বানিজ্য
দেশে যখন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একধরনের স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সাহসী পদক্ষেপ নিল আকিজ রিসোর্স গ্রুপ। নতুন কোম্পানি 'আকিজ মেডিপ্লেক্স লিমিটেড' গঠনের মাধ্যমে তারা আজ বুধবার মিরপুর-১০ এলাকায় একটি অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালুর মধ্য দিয়ে চিকিৎসাসেবার ধারণা বদলে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে। শুধু রোগ নির্ণয় নয়, একই সঙ্গে 'আকিজ মেডিকুইপ লিমিটেড' নামে আরেকটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ডিভাইস তৈরির বাজারেও বড় ছক্কা হাঁকাতে চায় গ্রুপটি।
আকিজ মেডিপ্লেক্সের প্রথম এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আধুনিক প্যাথলজি, ডিজিটাল রিপোর্টিং, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং হোম স্যাম্পল কালেকশনের মতো সেবাগুলো যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) আবু জাফর ইকবাল আহমেদ জানান, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা বা দূরদূরান্তে যাওয়ার যে ভোগান্তি, তা লাঘব করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তি ও মানবিক সেবার সমন্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য পরিবেশ গড়ার প্রত্যাশা তাদের। আগামী বছরের মধ্যেই প্রথম হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে গ্রুপটির, যা পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট আকিজ রিসোর্সের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এই বাজারের ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। আকিজ মেডিকুইপ শুরুতে বিদেশি সরঞ্জাম আমদানির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও, তাদের লক্ষ্য আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশেই কারখানা স্থাপন করা। মোহাম্মদ তৌফিক হাসান, যিনি গ্রুপটির চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি জানান, কেবল ব্যবসার প্রসার নয়, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানসম্মত স্বাস্থ্য অবকাঠামো তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন।
২০২০ সালে আলাদা পথচলা শুরু করা আকিজ রিসোর্স গ্রুপ গত কয়েক বছরে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে। পোলট্রি, হালকা প্রকৌশল, ফার্মেসি ও জবসসহ নানা খাতে পাঁচশ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে দেড় হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করেছে তারা। ১২টি ব্যবসায়িক খাতে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়া এই গ্রুপটির বার্ষিক লেনদেন এখন ১০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। চিকিৎসা খাতের এই নতুন সংযোজন কেবল একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং দেশের ভঙ্গুর চিকিৎসা অবকাঠামোয় এক নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : আকিজ মেডিপ্লেক্স
2.png)
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
দেশে যখন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একধরনের স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সাহসী পদক্ষেপ নিল আকিজ রিসোর্স গ্রুপ। নতুন কোম্পানি 'আকিজ মেডিপ্লেক্স লিমিটেড' গঠনের মাধ্যমে তারা আজ বুধবার মিরপুর-১০ এলাকায় একটি অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালুর মধ্য দিয়ে চিকিৎসাসেবার ধারণা বদলে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে। শুধু রোগ নির্ণয় নয়, একই সঙ্গে 'আকিজ মেডিকুইপ লিমিটেড' নামে আরেকটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ডিভাইস তৈরির বাজারেও বড় ছক্কা হাঁকাতে চায় গ্রুপটি।
আকিজ মেডিপ্লেক্সের প্রথম এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আধুনিক প্যাথলজি, ডিজিটাল রিপোর্টিং, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং হোম স্যাম্পল কালেকশনের মতো সেবাগুলো যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) আবু জাফর ইকবাল আহমেদ জানান, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা বা দূরদূরান্তে যাওয়ার যে ভোগান্তি, তা লাঘব করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তি ও মানবিক সেবার সমন্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য পরিবেশ গড়ার প্রত্যাশা তাদের। আগামী বছরের মধ্যেই প্রথম হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে গ্রুপটির, যা পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট আকিজ রিসোর্সের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এই বাজারের ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। আকিজ মেডিকুইপ শুরুতে বিদেশি সরঞ্জাম আমদানির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও, তাদের লক্ষ্য আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশেই কারখানা স্থাপন করা। মোহাম্মদ তৌফিক হাসান, যিনি গ্রুপটির চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি জানান, কেবল ব্যবসার প্রসার নয়, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানসম্মত স্বাস্থ্য অবকাঠামো তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন।
২০২০ সালে আলাদা পথচলা শুরু করা আকিজ রিসোর্স গ্রুপ গত কয়েক বছরে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে। পোলট্রি, হালকা প্রকৌশল, ফার্মেসি ও জবসসহ নানা খাতে পাঁচশ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে দেড় হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করেছে তারা। ১২টি ব্যবসায়িক খাতে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়া এই গ্রুপটির বার্ষিক লেনদেন এখন ১০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। চিকিৎসা খাতের এই নতুন সংযোজন কেবল একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং দেশের ভঙ্গুর চিকিৎসা অবকাঠামোয় এক নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
2.png)