মতামত
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যবই বা ভূগোলের মানচিত্র—যেখান থেকেই দেখা হোক না কেন, সার্বভৌমত্বের একটি নির্দিষ্ট সীমানা থাকে। কিন্তু সম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহিদের একটি বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, তিনি বোধহয় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এমন এক নতুন সংজ্ঞায় পৌঁছেছেন, যা সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে নাগরিকদের পুশইন বা ঠেলে পাঠানোর ঘটনাকে তিনি দিব্যি বলে দিলেন ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’। একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন একটি বক্তব্য কীভাবে দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
সহজ কথায় বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক। পুশইন মানে হলো অন্য রাষ্ট্র থেকে জোর করে মানুষ বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া। এখন যে ব্যক্তিটি সীমান্ত পেরিয়ে এপারে আসছেন, তিনি তো আর জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক নন, কিংবা ভোটার তালিকার কোনো নামও নন। তিনি আসছেন অন্য দেশ থেকে, ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অন্য দেশ থেকে। তাহলে এটি কীভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয় হয়?
রাষ্ট্রের সীমান্ত কোনো খোলা ডাস্টবিন নয় যে, প্রতিবেশী চাইলেই সেখানে যা ইচ্ছা পাঠিয়ে দেবে। এটি একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড। ড. জাহিদ সাহেবকে যদি আমরা একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বোঝাই—ধরুন, আপনার ড্রয়িংরুমে কোনো প্রতিবেশী এসে অনধিকার প্রবেশ করে কোনো কিছু রেখে গেল। আপনি কি তাকে বলতে পারবেন এটা আপনার ‘অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা অভিযান’? নিশ্চয়ই না। এটা বরং একটি অনধিকার চর্চা, যা রাষ্ট্রের মানচিত্র ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
তথ্য উপদেষ্টা দেশের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যার কাছ থেকে জনগণ সঠিক তথ্য ও স্পষ্ট অবস্থানের আশা করে। ‘পুশইন’ শব্দটি কেবল একটি শব্দ নয়, এটি হাজারো মানুষের ভাগ্য, দেশের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি জটিল সমীকরণ। এ নিয়ে যখন কোনো সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন অদ্ভুত যুক্তি দেন, তখন সেটি জনগণের কাছে কেবল রসিকতা হিসেবেই ধরা দেয় না, বরং রাষ্ট্রের অসহায়ত্বকেও ফুটিয়ে তোলে।
রাষ্ট্রের কোনো নীতিনির্ধারণী পদে বসে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া মানে হলো নিজের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা। একজন তথ্য উপদেষ্টার কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে স্বচ্ছ ও দূরদর্শী ভাষ্য। পুশইনের মতো একটি জাতীয় ও নিরাপত্তা ইস্যুকে ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা সরকারগুলোর মৌলিক দায়িত্ব। এ জায়গায় নমনীয়তা বা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।
আমরা আশা করি, তথ্য উপদেষ্টা মহোদয় তার বক্তব্যের দায়বদ্ধতা বুঝবেন এবং আগামীতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অবস্থান ও মর্যাদার কথা মাথায় রাখবেন। কারণ, রাষ্ট্রের তথ্য আর জনগণের তথ্যের মধ্যে যে বড় একটি ফারাক থাকে, তা যেন কোনোভাবেই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়। রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষায় ও কূটনীতিতে কৌশলী ও স্পষ্টবাদী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
বিষয় : পুশইন তথ্য উপদেষ্টা
2.png)
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যবই বা ভূগোলের মানচিত্র—যেখান থেকেই দেখা হোক না কেন, সার্বভৌমত্বের একটি নির্দিষ্ট সীমানা থাকে। কিন্তু সম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহিদের একটি বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, তিনি বোধহয় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এমন এক নতুন সংজ্ঞায় পৌঁছেছেন, যা সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে নাগরিকদের পুশইন বা ঠেলে পাঠানোর ঘটনাকে তিনি দিব্যি বলে দিলেন ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’। একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন একটি বক্তব্য কীভাবে দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
সহজ কথায় বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক। পুশইন মানে হলো অন্য রাষ্ট্র থেকে জোর করে মানুষ বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া। এখন যে ব্যক্তিটি সীমান্ত পেরিয়ে এপারে আসছেন, তিনি তো আর জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক নন, কিংবা ভোটার তালিকার কোনো নামও নন। তিনি আসছেন অন্য দেশ থেকে, ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অন্য দেশ থেকে। তাহলে এটি কীভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয় হয়?
রাষ্ট্রের সীমান্ত কোনো খোলা ডাস্টবিন নয় যে, প্রতিবেশী চাইলেই সেখানে যা ইচ্ছা পাঠিয়ে দেবে। এটি একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড। ড. জাহিদ সাহেবকে যদি আমরা একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বোঝাই—ধরুন, আপনার ড্রয়িংরুমে কোনো প্রতিবেশী এসে অনধিকার প্রবেশ করে কোনো কিছু রেখে গেল। আপনি কি তাকে বলতে পারবেন এটা আপনার ‘অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা অভিযান’? নিশ্চয়ই না। এটা বরং একটি অনধিকার চর্চা, যা রাষ্ট্রের মানচিত্র ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
তথ্য উপদেষ্টা দেশের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যার কাছ থেকে জনগণ সঠিক তথ্য ও স্পষ্ট অবস্থানের আশা করে। ‘পুশইন’ শব্দটি কেবল একটি শব্দ নয়, এটি হাজারো মানুষের ভাগ্য, দেশের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি জটিল সমীকরণ। এ নিয়ে যখন কোনো সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন অদ্ভুত যুক্তি দেন, তখন সেটি জনগণের কাছে কেবল রসিকতা হিসেবেই ধরা দেয় না, বরং রাষ্ট্রের অসহায়ত্বকেও ফুটিয়ে তোলে।
রাষ্ট্রের কোনো নীতিনির্ধারণী পদে বসে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া মানে হলো নিজের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা। একজন তথ্য উপদেষ্টার কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে স্বচ্ছ ও দূরদর্শী ভাষ্য। পুশইনের মতো একটি জাতীয় ও নিরাপত্তা ইস্যুকে ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা সরকারগুলোর মৌলিক দায়িত্ব। এ জায়গায় নমনীয়তা বা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।
আমরা আশা করি, তথ্য উপদেষ্টা মহোদয় তার বক্তব্যের দায়বদ্ধতা বুঝবেন এবং আগামীতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অবস্থান ও মর্যাদার কথা মাথায় রাখবেন। কারণ, রাষ্ট্রের তথ্য আর জনগণের তথ্যের মধ্যে যে বড় একটি ফারাক থাকে, তা যেন কোনোভাবেই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়। রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষায় ও কূটনীতিতে কৌশলী ও স্পষ্টবাদী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
2.png)