক্ষার্থী তবুও নেই মুসলিম শিক্ষক নেই লামার হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

বান্দরবানের লামার হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৪ জন মুসলিম। দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর জন্য নেই কোনো মুসলিম শিক্ষক।

মো. আবু সুফিয়ান
মো. আবু সুফিয়ান
৫৪% মুসলিম শিক্ষার্থী তবুও নেই মুসলিম শিক্ষক নেই লামার হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
ছবি- লামার হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৪ জনই মুসলিম। মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৬ শতাংশ মুসলিম হলেও দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো মুসলিম বা ধর্মীয় শিক্ষক। ফলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকসহ বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো মুসলিম শিক্ষক স্থায়ীভাবে কর্মরত নেই। মাঝে মধ্যে প্রেষণে কোনো মুসলিম শিক্ষক এলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইচিং মারমা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ায় তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে একজন শিক্ষক প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় শিক্ষক হিসেবেও তারা বিব্রত। দ্রুত স্থায়ীভাবে একজন ধর্মীয় শিক্ষক দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের নিয়মিত ক্লাস হয় না। নিজেদের পড়াশোনা ও বাড়িতে অভিভাবকদের সহায়তায় বিষয়টি পড়তে হয়। শিক্ষক না থাকায় অনেক বিষয় বুঝতে সমস্যা হয় এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ আহমেদ বলেন, একটি বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ার পরও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, শুধু হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, উপজেলায় এমন আরও কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।

বিষয় : লামা হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কাল মহাকাল

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


৫৪% মুসলিম শিক্ষার্থী তবুও নেই মুসলিম শিক্ষক নেই লামার হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৪ জনই মুসলিম। মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৬ শতাংশ মুসলিম হলেও দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো মুসলিম বা ধর্মীয় শিক্ষক। ফলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকসহ বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো মুসলিম শিক্ষক স্থায়ীভাবে কর্মরত নেই। মাঝে মধ্যে প্রেষণে কোনো মুসলিম শিক্ষক এলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইচিং মারমা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ায় তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে একজন শিক্ষক প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় শিক্ষক হিসেবেও তারা বিব্রত। দ্রুত স্থায়ীভাবে একজন ধর্মীয় শিক্ষক দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের নিয়মিত ক্লাস হয় না। নিজেদের পড়াশোনা ও বাড়িতে অভিভাবকদের সহায়তায় বিষয়টি পড়তে হয়। শিক্ষক না থাকায় অনেক বিষয় বুঝতে সমস্যা হয় এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ আহমেদ বলেন, একটি বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ার পরও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, শুধু হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, উপজেলায় এমন আরও কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  মোঃ ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত