রাজনীতিরাজনীতি

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আধিপত্যবাদের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ’ আত্মপ্রকাশ করেছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে ঘোষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দিদারুল আলম
দিদারুল আলম
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ
ছবি -সংগৃহীত

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আধিপত্যবাদের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণ ও রাষ্ট্রকে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ’ নামে নতুন একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছে।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পরিবর্তিত আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি।

স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, গণতান্ত্রিক আত্মশাসন এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী সব শ্রেণি-পেশার নাগরিককে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্ল্যাটফর্মের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, আধিপত্যবাদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণ ও রাষ্ট্রকে সচেতন করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে তোলাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী।

ভারত নিয়ে শহিদুল আলমের বক্তব্য

আলোচনায় মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, ওই আন্দোলন একদিকে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছিল, অন্যদিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও ছিল।

ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশের বিষয়ে দেশটির আধিপত্যবাদী অবস্থান পরিবর্তিত হয়নি—এমনটাই প্রমাণিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয়ভাবে ড্রোন তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং ‘চিকেন নেক’কেন্দ্রিক সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। তবে এসব উদ্যোগের লক্ষ্য অন্য কোনো দেশকে আক্রমণ করা নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন তাজুল ইসলাম।

খাদ্য ও জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, দেশের অধিকাংশ খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলে সার্বভৌমত্ব সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার সম্পদ লুট করতে যে প্রক্রিয়ায় সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করেছিল, বর্তমান সময়ে আধিপত্যবাদের ধরন বদলেছে। তবে লুটপাট ও অর্থনৈতিক বৈষম্য টিকিয়ে রাখার মূল চরিত্র বদলায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির।

সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ এ কে এম ফাহিম মাসরুর, সাবেক কূটনীতিক সাকীব আলী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা খান মুখলেছুর রহমান এবং অ্যাক্টিভিস্ট মিনহাজুল আবেদীন।

বিষয় : আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আধিপত্যবাদের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণ ও রাষ্ট্রকে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ’ নামে নতুন একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছে।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পরিবর্তিত আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি।

স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, গণতান্ত্রিক আত্মশাসন এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী সব শ্রেণি-পেশার নাগরিককে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্ল্যাটফর্মের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, আধিপত্যবাদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণ ও রাষ্ট্রকে সচেতন করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে তোলাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী।

ভারত নিয়ে শহিদুল আলমের বক্তব্য

আলোচনায় মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, ওই আন্দোলন একদিকে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছিল, অন্যদিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও ছিল।

ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশের বিষয়ে দেশটির আধিপত্যবাদী অবস্থান পরিবর্তিত হয়নি—এমনটাই প্রমাণিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয়ভাবে ড্রোন তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং ‘চিকেন নেক’কেন্দ্রিক সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। তবে এসব উদ্যোগের লক্ষ্য অন্য কোনো দেশকে আক্রমণ করা নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন তাজুল ইসলাম।

খাদ্য ও জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, দেশের অধিকাংশ খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলে সার্বভৌমত্ব সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার সম্পদ লুট করতে যে প্রক্রিয়ায় সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করেছিল, বর্তমান সময়ে আধিপত্যবাদের ধরন বদলেছে। তবে লুটপাট ও অর্থনৈতিক বৈষম্য টিকিয়ে রাখার মূল চরিত্র বদলায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির।

সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ এ কে এম ফাহিম মাসরুর, সাবেক কূটনীতিক সাকীব আলী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা খান মুখলেছুর রহমান এবং অ্যাক্টিভিস্ট মিনহাজুল আবেদীন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত