অর্থনীতিঅর্থনীতি

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, ফিরবে আমানতের টাকা

খেলাপি ঋণ ৯৩ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে, আমানত ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারি সহায়তায় ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফারহান আবিদ
ফারহান আবিদ
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, ফিরবে আমানতের টাকা
ছবি -সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারা পাঁচ দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে থাকা চুক্তিও বাতিল করা হবে।

বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পিপলস লিজিং ছাড়া বাকি চার প্রতিষ্ঠানে আজ রোববারই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হওয়ায় সেখানে কিছুটা সময় লাগছে। প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে থাকা মামলাসংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তির পর প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। পিপলস লিজিংয়ের আইনি জটিলতাও দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তাঁরা।

তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ ফেরাতে সরকার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক লিকুইডেশন বা অবসায়ন আইন অনুসরণ করা হবে।

খেলাপি ঋণ প্রায় পুরো অর্থের কাছাকাছি

বন্ধের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক দুরবস্থার চিত্র পাওয়া যায় খেলাপি ঋণের তথ্যে। গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের মোট ঋণের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশই খেলাপি ছিল। ফারইস্ট ফাইন্যান্সে এই হার ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। পিপলস লিজিংয়েও খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৯৫ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে পি কে হালদার–সংশ্লিষ্ট আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রভাবও রয়েছে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

আমানত ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি

বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে আভিভা ফাইন্যান্সে। পিপলস লিজিংয়ে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে।

এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সরকারি সহায়তার ভিত্তিতে প্রথমে এসব আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। বর্তমান নিয়মে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পান। তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার সরকারিভাবে এই সীমা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে একজন আমানতকারী ২ লাখ টাকা পাবেন। এরপর সরকারি তহবিল পাওয়া সাপেক্ষে এক থেকে দুই মাস পরপর ধাপে ধাপে বাকি অর্থ দিয়ে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় এবং সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের বাকি অর্থ আনুপাতিক হারে ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে।

আরও চার প্রতিষ্ঠান নজরদারিতে

শুধু এই পাঁচ প্রতিষ্ঠান নয়, আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলো হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স।

২০২৫ সালের মে মাসে আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া নয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য নির্বাচন করা হয়।

চূড়ান্ত পর্যায়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি চারটিকে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আর্থিক অবস্থার সন্তোষজনক পরিবর্তন না হলে তাদেরও অবসায়ন প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে।

এই চার প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত রয়েছে ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্সে ৬৩৫ কোটি, জিএসপি ফাইন্যান্সে ২৬০ কোটি, বিআইএফসিতে ৫৪০ কোটি এবং প্রিমিয়ার লিজিংয়ে ৯৭৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, নয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিন মাস সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে অতিরিক্ত কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সেগুলো রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় চলে যাবে।

বিষয় : প্রশাসক

কাল মহাকাল

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, ফিরবে আমানতের টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারা পাঁচ দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে থাকা চুক্তিও বাতিল করা হবে।

বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পিপলস লিজিং ছাড়া বাকি চার প্রতিষ্ঠানে আজ রোববারই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হওয়ায় সেখানে কিছুটা সময় লাগছে। প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে থাকা মামলাসংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তির পর প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। পিপলস লিজিংয়ের আইনি জটিলতাও দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তাঁরা।

তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ ফেরাতে সরকার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক লিকুইডেশন বা অবসায়ন আইন অনুসরণ করা হবে।

খেলাপি ঋণ প্রায় পুরো অর্থের কাছাকাছি

বন্ধের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক দুরবস্থার চিত্র পাওয়া যায় খেলাপি ঋণের তথ্যে। গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের মোট ঋণের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশই খেলাপি ছিল। ফারইস্ট ফাইন্যান্সে এই হার ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। পিপলস লিজিংয়েও খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৯৫ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে পি কে হালদার–সংশ্লিষ্ট আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রভাবও রয়েছে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

আমানত ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি

বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে আভিভা ফাইন্যান্সে। পিপলস লিজিংয়ে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে।

এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সরকারি সহায়তার ভিত্তিতে প্রথমে এসব আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। বর্তমান নিয়মে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পান। তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার সরকারিভাবে এই সীমা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে একজন আমানতকারী ২ লাখ টাকা পাবেন। এরপর সরকারি তহবিল পাওয়া সাপেক্ষে এক থেকে দুই মাস পরপর ধাপে ধাপে বাকি অর্থ দিয়ে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় এবং সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের বাকি অর্থ আনুপাতিক হারে ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে।

আরও চার প্রতিষ্ঠান নজরদারিতে

শুধু এই পাঁচ প্রতিষ্ঠান নয়, আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলো হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স।

২০২৫ সালের মে মাসে আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া নয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য নির্বাচন করা হয়।

চূড়ান্ত পর্যায়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি চারটিকে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আর্থিক অবস্থার সন্তোষজনক পরিবর্তন না হলে তাদেরও অবসায়ন প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে।

এই চার প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত রয়েছে ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্সে ৬৩৫ কোটি, জিএসপি ফাইন্যান্সে ২৬০ কোটি, বিআইএফসিতে ৫৪০ কোটি এবং প্রিমিয়ার লিজিংয়ে ৯৭৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, নয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিন মাস সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে অতিরিক্ত কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সেগুলো রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় চলে যাবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত