জাতীয়
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যাংক খাতের সংকট ও তারল্য নিয়ে সরব। তবে সম্প্রতি তার নিজের অতীত নিয়ে ওঠা ঋণ খেলাপির অভিযোগ তাকে বেশ চাপের মুখে ফেলেছিল। শুক্রবার প্রথমবারের মতো সেই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি কোনোভাবেই ঋণ খেলাপি ছিলেন না, বরং পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন।
নিজের সম্পৃক্ততা থাকা প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে গভর্নর বলেন, সেটি ছিল একটি ‘সার্টিফাইড গ্রিন ফ্যাক্টরি’। শুরুতে এফএসএসপি প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ পান তারা। কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ব্যাংক জানায়, তাদের সেই তহবিল আর নেই। উল্টো সুদের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯ থেকে ১১ শতাংশে। এ ঘটনায় পুরো হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে যায়। পেমেন্ট প্রজেকশন অনুযায়ী দেওয়া সম্ভব হয়নি। কোভিড ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপে কিস্তি পরিশোধে কিছুটা দেরি হয়েছিল, কিন্তু সেটি খেলাপি হওয়া নয়, বরং ‘ওভারডিউ’ বা সাময়িক বিলম্ব ছিল।
গভর্নর জোর দিয়ে বলেন, ওই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি, এক্সপোর্ট বন্ধ হয়নি এবং কর্মীরা নিয়মিত বেতন পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংক থেকে এক টাকাও মওকুফ চাননি তিনি, বরং শত কোটি টাকার বেশি ব্যাংকে পরিশোধ করেছেন। কিছুটা আক্ষেপের সুরে মোস্তাকুর রহমান বলেন, “একটা মিথ্যা বারবার বলতে বলতে সেটা সত্যের রূপ নেয়। তাই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করাটা জরুরি ছিল।”
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক খাতের অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, পাচার করা টাকা ফেরানো অত্যন্ত জটিল কাজ। বিশ্বে এমন টাকা উদ্ধারের হার মাত্র ২ শতাংশ। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা ফিরিয়ে আনতে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
বিষয় : ঋণ খেলাপি গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান
2.png)
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যাংক খাতের সংকট ও তারল্য নিয়ে সরব। তবে সম্প্রতি তার নিজের অতীত নিয়ে ওঠা ঋণ খেলাপির অভিযোগ তাকে বেশ চাপের মুখে ফেলেছিল। শুক্রবার প্রথমবারের মতো সেই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি কোনোভাবেই ঋণ খেলাপি ছিলেন না, বরং পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন।
নিজের সম্পৃক্ততা থাকা প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে গভর্নর বলেন, সেটি ছিল একটি ‘সার্টিফাইড গ্রিন ফ্যাক্টরি’। শুরুতে এফএসএসপি প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ পান তারা। কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ব্যাংক জানায়, তাদের সেই তহবিল আর নেই। উল্টো সুদের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯ থেকে ১১ শতাংশে। এ ঘটনায় পুরো হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে যায়। পেমেন্ট প্রজেকশন অনুযায়ী দেওয়া সম্ভব হয়নি। কোভিড ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপে কিস্তি পরিশোধে কিছুটা দেরি হয়েছিল, কিন্তু সেটি খেলাপি হওয়া নয়, বরং ‘ওভারডিউ’ বা সাময়িক বিলম্ব ছিল।
গভর্নর জোর দিয়ে বলেন, ওই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি, এক্সপোর্ট বন্ধ হয়নি এবং কর্মীরা নিয়মিত বেতন পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংক থেকে এক টাকাও মওকুফ চাননি তিনি, বরং শত কোটি টাকার বেশি ব্যাংকে পরিশোধ করেছেন। কিছুটা আক্ষেপের সুরে মোস্তাকুর রহমান বলেন, “একটা মিথ্যা বারবার বলতে বলতে সেটা সত্যের রূপ নেয়। তাই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করাটা জরুরি ছিল।”
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক খাতের অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, পাচার করা টাকা ফেরানো অত্যন্ত জটিল কাজ। বিশ্বে এমন টাকা উদ্ধারের হার মাত্র ২ শতাংশ। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা ফিরিয়ে আনতে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
2.png)