বিনোদনবিনোদন

‘স্পাইডার-ম্যান’, ‘অডিসি’তে হলিউডের গ্রীষ্মে নতুন জোয়ার

মহামারির পর দ্বিতীয়বারের মতো গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর পথে; বড় বাজেটের একাধিক ব্লকবাস্টারে ফিরছে দর্শকের আস্থা

 ‘স্পাইডার-ম্যান’, ‘অডিসি’তে হলিউডের গ্রীষ্মে নতুন জোয়ার
ছবি -সংগৃহীত

করোনার ধাক্কায় কয়েক বছর টালমাটাল থাকার পর ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে হলিউডের বক্স অফিস। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন সিনেমা বাজার এবার ৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে। মহামারির পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন নজির তৈরি হতে যাচ্ছে। আর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে একের পর এক বড় বাজেটের ব্লকবাস্টার।

বিশেষ করে ‘Spider-Man: Brand New Day’ এবং ক্রিস্টোফার নোলানের ‘The Odyssey’ বক্স অফিসে যে গতি তৈরি করেছে, তাতে সিনেমা হল ঘিরে দর্শকের আগ্রহ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি ‘Toy Story 5’, ‘The Super Mario Galaxy Movie’, ‘Michael’ ও ‘The Devil Wears Prada 2’-এর মতো ছবিও বাজারকে শক্তিশালী করেছে।

‘Spider-Man: Brand New Day’-এর সাফল্য অবশ্যই আলাদা করে নজর কাড়ছে। মুক্তির মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ছবিটির বৈশ্বিক আয় ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজার থেকেই এসেছে প্রায় ৬৫৫ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার, আর আন্তর্জাতিক বাজারে আয় ছাড়িয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেও ছবিটি উত্তর আমেরিকায় প্রায় ১৪৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।


এই সাফল্যের আরেক বড় অংশীদার ‘The Odyssey’। নোলানের নির্মিত মহাকাব্যিক সিনেমাটি ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। এটি পরিচালকের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমায় পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটির আইম্যাক্স আয়ও রেকর্ড গড়েছে।


তবে এবারের গ্রীষ্ম শুধু দুই সিনেমার ওপর নির্ভরশীল নয়। ‘Toy Story 5’ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে শীর্ষস্থানীয় ছবিগুলোর একটি। এর পাশাপাশি ‘Obsession’, ‘Backrooms’, ‘Star Wars: The Mandalorian and Grogu’ এবং ‘Minions & Monsters’-এর মতো ছবিও উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করেছে।

বক্স অফিস বিশ্লেষকদের কাছে এই পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে উত্তর আমেরিকার মোট বক্স অফিস আয় ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তখন মহামারি-পরবর্তী সময়ে সিনেমা হলের দর্শকসংখ্যা ও ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ২০২৬ সালের শক্তিশালী পারফরম্যান্স সেই আশঙ্কাকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। এর আগে ২০২৩ সালের ‘Barbenheimer’ গ্রীষ্মে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। এবার সেই অঙ্কও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুধু আয় নয়, এই সাফল্য হলিউডের ব্যবসায়িক কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং মহামারির পর দর্শকের অভ্যাস বদলে যাওয়ায় সিনেমা হলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বড় পর্দায় দর্শককে টানতে পারে এমন ফ্র্যাঞ্চাইজি, তারকা ও নির্মাতাকেন্দ্রিক বড় আয়োজন এখনো যে শক্তিশালী ব্যবসায়িক মডেল—২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

বিশেষ করে ‘Spider-Man’ ও ‘The Odyssey’-এর মতো সিনেমা একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করায় হলিউডের বৈশ্বিক বাজারও নতুন গতি পেয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম শুধু একটি ভালো বক্স অফিস মৌসুম নয়, বরং মহামারি-পরবর্তী চলচ্চিত্র ব্যবসার পুনরুদ্ধারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠছে।

বিষয় : The Odyssey Spider-Man: Brand New Day hollywood

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


‘স্পাইডার-ম্যান’, ‘অডিসি’তে হলিউডের গ্রীষ্মে নতুন জোয়ার

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

করোনার ধাক্কায় কয়েক বছর টালমাটাল থাকার পর ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে হলিউডের বক্স অফিস। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন সিনেমা বাজার এবার ৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে। মহামারির পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন নজির তৈরি হতে যাচ্ছে। আর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে একের পর এক বড় বাজেটের ব্লকবাস্টার।

বিশেষ করে ‘Spider-Man: Brand New Day’ এবং ক্রিস্টোফার নোলানের ‘The Odyssey’ বক্স অফিসে যে গতি তৈরি করেছে, তাতে সিনেমা হল ঘিরে দর্শকের আগ্রহ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি ‘Toy Story 5’, ‘The Super Mario Galaxy Movie’, ‘Michael’ ও ‘The Devil Wears Prada 2’-এর মতো ছবিও বাজারকে শক্তিশালী করেছে।

‘Spider-Man: Brand New Day’-এর সাফল্য অবশ্যই আলাদা করে নজর কাড়ছে। মুক্তির মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ছবিটির বৈশ্বিক আয় ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজার থেকেই এসেছে প্রায় ৬৫৫ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার, আর আন্তর্জাতিক বাজারে আয় ছাড়িয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেও ছবিটি উত্তর আমেরিকায় প্রায় ১৪৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।


এই সাফল্যের আরেক বড় অংশীদার ‘The Odyssey’। নোলানের নির্মিত মহাকাব্যিক সিনেমাটি ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। এটি পরিচালকের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমায় পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটির আইম্যাক্স আয়ও রেকর্ড গড়েছে।




তবে এবারের গ্রীষ্ম শুধু দুই সিনেমার ওপর নির্ভরশীল নয়। ‘Toy Story 5’ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে শীর্ষস্থানীয় ছবিগুলোর একটি। এর পাশাপাশি ‘Obsession’, ‘Backrooms’, ‘Star Wars: The Mandalorian and Grogu’ এবং ‘Minions & Monsters’-এর মতো ছবিও উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করেছে।

বক্স অফিস বিশ্লেষকদের কাছে এই পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে উত্তর আমেরিকার মোট বক্স অফিস আয় ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তখন মহামারি-পরবর্তী সময়ে সিনেমা হলের দর্শকসংখ্যা ও ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ২০২৬ সালের শক্তিশালী পারফরম্যান্স সেই আশঙ্কাকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। এর আগে ২০২৩ সালের ‘Barbenheimer’ গ্রীষ্মে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। এবার সেই অঙ্কও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুধু আয় নয়, এই সাফল্য হলিউডের ব্যবসায়িক কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং মহামারির পর দর্শকের অভ্যাস বদলে যাওয়ায় সিনেমা হলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বড় পর্দায় দর্শককে টানতে পারে এমন ফ্র্যাঞ্চাইজি, তারকা ও নির্মাতাকেন্দ্রিক বড় আয়োজন এখনো যে শক্তিশালী ব্যবসায়িক মডেল—২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

বিশেষ করে ‘Spider-Man’ ও ‘The Odyssey’-এর মতো সিনেমা একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করায় হলিউডের বৈশ্বিক বাজারও নতুন গতি পেয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম শুধু একটি ভালো বক্স অফিস মৌসুম নয়, বরং মহামারি-পরবর্তী চলচ্চিত্র ব্যবসার পুনরুদ্ধারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত