সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ১৩ হাজার কোটি টাকার জরুরি ঋণ

ধান উৎপাদন সচল রাখতে ৬ লাখ টন সার আমদানি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দেবে সংস্থাটি; ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় হবে ৭১ কোটি ডলার।

খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ১৩ হাজার কোটি টাকার জরুরি ঋণ
ছবি -সংগৃহীত

বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সামাল দিতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। মূলত কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতেই এই বিশাল অংকের অর্থায়ন করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন সদর দপ্তরে দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই ঋণ অনুমোদন করা হয় বলে সংস্থার ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে এই সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই জরুরি তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং জরুরি নাগরিক সেবাগুলো সচল রাখতে এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখবে।”

অনুমোদিত তহবিলের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায়। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা)। এই অর্থ দিয়ে চলতি বছরের (২০২৬) জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং পরবর্তী বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ লাখ টন জরুরি সার আমদানি করা হবে, যার অর্ধেকই থাকবে ইউরিয়া সার। এর ফলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ধান চাষ ব্যাহত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

এই প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি জানান, বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে আমন ও বোরো ফসল থেকে। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সারের সামান্যতম সংকটও খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক আঘাত হানতে পারে। তাই এই আমদানি অত্যন্ত জরুরি ছিল।

এদিকে, সংকটের তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাকি ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই ছাড় করা হবে। এই তহবিল থেকে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে জ্বালানি আমদানির খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো জানান, চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যবহৃত বা বেঁচে যাওয়া অর্থ পুনর্বিন্যাস (Reallocate) করেই এই বিশাল তহবিলটি দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা পাবে।

বিষয় : বিশ্বব্যাংক ১৩ হাজার কোটি টাকা কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট

খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ১৩ হাজার কোটি টাকার জরুরি ঋণ
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ১৩ হাজার কোটি টাকার জরুরি ঋণ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সামাল দিতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। মূলত কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতেই এই বিশাল অংকের অর্থায়ন করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন সদর দপ্তরে দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই ঋণ অনুমোদন করা হয় বলে সংস্থার ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে এই সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই জরুরি তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং জরুরি নাগরিক সেবাগুলো সচল রাখতে এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখবে।”

অনুমোদিত তহবিলের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায়। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা)। এই অর্থ দিয়ে চলতি বছরের (২০২৬) জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং পরবর্তী বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ লাখ টন জরুরি সার আমদানি করা হবে, যার অর্ধেকই থাকবে ইউরিয়া সার। এর ফলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ধান চাষ ব্যাহত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

এই প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি জানান, বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে আমন ও বোরো ফসল থেকে। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সারের সামান্যতম সংকটও খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক আঘাত হানতে পারে। তাই এই আমদানি অত্যন্ত জরুরি ছিল।

এদিকে, সংকটের তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাকি ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই ছাড় করা হবে। এই তহবিল থেকে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে জ্বালানি আমদানির খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো জানান, চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যবহৃত বা বেঁচে যাওয়া অর্থ পুনর্বিন্যাস (Reallocate) করেই এই বিশাল তহবিলটি দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা পাবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত