খেলাখেলা

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ

৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ
ছবি -সংগৃহীত

চট্টগ্রামের গরম আর আর্দ্রতা—দুটো মিলেই যেন এক কঠিন পরীক্ষার মাঠ তৈরি করেছিল বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামকে। স্টেডিয়াম থেকে সমুদ্রের দূরত্ব এতটাই কম যে বাতাসে লবণাক্ত আর্দ্রতা সবসময়ই বেশি। তার ওপর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ঘর ছুঁইছুঁই। এমন দিনে ক্রিকেট খেলাটাই যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে ব্যাট হাতে তিন ঘণ্টার বেশি লড়াই করা—এটা আলাদা করে বলার মতোই গল্প।

এই কঠিন পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের জয়ের গল্প লিখেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকেই এসেছে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি—১১৯ বলে ১০৫ রান। শুধু রান নয়, ইনিংসের সময়টা (৩ ঘণ্টা ৬ মিনিট)ই বলে দেয়, কতটা ধৈর্য আর মানসিক শক্তি লাগেছে এই ইনিংস গড়তে।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না বাংলাদেশের। মাত্র ৩২ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। ফিরে যান সাইফ হাসান, তানজিদ হাসানসৌম্য সরকার

এই বিপর্যয়ের মধ্যেই হাল ধরেন শান্ত ও লিটন দাস। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ১৭৮ বলে ১৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। গরমে ক্লান্ত শরীর, তবু দৌড়ে নেওয়া ১২৪ রান—এই জুটির লড়াইটা ছিল নিখাদ দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি।

লিটন খেলেছেন ৭৬ রানের কার্যকর ইনিংস, ৭১ বলে তুলে নিয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত ফিফটি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর এই সংস্করণে তাঁর প্রথম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস—তাই এটাও ছিল তাঁর জন্য স্বস্তির দিন।

লিটন আউট হওয়ার পর নিজের শতক পূর্ণ করেন শান্ত। দীর্ঘ ২৫ মাস ও ২০ ইনিংস পর পাওয়া এই সেঞ্চুরি তাঁর ক্যারিয়ারে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ (২২ রান) ও তাওহিদ হৃদয় (অপরাজিত ৩৩) কিছুটা গতি আনলেও ২৭০ পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। থামে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানে।

২৬৫ রান এই উইকেটে লড়াই করার মতো স্কোর—এটা প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমান। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেই তিনি তুলে নেন ৫ উইকেট—২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথম ‘ফাইফার’।

তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা (২ উইকেট) ও শরীফুল ইসলাম (১ উইকেট)।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে নিক কেলি (৫৯) ও ডিন ফক্সক্রফট (৭৫) চেষ্টা করলেও ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।

৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম ম্যাচ হারার পর টানা দুই ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানো—এটা দলের আত্মবিশ্বাসেরই প্রমাণ।

এক ম্যাচে শান্তর সেঞ্চুরি, অন্যদিকে মোস্তাফিজের পাঁচ উইকেট—দুই তারকার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানেই রচিত হলো এই জয়গাথা। আর চট্টগ্রামের প্রচণ্ড গরম? সেটাকে হারিয়েই জিতেছে বাংলাদেশ।

বিষয় : ক্রিকেট খেলা

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের গরম আর আর্দ্রতা—দুটো মিলেই যেন এক কঠিন পরীক্ষার মাঠ তৈরি করেছিল বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামকে। স্টেডিয়াম থেকে সমুদ্রের দূরত্ব এতটাই কম যে বাতাসে লবণাক্ত আর্দ্রতা সবসময়ই বেশি। তার ওপর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ঘর ছুঁইছুঁই। এমন দিনে ক্রিকেট খেলাটাই যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে ব্যাট হাতে তিন ঘণ্টার বেশি লড়াই করা—এটা আলাদা করে বলার মতোই গল্প।

এই কঠিন পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের জয়ের গল্প লিখেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকেই এসেছে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি—১১৯ বলে ১০৫ রান। শুধু রান নয়, ইনিংসের সময়টা (৩ ঘণ্টা ৬ মিনিট)ই বলে দেয়, কতটা ধৈর্য আর মানসিক শক্তি লাগেছে এই ইনিংস গড়তে।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না বাংলাদেশের। মাত্র ৩২ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। ফিরে যান সাইফ হাসান, তানজিদ হাসানসৌম্য সরকার

এই বিপর্যয়ের মধ্যেই হাল ধরেন শান্ত ও লিটন দাস। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ১৭৮ বলে ১৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। গরমে ক্লান্ত শরীর, তবু দৌড়ে নেওয়া ১২৪ রান—এই জুটির লড়াইটা ছিল নিখাদ দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি।

লিটন খেলেছেন ৭৬ রানের কার্যকর ইনিংস, ৭১ বলে তুলে নিয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত ফিফটি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর এই সংস্করণে তাঁর প্রথম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস—তাই এটাও ছিল তাঁর জন্য স্বস্তির দিন।

লিটন আউট হওয়ার পর নিজের শতক পূর্ণ করেন শান্ত। দীর্ঘ ২৫ মাস ও ২০ ইনিংস পর পাওয়া এই সেঞ্চুরি তাঁর ক্যারিয়ারে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ (২২ রান) ও তাওহিদ হৃদয় (অপরাজিত ৩৩) কিছুটা গতি আনলেও ২৭০ পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। থামে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানে।

২৬৫ রান এই উইকেটে লড়াই করার মতো স্কোর—এটা প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমান। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেই তিনি তুলে নেন ৫ উইকেট—২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথম ‘ফাইফার’।

তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা (২ উইকেট) ও শরীফুল ইসলাম (১ উইকেট)।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে নিক কেলি (৫৯) ও ডিন ফক্সক্রফট (৭৫) চেষ্টা করলেও ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।

৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম ম্যাচ হারার পর টানা দুই ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানো—এটা দলের আত্মবিশ্বাসেরই প্রমাণ।

এক ম্যাচে শান্তর সেঞ্চুরি, অন্যদিকে মোস্তাফিজের পাঁচ উইকেট—দুই তারকার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানেই রচিত হলো এই জয়গাথা। আর চট্টগ্রামের প্রচণ্ড গরম? সেটাকে হারিয়েই জিতেছে বাংলাদেশ।


কাল মহাকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সম্পাদক আলী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত