সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখা হয়নি বাজেটে : এনবিআর চেয়ারম্যান

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যান জানালেন, মৌজা রেটের অসংগতি দূর করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখা হয়নি বাজেটে : এনবিআর চেয়ারম্যান
ছবি -সংগৃহীত

 নতুন বাজেট পেশের পর থেকেই ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ নিয়ে অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি একে সরাসরি ‘অসমর্থনযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিষয়টি আসলে একপাক্ষিক নয়; বরং এটি সম্পত্তি কেনাবেচায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কাটানোর একটি প্রচেষ্টা।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বিষয়টিকে ‘বোঝার ভুল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার আসলে প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে সরকারি মৌজা রেটের ব্যবধান ঘোচাতে চাইছে।

উদাহরণ দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ধরুন একজন বিক্রেতা ৫ কোটি টাকায় জমি বিক্রি করলেন, কিন্তু সরকারি রেজিস্ট্রি বা মৌজা রেট অনুযায়ী সেটির দাম দেখানো হলো মাত্র ১ কোটি টাকা। বাকি ৪ কোটি টাকার উৎস বৈধ হওয়া সত্ত্বেও আইনি মারপ্যাঁচে বিক্রেতা বিপদে পড়েন। এই ঝামেলা এড়াতে বিক্রেতা এখন বায়নানামা ও ব্যাংকিং লেনদেনের প্রমাণ সাপেক্ষে অতিরিক্ত কর ও ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স দিয়ে ওই অর্থ বৈধভাবে নথিতে দেখাতে পারবেন।

একই জটিলতা ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অনেক সময় ফ্ল্যাট বা জমি ২০ কোটি টাকায় কেনা হলেও রেজিস্ট্রেশন করতে হয় নামমাত্র মূল্যে। পরবর্তীতে আয়কর নথিতে ওই বিশাল লেনদেনের হিসাব মেলাতে গিয়ে ক্রেতারা হয়রানির শিকার হন। এনবিআর চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, যারা নিজেদের উপার্জিত বৈধ অর্থ দেখাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন, তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার জন্যই এবারের বাজেটে এই বিধান রাখা হয়েছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, যাদের কাছে আগে থেকেই ‘হোয়াইট মানি’ বা ট্যাক্স দেওয়ার মতো নগদ অর্থ আছে, তাদের নতুন করে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। এ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে সরকার বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টির দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের ইঙ্গিত দেন। তিনি স্বীকার করেন, সরকারি মৌজা রেট ও বাজারের প্রকৃত মূল্যের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, সেটিই সব সমস্যার মূল। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বাজেট তৈরির জন্য মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছি। এই অল্প সময়ে মৌজা রেটের মতো জটিল বিষয়ের আমূল সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, মৌজা রেটগুলো বাস্তবসম্মত করার জন্য সরকার এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। পুরো বাংলাদেশের মৌজাভিত্তিক বাজারমূল্যের ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালানো হবে। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়তে চায়, যেখানে মৌজা রেট হবে বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর সেই দিন যখন আসবে, তখন আর ‘কালো টাকা সাদা করার’ এই বিতর্কিত সুযোগের প্রয়োজন পড়বে না বলেই মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

বিষয় : বাজেট কালো টাকা

কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখা হয়নি বাজেটে : এনবিআর চেয়ারম্যান
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখা হয়নি বাজেটে : এনবিআর চেয়ারম্যান

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

 নতুন বাজেট পেশের পর থেকেই ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ নিয়ে অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি একে সরাসরি ‘অসমর্থনযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিষয়টি আসলে একপাক্ষিক নয়; বরং এটি সম্পত্তি কেনাবেচায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কাটানোর একটি প্রচেষ্টা।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বিষয়টিকে ‘বোঝার ভুল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার আসলে প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে সরকারি মৌজা রেটের ব্যবধান ঘোচাতে চাইছে।

উদাহরণ দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ধরুন একজন বিক্রেতা ৫ কোটি টাকায় জমি বিক্রি করলেন, কিন্তু সরকারি রেজিস্ট্রি বা মৌজা রেট অনুযায়ী সেটির দাম দেখানো হলো মাত্র ১ কোটি টাকা। বাকি ৪ কোটি টাকার উৎস বৈধ হওয়া সত্ত্বেও আইনি মারপ্যাঁচে বিক্রেতা বিপদে পড়েন। এই ঝামেলা এড়াতে বিক্রেতা এখন বায়নানামা ও ব্যাংকিং লেনদেনের প্রমাণ সাপেক্ষে অতিরিক্ত কর ও ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স দিয়ে ওই অর্থ বৈধভাবে নথিতে দেখাতে পারবেন।

একই জটিলতা ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অনেক সময় ফ্ল্যাট বা জমি ২০ কোটি টাকায় কেনা হলেও রেজিস্ট্রেশন করতে হয় নামমাত্র মূল্যে। পরবর্তীতে আয়কর নথিতে ওই বিশাল লেনদেনের হিসাব মেলাতে গিয়ে ক্রেতারা হয়রানির শিকার হন। এনবিআর চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, যারা নিজেদের উপার্জিত বৈধ অর্থ দেখাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন, তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার জন্যই এবারের বাজেটে এই বিধান রাখা হয়েছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, যাদের কাছে আগে থেকেই ‘হোয়াইট মানি’ বা ট্যাক্স দেওয়ার মতো নগদ অর্থ আছে, তাদের নতুন করে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। এ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে সরকার বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টির দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের ইঙ্গিত দেন। তিনি স্বীকার করেন, সরকারি মৌজা রেট ও বাজারের প্রকৃত মূল্যের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, সেটিই সব সমস্যার মূল। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বাজেট তৈরির জন্য মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছি। এই অল্প সময়ে মৌজা রেটের মতো জটিল বিষয়ের আমূল সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, মৌজা রেটগুলো বাস্তবসম্মত করার জন্য সরকার এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। পুরো বাংলাদেশের মৌজাভিত্তিক বাজারমূল্যের ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালানো হবে। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়তে চায়, যেখানে মৌজা রেট হবে বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর সেই দিন যখন আসবে, তখন আর ‘কালো টাকা সাদা করার’ এই বিতর্কিত সুযোগের প্রয়োজন পড়বে না বলেই মনে করেন অর্থমন্ত্রী।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত