সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 খেলাখেলা

সীমানা প্রাচীরে বন্দি ফুটবল বিশ্বকাপ: বিশ্বকাপের আনন্দ ম্লান করছে আমেরিকার ভিসা ও ইমিগ্রেশন জটিলতা

বিশ্বকাপের মঞ্চে আমন্ত্রিত অতিথিরাই যখন প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন না, তখন বিশ্ব ফুটবলের চিরচেনা সৌহার্দ্য কোথায়? আয়োজক দেশের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি আর ফিফার ব্যবসায়িক মুনাফার যাঁতাকলে পিষ্ট ফুটবলপ্রেমীরা।

সীমানা প্রাচীরে বন্দি ফুটবল বিশ্বকাপ: বিশ্বকাপের আনন্দ ম্লান করছে আমেরিকার ভিসা ও ইমিগ্রেশন জটিলতা
ছবি -সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই ছিল সব দেশের মানুষের এক মিলনমেলা। যেখানে সীমানা বা কাঁটাতারের কোনো মূল্য থাকার কথা নয়, বরং ফুটবলের জাদুতে একাকার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল পুরো পৃথিবী। কিন্তু ২০২৬ সালের এই আসর যেন সেই চিরাচরিত চিত্র থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। মাঠের ফুটবল শুরুর আগেই যেন এক অঘোষিত যুদ্ধের ময়দান হয়ে উঠেছে আমেরিকার বিমানবন্দরগুলো। কড়াকড়ি আর ভিসা জটিলতার কারণে এবারের বিশ্বকাপ যেন আনন্দ উৎসবের চেয়ে বিড়ম্বনার এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৪৮ ঘণ্টার খবরগুলো দেখলেই বোঝা যায় ফুটবলের বৈশ্বিক স্পিরিট এখন কতটা সংকুচিত। সুইস তারকা এম্বোলো থেকে শুরু করে ইরাক দলের আইমেন হুসেইন, কেউই রক্ষা পাননি এই আমলাতান্ত্রিক হয়রানি থেকে। দিনের পর দিন বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা কনস্যুলেটের বারান্দায় ভিড় জমানো—এ যেন পেশাদার ফুটবলারদের জন্য এক চরম অপমান। এমনকী আফ্রিকান সেরা রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকার পরেও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা নন, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের প্রতিনিধিদলের একাংশ এবং বৈধ সমর্থকরাও একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার বর্তমান প্রশাসন সচেতনভাবেই এমন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে যাতে মানুষ ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে তারা ভুলে গেছে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট কেবল তাদের ব্যক্তিগত বা অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নয়। খেলার মাঠে যাদের নামার কথা, তাদেরই যদি প্রবেশাধিকার না দেওয়া হয়, তবে এই টুর্নামেন্টের আর গুরুত্ব কোথায়? সাধারণ ইমিগ্র্যান্ট বা অপরাধীদের ঠেকানোর যে অজুহাত তারা দেখাচ্ছে, তার ছাপ পড়ছে পেশাদার অ্যাথলেটদের ওপর, যা পুরো বিশ্বের কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফিফার চরম মুনাফালোভী চরিত্র। আয়োজক দেশের রাজনৈতিক কঠোরতার পাশাপাশি ফিফার দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। টিকিটের আকাশচুম্বী দাম আর টিকিট নিয়ে কারসাজির অভিযোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গ্যালারিতে সিট খালি পড়ে থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফুটবল যখন কেবল বিত্তবানদের আয়েশ আর কর্মকর্তাদের বাণিজ্যের পণ্য হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের আবেগ সেখানে অর্থহীন হয়ে পড়ে।

বিশ্বকাপের মতো একটি আসর, যা মানুষের কানে কানে ঐক্যের সুর পৌঁছে দেয়, তা আজ আমলাতান্ত্রিক ফাইল আর রাজনৈতিক সংকীর্ণতায় আটকে গেছে। একঝাঁক প্রতিভাবান খেলোয়াড়, দক্ষ রেফারি আর আবেগপ্রবণ সমর্থকদের বঞ্চিত করে যে আসর বসছে, তা কোনোভাবেই একটি ‘সফল বিশ্বকাপ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে যারা এই আয়োজনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, আজকের এই নির্লিপ্ততা আর তিক্ত অভিজ্ঞতাই বলে দিচ্ছে—ফুটবল এখন আর আগের মতো নেই।

বিষয় : ফিফা বিশ্বকাপ আমেরিকা ভিসা ভিসা জটিলতা

সীমানা প্রাচীরে বন্দি ফুটবল বিশ্বকাপ: বিশ্বকাপের আনন্দ ম্লান করছে আমেরিকার ভিসা ও ইমিগ্রেশন জটিলতা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


সীমানা প্রাচীরে বন্দি ফুটবল বিশ্বকাপ: বিশ্বকাপের আনন্দ ম্লান করছে আমেরিকার ভিসা ও ইমিগ্রেশন জটিলতা

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই ছিল সব দেশের মানুষের এক মিলনমেলা। যেখানে সীমানা বা কাঁটাতারের কোনো মূল্য থাকার কথা নয়, বরং ফুটবলের জাদুতে একাকার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল পুরো পৃথিবী। কিন্তু ২০২৬ সালের এই আসর যেন সেই চিরাচরিত চিত্র থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। মাঠের ফুটবল শুরুর আগেই যেন এক অঘোষিত যুদ্ধের ময়দান হয়ে উঠেছে আমেরিকার বিমানবন্দরগুলো। কড়াকড়ি আর ভিসা জটিলতার কারণে এবারের বিশ্বকাপ যেন আনন্দ উৎসবের চেয়ে বিড়ম্বনার এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৪৮ ঘণ্টার খবরগুলো দেখলেই বোঝা যায় ফুটবলের বৈশ্বিক স্পিরিট এখন কতটা সংকুচিত। সুইস তারকা এম্বোলো থেকে শুরু করে ইরাক দলের আইমেন হুসেইন, কেউই রক্ষা পাননি এই আমলাতান্ত্রিক হয়রানি থেকে। দিনের পর দিন বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা কনস্যুলেটের বারান্দায় ভিড় জমানো—এ যেন পেশাদার ফুটবলারদের জন্য এক চরম অপমান। এমনকী আফ্রিকান সেরা রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকার পরেও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা নন, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের প্রতিনিধিদলের একাংশ এবং বৈধ সমর্থকরাও একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার বর্তমান প্রশাসন সচেতনভাবেই এমন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে যাতে মানুষ ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে তারা ভুলে গেছে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট কেবল তাদের ব্যক্তিগত বা অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নয়। খেলার মাঠে যাদের নামার কথা, তাদেরই যদি প্রবেশাধিকার না দেওয়া হয়, তবে এই টুর্নামেন্টের আর গুরুত্ব কোথায়? সাধারণ ইমিগ্র্যান্ট বা অপরাধীদের ঠেকানোর যে অজুহাত তারা দেখাচ্ছে, তার ছাপ পড়ছে পেশাদার অ্যাথলেটদের ওপর, যা পুরো বিশ্বের কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফিফার চরম মুনাফালোভী চরিত্র। আয়োজক দেশের রাজনৈতিক কঠোরতার পাশাপাশি ফিফার দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। টিকিটের আকাশচুম্বী দাম আর টিকিট নিয়ে কারসাজির অভিযোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গ্যালারিতে সিট খালি পড়ে থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফুটবল যখন কেবল বিত্তবানদের আয়েশ আর কর্মকর্তাদের বাণিজ্যের পণ্য হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের আবেগ সেখানে অর্থহীন হয়ে পড়ে।

বিশ্বকাপের মতো একটি আসর, যা মানুষের কানে কানে ঐক্যের সুর পৌঁছে দেয়, তা আজ আমলাতান্ত্রিক ফাইল আর রাজনৈতিক সংকীর্ণতায় আটকে গেছে। একঝাঁক প্রতিভাবান খেলোয়াড়, দক্ষ রেফারি আর আবেগপ্রবণ সমর্থকদের বঞ্চিত করে যে আসর বসছে, তা কোনোভাবেই একটি ‘সফল বিশ্বকাপ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে যারা এই আয়োজনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, আজকের এই নির্লিপ্ততা আর তিক্ত অভিজ্ঞতাই বলে দিচ্ছে—ফুটবল এখন আর আগের মতো নেই।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত