লোকাল ফোকাস
হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন শহর রক্ষা বেড়িবাঁধের জন্য মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। ভোলার মনপুরায় একাধিক ড্রেজার দিয়ে নদীর পাড়ের কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে তা বেড়িবাঁধ প্রকল্পে নেওয়া হচ্ছে। এতে নদীর তীর ও নির্মাণাধীন বাঁধটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গুচ্ছগ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদীতে কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স মারিয়া এন্টারপ্রাইজের ড্রেজারগুলো নদীর তীরের কাছাকাছি অবস্থান করে বালু তুলছিল। পরে বাল্কহেডে করে সেই বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ওই স্থানেই নয়, মেঘনার পূর্ব ও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকেও বালু তোলা হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় নদীর তীর থেকে প্রায় ৩০০ মিটার, কোথাও ৫০০ মিটার, আবার কোথাও প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিএর সাইটে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম এবং স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির নির্দেশে এসব বালু তোলা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এনডিএর সাইটে দায়িত্ব পালনকারী প্রকৌশলী ও ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম বলেন, ড্রেজার দিয়ে এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ড্রেজারের সুকানি সেই নির্দেশনা না মেনে নদীর তীরের কাছ থেকে বালু তুলেছেন।
মারিয়া এন্টারপ্রাইজের একজন সুকানিও দাবি করেন, এনডিএর ম্যানেজার শহীদুল ইসলামের নির্দেশেই তাঁরা বালু তুলছিলেন। তবে ড্রেজারের মালিক মো. আমির বলেন, নদীর কাছ থেকে বালু তোলা তাঁদের ভুল হয়েছে। এখন থেকে এক হাজার মিটার দূর থেকে বালু তোলা হবে।
তীর থেকে এক কিলোমিটার দূরে বালু তোলার নির্দেশ
মেঘনার তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, নদীর তীর থেকে এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। কেউ সেই নির্দেশ অমান্য করলে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীর তীরের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু তোলা হলে স্রোতের গতিপথ ও নদীতীরের স্থিতিশীলতায় প্রভাব পড়তে পারে। এতে শুধু নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ নয়, উপকূলীয় এলাকার বড় অংশও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ, ফিরোজ, মেহেদী, রাকিব ও সজিবের অভিযোগ, আগেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মেঘনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এখন বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
তাঁরা মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা চরফ্যাশন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমদাদুল ইসলাম বলেন, উপকূলের কাছ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয় : মনপুরা বালু উত্তোলন বেড়িবাঁধ
2.png)
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন শহর রক্ষা বেড়িবাঁধের জন্য মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। ভোলার মনপুরায় একাধিক ড্রেজার দিয়ে নদীর পাড়ের কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে তা বেড়িবাঁধ প্রকল্পে নেওয়া হচ্ছে। এতে নদীর তীর ও নির্মাণাধীন বাঁধটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গুচ্ছগ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদীতে কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স মারিয়া এন্টারপ্রাইজের ড্রেজারগুলো নদীর তীরের কাছাকাছি অবস্থান করে বালু তুলছিল। পরে বাল্কহেডে করে সেই বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ওই স্থানেই নয়, মেঘনার পূর্ব ও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকেও বালু তোলা হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় নদীর তীর থেকে প্রায় ৩০০ মিটার, কোথাও ৫০০ মিটার, আবার কোথাও প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিএর সাইটে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম এবং স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির নির্দেশে এসব বালু তোলা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এনডিএর সাইটে দায়িত্ব পালনকারী প্রকৌশলী ও ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম বলেন, ড্রেজার দিয়ে এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ড্রেজারের সুকানি সেই নির্দেশনা না মেনে নদীর তীরের কাছ থেকে বালু তুলেছেন।
মারিয়া এন্টারপ্রাইজের একজন সুকানিও দাবি করেন, এনডিএর ম্যানেজার শহীদুল ইসলামের নির্দেশেই তাঁরা বালু তুলছিলেন। তবে ড্রেজারের মালিক মো. আমির বলেন, নদীর কাছ থেকে বালু তোলা তাঁদের ভুল হয়েছে। এখন থেকে এক হাজার মিটার দূর থেকে বালু তোলা হবে।
তীর থেকে এক কিলোমিটার দূরে বালু তোলার নির্দেশ
মেঘনার তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, নদীর তীর থেকে এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। কেউ সেই নির্দেশ অমান্য করলে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীর তীরের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু তোলা হলে স্রোতের গতিপথ ও নদীতীরের স্থিতিশীলতায় প্রভাব পড়তে পারে। এতে শুধু নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ নয়, উপকূলীয় এলাকার বড় অংশও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ, ফিরোজ, মেহেদী, রাকিব ও সজিবের অভিযোগ, আগেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মেঘনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এখন বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
তাঁরা মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা চরফ্যাশন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমদাদুল ইসলাম বলেন, উপকূলের কাছ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
2.png)