জাতীয়জাতীয়

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার শুনানি চলছে

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি মঙ্গলবারও চলছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরছেন।

সুমিত রায়হান
সুমিত রায়হান
আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার শুনানি চলছে
ছবি -সংগৃহীত

মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে তৃতীয় দিনের মতো আপিল শুনানি চলছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা।

গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি সমাবেশ চলাকালে তাঁকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বিচার চলাকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যু হয়।

এরপর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আসামিদের আপিলের মাধ্যমে হাইকোর্টে যায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় আংশিক পরিবর্তন করেন।

হাইকোর্ট ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। একই সঙ্গে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর ১১ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টে বহাল থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ এবং সোহাগ ওরফে সরু। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম শিপু পরে কাশিমপুর কারাগারে মারা যান।

এ ছাড়া টিপু ও নুরুল আমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া সাত আসামি হলেন মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম এবং মশিউর রহমান ওরফে মনু।

অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পান আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ থেকে খালাস পাওয়া চারজন হলেন মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীর।

হাইকোর্টের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। সেই আপিলের ধারাবাহিকতায় এখন সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি চলছে।

বিষয় : আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার শুনানি চলছে

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে তৃতীয় দিনের মতো আপিল শুনানি চলছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা।

গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি সমাবেশ চলাকালে তাঁকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বিচার চলাকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যু হয়।

এরপর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আসামিদের আপিলের মাধ্যমে হাইকোর্টে যায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় আংশিক পরিবর্তন করেন।

হাইকোর্ট ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। একই সঙ্গে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর ১১ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টে বহাল থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ এবং সোহাগ ওরফে সরু। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম শিপু পরে কাশিমপুর কারাগারে মারা যান।

এ ছাড়া টিপু ও নুরুল আমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া সাত আসামি হলেন মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম এবং মশিউর রহমান ওরফে মনু।

অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পান আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ থেকে খালাস পাওয়া চারজন হলেন মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীর।

হাইকোর্টের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। সেই আপিলের ধারাবাহিকতায় এখন সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি চলছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত