শিক্ষাঙ্গনশিক্ষাঙ্গন

১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এসএসসি পাসের হার,কারণ কি?

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থী, কমেছে জিপিএ-৫; ফলাফলে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেখা গেছে ইংরেজি ও গণিতে।

সুমন শাহরিয়ার
সুমন শাহরিয়ার
১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এসএসসি পাসের হার,কারণ কি?
ছবি -সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের উচ্চ পাসের হারে বড় ছেদ পড়েছে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার নেমে এসেছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশে। ২০০৭ সালের পর, অর্থাৎ ১৯ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার।

সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ১৯ হাজার।

ফলাফল বিশ্লেষণে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতের দুর্বলতা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। কুমিল্লা ছাড়া ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে। কয়েকটি বোর্ডে গণিতের ফলও আশানুরূপ হয়নি। দুটি বিষয়ই বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্যের প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলে।

এর পাশাপাশি মানবিক বিভাগের ফলও সার্বিক পাসের হার কমার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এই বিভাগে পরীক্ষার্থী ছয় লাখের বেশি হলেও বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার তুলনায় তাদের পাসের হার অনেক কম।

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। অর্থাৎ অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৯২৯ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

শুধু শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্যের সংখ্যাই নয়, শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এবার ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৮টি।

ইংরেজি-গণিতে দুর্বলতা

এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ইংরেজি ও গণিতে। ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং গণিতে প্রায় ৭০ শতাংশ। সিলেট বোর্ডে ইংরেজিতে পাস করেছে প্রায় ৬৯ শতাংশ, গণিতে প্রায় ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

পাসের হারে শীর্ষে থাকা ঢাকা বোর্ডেও ইংরেজির ফল আগের বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এবার এ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭৮ শতাংশের কিছু বেশি। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, ইংরেজি ও গণিতে খারাপ ফলের কারণেই মূলত সামগ্রিক পাসের হার কমেছে। বিষয় দুটি বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্যের প্রভাব সরাসরি সার্বিক ফলাফলে পড়েছে।

মানবিকে সবচেয়ে কম পাস

বিভাগভিত্তিক ফলেও স্পষ্ট বৈষম্য দেখা গেছে। মানবিক বিভাগের ফল সবচেয়ে দুর্বল। এ বিভাগের ছাত্রদের পাসের হার প্রায় ৪১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের প্রায় ৫৪ শতাংশ।

অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ শতাংশের বেশি এবং ছাত্রীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও মানবিকের তুলনায় ভালো ফল হয়েছে।

মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ বিভাগের কম পাসের হার পুরো ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ১৯ হাজার

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

জিপিএ-৫ ও সামগ্রিক পাসের হারে এবার এগিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড।

পাসের হার এবং জিপিএ-৫—দুই সূচকেই ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ৬৮ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের প্রায় ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্রী সংখ্যা বেশি। তাদের মধ্যে ৫৮ হাজারের বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছাত্রদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ৪৭ হাজারের বেশি।

১৯ বছরের ফলাফলে সবচেয়ে নিচে

এসএসসির ফলাফলে গত দুই দশকে বেশ বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে প্রায় ৭১ শতাংশে ওঠে। এরপর দীর্ঘ সময় পাসের হার ৮০ শতাংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে ছিল। কোনো কোনো বছর তা ৯০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়।

কিন্তু গত দুই বছর ধরে সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।

গত তিন দশকের ফলাফল পর্যালোচনাতেও ওঠানামার চিত্র দেখা যায়। ১৯৯০ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল প্রায় ৩২ শতাংশ। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বা এমসিকিউ চালুর পর ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে পাসের হার ছিল ৬১ থেকে ৭৩ শতাংশের মধ্যে।

পরবর্তী সময়ে প্রশ্নপদ্ধতিতে পরিবর্তনসহ নানা কারণে পাসের হার আবার কমতে থাকে। ২০০৮ সাল থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু হয়, যা এখনো রয়েছে।

মূল্যায়ন নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা

তবে এবারের ফলাফলকে খারাপ বলতে রাজি নন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এবারের ফল সুন্দর হয়েছে। পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তবতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।’

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেভাবে পড়াশোনা করেছে, মূল্যায়নেও তার প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ফলাফলকে শুধু পাস-ফেলের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পরও ৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হতে না পারা, ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, প্রশ্নের ধরন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, বিদ্যালয়ের শিখনমান, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিখনঘাটতি—সবকিছু একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি।

বিষয় : এসএসসির ফল পাশের হার সর্বনিম্ন

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এসএসসি পাসের হার,কারণ কি?

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের উচ্চ পাসের হারে বড় ছেদ পড়েছে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার নেমে এসেছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশে। ২০০৭ সালের পর, অর্থাৎ ১৯ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার।

সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ১৯ হাজার।

ফলাফল বিশ্লেষণে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতের দুর্বলতা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। কুমিল্লা ছাড়া ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে। কয়েকটি বোর্ডে গণিতের ফলও আশানুরূপ হয়নি। দুটি বিষয়ই বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্যের প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলে।

এর পাশাপাশি মানবিক বিভাগের ফলও সার্বিক পাসের হার কমার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এই বিভাগে পরীক্ষার্থী ছয় লাখের বেশি হলেও বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার তুলনায় তাদের পাসের হার অনেক কম।

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। অর্থাৎ অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৯২৯ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

শুধু শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্যের সংখ্যাই নয়, শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এবার ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৮টি।

ইংরেজি-গণিতে দুর্বলতা

এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ইংরেজি ও গণিতে। ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং গণিতে প্রায় ৭০ শতাংশ। সিলেট বোর্ডে ইংরেজিতে পাস করেছে প্রায় ৬৯ শতাংশ, গণিতে প্রায় ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

পাসের হারে শীর্ষে থাকা ঢাকা বোর্ডেও ইংরেজির ফল আগের বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এবার এ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭৮ শতাংশের কিছু বেশি। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, ইংরেজি ও গণিতে খারাপ ফলের কারণেই মূলত সামগ্রিক পাসের হার কমেছে। বিষয় দুটি বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্যের প্রভাব সরাসরি সার্বিক ফলাফলে পড়েছে।

মানবিকে সবচেয়ে কম পাস

বিভাগভিত্তিক ফলেও স্পষ্ট বৈষম্য দেখা গেছে। মানবিক বিভাগের ফল সবচেয়ে দুর্বল। এ বিভাগের ছাত্রদের পাসের হার প্রায় ৪১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের প্রায় ৫৪ শতাংশ।

অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ শতাংশের বেশি এবং ছাত্রীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও মানবিকের তুলনায় ভালো ফল হয়েছে।

মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ বিভাগের কম পাসের হার পুরো ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ১৯ হাজার

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

জিপিএ-৫ ও সামগ্রিক পাসের হারে এবার এগিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড।

পাসের হার এবং জিপিএ-৫—দুই সূচকেই ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ৬৮ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের প্রায় ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্রী সংখ্যা বেশি। তাদের মধ্যে ৫৮ হাজারের বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছাত্রদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ৪৭ হাজারের বেশি।

১৯ বছরের ফলাফলে সবচেয়ে নিচে

এসএসসির ফলাফলে গত দুই দশকে বেশ বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে প্রায় ৭১ শতাংশে ওঠে। এরপর দীর্ঘ সময় পাসের হার ৮০ শতাংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে ছিল। কোনো কোনো বছর তা ৯০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়।

কিন্তু গত দুই বছর ধরে সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।

গত তিন দশকের ফলাফল পর্যালোচনাতেও ওঠানামার চিত্র দেখা যায়। ১৯৯০ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল প্রায় ৩২ শতাংশ। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বা এমসিকিউ চালুর পর ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে পাসের হার ছিল ৬১ থেকে ৭৩ শতাংশের মধ্যে।

পরবর্তী সময়ে প্রশ্নপদ্ধতিতে পরিবর্তনসহ নানা কারণে পাসের হার আবার কমতে থাকে। ২০০৮ সাল থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু হয়, যা এখনো রয়েছে।

মূল্যায়ন নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা

তবে এবারের ফলাফলকে খারাপ বলতে রাজি নন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এবারের ফল সুন্দর হয়েছে। পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তবতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।’

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেভাবে পড়াশোনা করেছে, মূল্যায়নেও তার প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ফলাফলকে শুধু পাস-ফেলের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পরও ৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হতে না পারা, ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, প্রশ্নের ধরন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, বিদ্যালয়ের শিখনমান, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিখনঘাটতি—সবকিছু একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত