সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

সংকটে থাকা শিল্প ও ঋণ খেলাপি মালিকদের বাঁচাতে বিশেষ ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ক্ষমতা বদল ও ডলার সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ; ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে মিলবে ১০ বছরের মেয়াদ।

সংকটে থাকা শিল্প ও ঋণ খেলাপি মালিকদের বাঁচাতে বিশেষ ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ছবি -সংগৃহীত

ব্যবসায়িক মন্দা আর ডলারের অস্থিরতায় ধুঁকতে থাকা কলকারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের নীতিসহায়তা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঋণখেলাপি হয়েছে, তাদের জন্য এই বিশেষ সুযোগের দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে। এখন থেকে মাত্র ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়েই গ্রাহকরা তাদের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন।

​কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই বিশেষ ব্যবস্থায় ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। এছাড়া ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে শুরুতে দুই বছরের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা বিরতি সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। তবে যারা এর আগে বিভিন্ন নীতিসহায়তার আওতায় ঋণ পুনঃ তফসিল করেছেন, তারা এই নতুন সুবিধাটির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেবল গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত যাদের ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তারাই এই ছাড়ের আওতায় আসবেন। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নিজ নিজ ব্যাংকে আবেদন জমা দিতে হবে। ব্যাংকগুলো এসব আবেদন প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবে। এক্ষেত্রে কোনো অনাপত্তি সনদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

​প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো গ্রাহক চাইলে এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমেও দায়মুক্ত হতে পারবেন, যার জন্য এক বছর সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে শর্ত থাকে যে, ডাউন পেমেন্টের অর্থ চেক বা অন্য কোনো মাধ্যমে জমা দেওয়া হলে তা নগদায়ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদন কার্যকর হবে না। এছাড়া সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গ্রাহক কোনো নতুন ঋণ সুবিধা পাবেন না।

​বর্তমান সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মাধ্যমে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এই উদ্যোগ তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাজার অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং শিল্পের চাকা সচল রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন নীতিনির্ধারকরা।

​উল্লেখ্য, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০০৯ সালে যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪ সালের জুন নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো ও হল-মার্কের মতো বড় বড় গোষ্ঠীগুলোর ঋণ অনিয়মের প্রভাবে ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। তবে গত বছরের শেষ তিন মাসে বিশেষ ছাড়ের ফলে কাগজ-কলমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকায় নেমেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে উঠে এসেছে। মূলত অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সৎ উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনরায় এই নমনীয় অবস্থান নিয়েছে।

বিষয় : বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপি

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


সংকটে থাকা শিল্প ও ঋণ খেলাপি মালিকদের বাঁচাতে বিশেষ ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

ব্যবসায়িক মন্দা আর ডলারের অস্থিরতায় ধুঁকতে থাকা কলকারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের নীতিসহায়তা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঋণখেলাপি হয়েছে, তাদের জন্য এই বিশেষ সুযোগের দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে। এখন থেকে মাত্র ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়েই গ্রাহকরা তাদের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন।

​কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই বিশেষ ব্যবস্থায় ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। এছাড়া ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে শুরুতে দুই বছরের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা বিরতি সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। তবে যারা এর আগে বিভিন্ন নীতিসহায়তার আওতায় ঋণ পুনঃ তফসিল করেছেন, তারা এই নতুন সুবিধাটির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেবল গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত যাদের ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তারাই এই ছাড়ের আওতায় আসবেন। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নিজ নিজ ব্যাংকে আবেদন জমা দিতে হবে। ব্যাংকগুলো এসব আবেদন প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবে। এক্ষেত্রে কোনো অনাপত্তি সনদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

​প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো গ্রাহক চাইলে এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমেও দায়মুক্ত হতে পারবেন, যার জন্য এক বছর সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে শর্ত থাকে যে, ডাউন পেমেন্টের অর্থ চেক বা অন্য কোনো মাধ্যমে জমা দেওয়া হলে তা নগদায়ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদন কার্যকর হবে না। এছাড়া সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গ্রাহক কোনো নতুন ঋণ সুবিধা পাবেন না।

​বর্তমান সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মাধ্যমে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এই উদ্যোগ তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাজার অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং শিল্পের চাকা সচল রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন নীতিনির্ধারকরা।

​উল্লেখ্য, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০০৯ সালে যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪ সালের জুন নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো ও হল-মার্কের মতো বড় বড় গোষ্ঠীগুলোর ঋণ অনিয়মের প্রভাবে ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। তবে গত বছরের শেষ তিন মাসে বিশেষ ছাড়ের ফলে কাগজ-কলমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকায় নেমেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে উঠে এসেছে। মূলত অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সৎ উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনরায় এই নমনীয় অবস্থান নিয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত