চিত্র বিচিত্রচিত্র বিচিত্র

বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না ১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

পূর্ণগ্রাসের পথে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেন; প্রায় ২ মিনিটের জন্য অন্ধকারে ডুবে যাবে কিছু অঞ্চল

সুমন শাহরিয়ার
সুমন শাহরিয়ার
বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না ১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
ছবি -সংগৃহীত

মহাকাশপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। আজ, ১২ আগস্ট ২০২৬, উত্তর গোলার্ধের আকাশে ঘটতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম আলোচিত মহাজাগতিক ঘটনা—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। তবে বাংলাদেশের আকাশে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষের জন্য তাই সরাসরি আকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকছে না; বিশ্বের অন্য প্রান্তে বিরল এই দৃশ্য দেখার জন্যই নজর থাকবে বিজ্ঞানপ্রেমীদের।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের ওপর দিয়ে যাবে। এ ছাড়া বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

কেন বাংলাদেশে দেখা যাবে না?

সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে, যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলোকে আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। কিন্তু চাঁদের ছায়া পৃথিবীর খুব ছোট একটি অংশের ওপর পড়ে। ফলে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে একই গ্রহণ দেখা যায় না।

১২ আগস্টের গ্রহণের ক্ষেত্রেও চাঁদের গাঢ় ছায়া বা উম্ব্রা (Umbra) বাংলাদেশের ওপর পড়বে না। ঢাকাসহ বাংলাদেশের কোনো অঞ্চল থেকেই এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে না বলে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবভিত্তিক তথ্যেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি বাংলাদেশের আকাশে ১২ আগস্ট সরাসরি সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে—এমন কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, সেটি বিশ্বাস করার আগে যাচাই করা জরুরি।

কোথায় দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস?

এবারের গ্রহণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো পূর্ণগ্রাসের সরু পথ। নাসার মানচিত্র অনুযায়ী, এই পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।

বিশেষ করে স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে ১৯৯৯ সালের পর এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ—যে কারণে ইউরোপে এর গুরুত্ব আরও বেশি।

আইসল্যান্ডেও গ্রহণটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। সেখানে সূর্য যখন চাঁদের আড়ালে চলে যাবে, কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো অস্বাভাবিকভাবে কমে আসবে। আকাশে দেখা যেতে পারে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা (Corona)।

পূর্ণগ্রাসে কী ঘটে?

আংশিক সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যের কিছু অংশ ঢেকে দেয়। কিন্তু পূর্ণগ্রাসে চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলে।

তখন কয়েকটি অসাধারণ পরিবর্তন দেখা যায়। দিনের আলো হঠাৎ কমে যায়। তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। চারপাশে সন্ধ্যার মতো আবহ তৈরি হয়। উজ্জ্বল নক্ষত্র ও গ্রহের কিছু অংশও দৃশ্যমান হতে পারে।

সবচেয়ে দর্শনীয় মুহূর্ত হলো টোটালিটি (Totality)—যখন সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে যায়। তখন চাঁদের চারপাশে সূর্যের আবহমণ্ডলের বাইরের স্তর করোনা দেখা যায়।

কতক্ষণ থাকবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য?

১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাসের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কতক্ষণ পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে, তা নির্ভর করবে সেই স্থানটি পূর্ণগ্রাসের পথের ঠিক কোথায় অবস্থান করছে তার ওপর।

পুরো গ্রহণের প্রক্রিয়া অবশ্য পূর্ণগ্রাসের কয়েক মিনিটের চেয়ে অনেক দীর্ঘ। চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে আংশিক গ্রহণ, পরে পূর্ণগ্রাস এবং শেষে আবার আংশিক গ্রহণের পর্যায় তৈরি হয়।

ইউরোপজুড়ে কেন এত আগ্রহ?

একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ঘন ঘন দেখা যায় না। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটক—সবাই এমন ঘটনার জন্য অপেক্ষা করেন।

ইউরোপের ক্ষেত্রে এবারের ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। ফলে স্পেন ও আইসল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে তাহলে কী করার আছে?

বাংলাদেশ থেকে এবারের গ্রহণ সরাসরি দেখা না গেলেও মহাজাগতিক ঘটনাটি অনলাইনে অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে। নাসা জানিয়েছে, তারা পূর্ণগ্রাসের পথ থেকে গ্রহণটি সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করছে।

ফলে বাংলাদেশের বিজ্ঞানপ্রেমীরা নিরাপদে ঘরে বসেই টেলিস্কোপ ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর লাইভ সম্প্রচার অনুসরণ করতে পারেন।

খালি চোখে সূর্য দেখা কেন বিপজ্জনক?

সূর্যগ্রহণের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চোখের নিরাপত্তা।

সাধারণ সানগ্লাস পরে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। এমনকি সূর্য আংশিকভাবে ঢেকে গেলেও সরাসরি তাকালে চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

সূর্য পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ISO-সনদপ্রাপ্ত সোলার ভিউয়ার বা নিরাপদ সৌর পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়। টেলিস্কোপ বা দূরবীন দিয়েও বিশেষ সৌর ফিল্টার ছাড়া সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেহেতু ১২ আগস্টের গ্রহণ দৃশ্যমান নয়, তাই স্থানীয়ভাবে সূর্যের দিকে তাকিয়ে গ্রহণ দেখার চেষ্টা করার কোনো কারণ নেই।

আকাশের একই সূর্য, কিন্তু ভিন্ন দৃশ্য

একই পৃথিবীতে বসে একই সূর্যকে দেখলেও ১২ আগস্ট মানুষের অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পেন বা আইসল্যান্ডের কোনো এলাকায় কয়েক মিনিটের জন্য দিন যেন রাতে পরিণত হবে। আর বাংলাদেশে সেই সময় স্বাভাবিকভাবেই সূর্য আকাশে থাকবে।

এটাই সূর্যগ্রহণের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক—ঘটনাটি মহাজাগতিকভাবে একই, কিন্তু পৃথিবীর প্রতিটি জায়গা থেকে তার দৃশ্য এক নয়।

১২ আগস্ট ২০২৬-এর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তাই শুধু একটি আকাশের ঘটনা নয়। এটি পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের নিখুঁত জ্যামিতিক অবস্থানের এক বিরল প্রদর্শন—যা বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার বিষয়, আর সাধারণ মানুষের জন্য মহাবিশ্বকে নতুন করে দেখার এক অসাধারণ সুযোগ।

বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না—কিন্তু পৃথিবীর অন্য প্রান্তে আজ আকাশের মঞ্চে তৈরি হবে কয়েক মিনিটের এক অসাধারণ অন্ধকার।

বিষয় : পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহন

কাল মহাকাল

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না ১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মহাকাশপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। আজ, ১২ আগস্ট ২০২৬, উত্তর গোলার্ধের আকাশে ঘটতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম আলোচিত মহাজাগতিক ঘটনা—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। তবে বাংলাদেশের আকাশে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষের জন্য তাই সরাসরি আকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকছে না; বিশ্বের অন্য প্রান্তে বিরল এই দৃশ্য দেখার জন্যই নজর থাকবে বিজ্ঞানপ্রেমীদের।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের ওপর দিয়ে যাবে। এ ছাড়া বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

কেন বাংলাদেশে দেখা যাবে না?

সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে, যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলোকে আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। কিন্তু চাঁদের ছায়া পৃথিবীর খুব ছোট একটি অংশের ওপর পড়ে। ফলে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে একই গ্রহণ দেখা যায় না।

১২ আগস্টের গ্রহণের ক্ষেত্রেও চাঁদের গাঢ় ছায়া বা উম্ব্রা (Umbra) বাংলাদেশের ওপর পড়বে না। ঢাকাসহ বাংলাদেশের কোনো অঞ্চল থেকেই এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে না বলে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবভিত্তিক তথ্যেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি বাংলাদেশের আকাশে ১২ আগস্ট সরাসরি সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে—এমন কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, সেটি বিশ্বাস করার আগে যাচাই করা জরুরি।

কোথায় দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস?

এবারের গ্রহণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো পূর্ণগ্রাসের সরু পথ। নাসার মানচিত্র অনুযায়ী, এই পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।

বিশেষ করে স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে ১৯৯৯ সালের পর এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ—যে কারণে ইউরোপে এর গুরুত্ব আরও বেশি।

আইসল্যান্ডেও গ্রহণটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। সেখানে সূর্য যখন চাঁদের আড়ালে চলে যাবে, কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো অস্বাভাবিকভাবে কমে আসবে। আকাশে দেখা যেতে পারে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা (Corona)।

পূর্ণগ্রাসে কী ঘটে?

আংশিক সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যের কিছু অংশ ঢেকে দেয়। কিন্তু পূর্ণগ্রাসে চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলে।

তখন কয়েকটি অসাধারণ পরিবর্তন দেখা যায়। দিনের আলো হঠাৎ কমে যায়। তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। চারপাশে সন্ধ্যার মতো আবহ তৈরি হয়। উজ্জ্বল নক্ষত্র ও গ্রহের কিছু অংশও দৃশ্যমান হতে পারে।

সবচেয়ে দর্শনীয় মুহূর্ত হলো টোটালিটি (Totality)—যখন সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে যায়। তখন চাঁদের চারপাশে সূর্যের আবহমণ্ডলের বাইরের স্তর করোনা দেখা যায়।

কতক্ষণ থাকবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য?

১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাসের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কতক্ষণ পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে, তা নির্ভর করবে সেই স্থানটি পূর্ণগ্রাসের পথের ঠিক কোথায় অবস্থান করছে তার ওপর।

পুরো গ্রহণের প্রক্রিয়া অবশ্য পূর্ণগ্রাসের কয়েক মিনিটের চেয়ে অনেক দীর্ঘ। চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে আংশিক গ্রহণ, পরে পূর্ণগ্রাস এবং শেষে আবার আংশিক গ্রহণের পর্যায় তৈরি হয়।

ইউরোপজুড়ে কেন এত আগ্রহ?

একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ঘন ঘন দেখা যায় না। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটক—সবাই এমন ঘটনার জন্য অপেক্ষা করেন।

ইউরোপের ক্ষেত্রে এবারের ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। ফলে স্পেন ও আইসল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে তাহলে কী করার আছে?

বাংলাদেশ থেকে এবারের গ্রহণ সরাসরি দেখা না গেলেও মহাজাগতিক ঘটনাটি অনলাইনে অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে। নাসা জানিয়েছে, তারা পূর্ণগ্রাসের পথ থেকে গ্রহণটি সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করছে।

ফলে বাংলাদেশের বিজ্ঞানপ্রেমীরা নিরাপদে ঘরে বসেই টেলিস্কোপ ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর লাইভ সম্প্রচার অনুসরণ করতে পারেন।

খালি চোখে সূর্য দেখা কেন বিপজ্জনক?

সূর্যগ্রহণের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চোখের নিরাপত্তা।

সাধারণ সানগ্লাস পরে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। এমনকি সূর্য আংশিকভাবে ঢেকে গেলেও সরাসরি তাকালে চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

সূর্য পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ISO-সনদপ্রাপ্ত সোলার ভিউয়ার বা নিরাপদ সৌর পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়। টেলিস্কোপ বা দূরবীন দিয়েও বিশেষ সৌর ফিল্টার ছাড়া সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেহেতু ১২ আগস্টের গ্রহণ দৃশ্যমান নয়, তাই স্থানীয়ভাবে সূর্যের দিকে তাকিয়ে গ্রহণ দেখার চেষ্টা করার কোনো কারণ নেই।

আকাশের একই সূর্য, কিন্তু ভিন্ন দৃশ্য

একই পৃথিবীতে বসে একই সূর্যকে দেখলেও ১২ আগস্ট মানুষের অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পেন বা আইসল্যান্ডের কোনো এলাকায় কয়েক মিনিটের জন্য দিন যেন রাতে পরিণত হবে। আর বাংলাদেশে সেই সময় স্বাভাবিকভাবেই সূর্য আকাশে থাকবে।

এটাই সূর্যগ্রহণের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক—ঘটনাটি মহাজাগতিকভাবে একই, কিন্তু পৃথিবীর প্রতিটি জায়গা থেকে তার দৃশ্য এক নয়।

১২ আগস্ট ২০২৬-এর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তাই শুধু একটি আকাশের ঘটনা নয়। এটি পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের নিখুঁত জ্যামিতিক অবস্থানের এক বিরল প্রদর্শন—যা বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার বিষয়, আর সাধারণ মানুষের জন্য মহাবিশ্বকে নতুন করে দেখার এক অসাধারণ সুযোগ।

বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না—কিন্তু পৃথিবীর অন্য প্রান্তে আজ আকাশের মঞ্চে তৈরি হবে কয়েক মিনিটের এক অসাধারণ অন্ধকার।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত