রাজনীতি
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় রাজনীতির মাঠে বড় ধরনের চমক নিয়ে এলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ দুলু। দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, এখন থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই আজীবন পথ চলবেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরে আলী আহম্মেদ দুলু দাবি করেন, তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছিল বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের মাধ্যমেই। নানা বাস্তবতায় তিনি মাঝপথে ভিন্ন পথে হাঁটলেও আদর্শগতভাবে বিএনপিকেই তিনি লালন করেছেন। দুলু বলেন, “আমি আমার ঘরে ফিরে এসেছি। আজ থেকে আমি পূর্ণাঙ্গভাবে বিএনপির রাজনীতি করব। জীবনের বাকিটা সময় বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চাই।”
তিনি জানান, বিষয়টি হঠাৎ করে ঘটেনি। গত ২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের মাধ্যমেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এতদিন বিষয়টি জনসমক্ষে আনেননি। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতিক্রমেই বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন।
আওয়ামী লীগ ছাড়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে তিনি স্থানীয় রাজনীতির তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর তিনি নানাভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর কারণে তিনি বারবার অপদস্থ ও হয়রানির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় নির্বাচনকালীন সময়েও তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
এদিকে, দুলুর এই দলবদল ও ঘোষণার পর এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। স্থানীয়দের অনেকেরই ভাষ্য, অতীতে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দলটিতে সক্রিয় হন এবং আওয়ামী লীগের সমর্থনে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়কসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
তবে নিজের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলী আহম্মেদ দুলুর ভাষ্য— তিনি মূলত বিএনপির আদর্শের মানুষ। এতদিনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, বর্তমান ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি সেই অবস্থানের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলেন।
বিষয় : নরসিংদী আওয়ামী লীগ আলী আহমেদ দুলু
2.png)
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় রাজনীতির মাঠে বড় ধরনের চমক নিয়ে এলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ দুলু। দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, এখন থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই আজীবন পথ চলবেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরে আলী আহম্মেদ দুলু দাবি করেন, তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছিল বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের মাধ্যমেই। নানা বাস্তবতায় তিনি মাঝপথে ভিন্ন পথে হাঁটলেও আদর্শগতভাবে বিএনপিকেই তিনি লালন করেছেন। দুলু বলেন, “আমি আমার ঘরে ফিরে এসেছি। আজ থেকে আমি পূর্ণাঙ্গভাবে বিএনপির রাজনীতি করব। জীবনের বাকিটা সময় বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চাই।”
তিনি জানান, বিষয়টি হঠাৎ করে ঘটেনি। গত ২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের মাধ্যমেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এতদিন বিষয়টি জনসমক্ষে আনেননি। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতিক্রমেই বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন।
আওয়ামী লীগ ছাড়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে তিনি স্থানীয় রাজনীতির তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর তিনি নানাভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর কারণে তিনি বারবার অপদস্থ ও হয়রানির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় নির্বাচনকালীন সময়েও তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
এদিকে, দুলুর এই দলবদল ও ঘোষণার পর এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। স্থানীয়দের অনেকেরই ভাষ্য, অতীতে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দলটিতে সক্রিয় হন এবং আওয়ামী লীগের সমর্থনে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়কসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
তবে নিজের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলী আহম্মেদ দুলুর ভাষ্য— তিনি মূলত বিএনপির আদর্শের মানুষ। এতদিনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, বর্তমান ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি সেই অবস্থানের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলেন।
2.png)