আইন-কানুনআইন-কানুন

শাপলা চত্বর মামলায় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই সাংবাদিকসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ৩০ জন এখনো গ্রেপ্তার হননি।

শাপলা চত্বর মামলায় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখাল ট্রাইব্যুনাল
ছবি -সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নয় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তাঁদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুই সাংবাদিক রয়েছেন।

রোববার মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো এই নয়জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

গ্রেপ্তার দেখানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল।

তাঁরা সবাই অন্য মামলায় আগে থেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। শাপলা চত্বরের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর তাঁদের এবার নতুন করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

যেভাবে হলো গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া

ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো মামলার শুরুতে বিবিধ মামলা বা মিস কেস করা হয়। ওই পর্যায়ে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর সুযোগ থাকে। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে সেটি মূল মামলায় রূপ নেয়। তখন আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে মূল মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শাপলা চত্বরের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর রোববার নয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁদের মূল মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এ মামলার আরও দুই আসামি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকও অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন অথবা সাজা ভোগ করছেন। তবে রোববার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

পরবর্তী শুনানির দিন তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর।

৪১ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হননি ৩০ জন

শাপলা চত্বরের এই মামলায় মোট আসামি ৪১ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

মামলার ৪১ আসামির মধ্যে এখনো ৩০ জন গ্রেপ্তার হননি। তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। অন্য ১০ আসামির ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন এখনো ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েনি।

এই ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তারের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বিষয় : শাপলা হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

কাল মহাকাল

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


শাপলা চত্বর মামলায় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নয় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তাঁদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুই সাংবাদিক রয়েছেন।

রোববার মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো এই নয়জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

গ্রেপ্তার দেখানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল।

তাঁরা সবাই অন্য মামলায় আগে থেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। শাপলা চত্বরের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর তাঁদের এবার নতুন করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

যেভাবে হলো গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া

ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো মামলার শুরুতে বিবিধ মামলা বা মিস কেস করা হয়। ওই পর্যায়ে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর সুযোগ থাকে। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে সেটি মূল মামলায় রূপ নেয়। তখন আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে মূল মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শাপলা চত্বরের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর রোববার নয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁদের মূল মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এ মামলার আরও দুই আসামি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকও অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন অথবা সাজা ভোগ করছেন। তবে রোববার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

পরবর্তী শুনানির দিন তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর।

৪১ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হননি ৩০ জন

শাপলা চত্বরের এই মামলায় মোট আসামি ৪১ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

মামলার ৪১ আসামির মধ্যে এখনো ৩০ জন গ্রেপ্তার হননি। তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। অন্য ১০ আসামির ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন এখনো ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েনি।

এই ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তারের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  মোঃ ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত