গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে
বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। সূর্য উঠলেই অসহনীয় গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। তবে এই
কষ্ট সবার জন্য এক নয়। রাজধানী ঢাকায় অধিকাংশ বাড়ি ও অফিসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
থাকলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
ফরিদপুরের
কৃষক রহিম উদ্দিনের মতো অনেকেই দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ে ভুগছেন। টানা কয়েক ঘণ্টা
বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্প বন্ধ, জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর গরমে শিশু
কাঁদছে, পাশে জ্বলছে মোমবাতি। একই সময়ে ঢাকার অনেক বাসায় চলছে একাধিক এসি।
বিদ্যুৎ
উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে
বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪
হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।
এই
ঘাটতির বড় অংশই বইছে গ্রামাঞ্চল। আগের বছরগুলোর হিসাব বলছে, মোট লোডশেডিংয়ের
বেশিরভাগটাই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এলাকায় হয়েছে। অর্থাৎ গ্রামের
মানুষই বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের
মতে, ঢাকাকে প্রায় লোডশেডিংমুক্ত রাখার একটি অঘোষিত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কারণ
হিসেবে বলা হচ্ছে—রাজনৈতিক চাপ, শিল্পকারখানা, সরকারি দপ্তর ও গণমাধ্যমের নজর
রাজধানীকেন্দ্রিক।
তবে
এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। সেচ বন্ধ থাকায় ফসল নষ্ট
হচ্ছে, ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী রাতে পড়াশোনা করতে পারছে
না। হাসপাতালেও সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, সমস্যার মূল কারণ শুধু উৎপাদন ঘাটতি নয়। গ্যাস সংকট, জ্বালানি আমদানির
অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল সঞ্চালন ব্যবস্থাও বড় কারণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও
জ্বালানির অভাবে সেগুলো পুরো ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
তারা
আরও জানান, বিদ্যুৎ বণ্টনে স্বচ্ছতা নেই। কোথায় কখন লোডশেডিং হবে, সে বিষয়ে
সাধারণ মানুষ আগে থেকে জানেন না।
সমাধানের
জন্য কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—সব এলাকায় সমানভাবে
লোডশেডিং বণ্টন, কৃষিখাতে বিদ্যুতের অগ্রাধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ
বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা
চালু করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ এখন আর শুধু
আরামের বিষয় নয়। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই
বিদ্যুতের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে
বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। সূর্য উঠলেই অসহনীয় গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। তবে এই
কষ্ট সবার জন্য এক নয়। রাজধানী ঢাকায় অধিকাংশ বাড়ি ও অফিসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
থাকলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
ফরিদপুরের
কৃষক রহিম উদ্দিনের মতো অনেকেই দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ে ভুগছেন। টানা কয়েক ঘণ্টা
বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্প বন্ধ, জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর গরমে শিশু
কাঁদছে, পাশে জ্বলছে মোমবাতি। একই সময়ে ঢাকার অনেক বাসায় চলছে একাধিক এসি।
বিদ্যুৎ
উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে
বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪
হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।
এই
ঘাটতির বড় অংশই বইছে গ্রামাঞ্চল। আগের বছরগুলোর হিসাব বলছে, মোট লোডশেডিংয়ের
বেশিরভাগটাই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এলাকায় হয়েছে। অর্থাৎ গ্রামের
মানুষই বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের
মতে, ঢাকাকে প্রায় লোডশেডিংমুক্ত রাখার একটি অঘোষিত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কারণ
হিসেবে বলা হচ্ছে—রাজনৈতিক চাপ, শিল্পকারখানা, সরকারি দপ্তর ও গণমাধ্যমের নজর
রাজধানীকেন্দ্রিক।
তবে
এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। সেচ বন্ধ থাকায় ফসল নষ্ট
হচ্ছে, ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী রাতে পড়াশোনা করতে পারছে
না। হাসপাতালেও সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, সমস্যার মূল কারণ শুধু উৎপাদন ঘাটতি নয়। গ্যাস সংকট, জ্বালানি আমদানির
অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল সঞ্চালন ব্যবস্থাও বড় কারণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও
জ্বালানির অভাবে সেগুলো পুরো ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
তারা
আরও জানান, বিদ্যুৎ বণ্টনে স্বচ্ছতা নেই। কোথায় কখন লোডশেডিং হবে, সে বিষয়ে
সাধারণ মানুষ আগে থেকে জানেন না।
সমাধানের
জন্য কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—সব এলাকায় সমানভাবে
লোডশেডিং বণ্টন, কৃষিখাতে বিদ্যুতের অগ্রাধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ
বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা
চালু করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ এখন আর শুধু
আরামের বিষয় নয়। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই
বিদ্যুতের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।
