সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শোলাকিয়ায় সম্পন্ন ১৯৯তম ঈদ জামাত

প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির জলস্রোতকে হার মানিয়ে ঐতিহাসিক এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করলেন অগণিত মুসল্লি। ত্যাগ ও আনন্দের এই দিনে প্রকৃতির প্রতিকূলতা ছাপিয়ে ফুটে উঠল ধর্মপ্রাণ মানুষের অটুট একাগ্রতা।

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শোলাকিয়ায় সম্পন্ন ১৯৯তম ঈদ জামাত
ছবি -সংগৃহীত


কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মাঠটি এবার যেন প্রকৃতির এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের অবস্থা ছিল অনেকটা নাজেহাল, তবুও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অদম্য উৎসাহকে দমাতে পারেনি মেঘের গর্জন বা কাদামাখা পথ। সকাল নয়টায় যখন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহর ইমামতিতে জামাত শুরু হলো, তখন আকাশটা ছিল বেশ মেঘলা। তবে দ্বিতীয় রাকাতের ঠিক আগ মুহূর্তে শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। শরীর ভেজা, কাদায় জুবুথুবু হয়েও মুসল্লিরা তাদের পরম ইবাদত শেষ করেছেন অটুট একাগ্রতায়।

জামাত শুরুর আগে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানান। বরাবরের মতো এবারও জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে শটগানের গুলির আওয়াজ প্রকম্পিত করে তোলে শোলাকিয়ার আকাশ। প্রথম তিনটি শটগান চালিয়ে সংকেত দেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার ছিল চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ড্রোন ক্যামেরা, ওয়াচটাওয়ার, সিসিটিভি এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সমন্বয়ে আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজরদারিতে ছিল পুরো ঈদগাহ এলাকা। বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ছিল গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা।

ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির ব্যস্ততার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মুসল্লিদের সমাগম ঈদুল ফিতরের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে আগত মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছিল, যা ছিল যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তি। নামাজ শেষে মোনাজাতে ইমাম বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ, দেশের কল্যাণ এবং সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাফল্য কামনায় দোয়া করা হয়। সব মিলিয়ে, বৃষ্টিস্নাত এক সকালে প্রতিকূলতাকে জয় করে ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত সম্পন্ন হলো এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী আবহে।


বিষয় : শোলাকিয়া ঈদগাহ ঈদ জামাত

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শোলাকিয়ায় সম্পন্ন ১৯৯তম ঈদ জামাত
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শোলাকিয়ায় সম্পন্ন ১৯৯তম ঈদ জামাত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image


কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মাঠটি এবার যেন প্রকৃতির এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের অবস্থা ছিল অনেকটা নাজেহাল, তবুও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অদম্য উৎসাহকে দমাতে পারেনি মেঘের গর্জন বা কাদামাখা পথ। সকাল নয়টায় যখন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহর ইমামতিতে জামাত শুরু হলো, তখন আকাশটা ছিল বেশ মেঘলা। তবে দ্বিতীয় রাকাতের ঠিক আগ মুহূর্তে শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। শরীর ভেজা, কাদায় জুবুথুবু হয়েও মুসল্লিরা তাদের পরম ইবাদত শেষ করেছেন অটুট একাগ্রতায়।

জামাত শুরুর আগে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানান। বরাবরের মতো এবারও জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে শটগানের গুলির আওয়াজ প্রকম্পিত করে তোলে শোলাকিয়ার আকাশ। প্রথম তিনটি শটগান চালিয়ে সংকেত দেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার ছিল চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ড্রোন ক্যামেরা, ওয়াচটাওয়ার, সিসিটিভি এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সমন্বয়ে আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজরদারিতে ছিল পুরো ঈদগাহ এলাকা। বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ছিল গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা।

ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির ব্যস্ততার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মুসল্লিদের সমাগম ঈদুল ফিতরের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে আগত মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছিল, যা ছিল যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তি। নামাজ শেষে মোনাজাতে ইমাম বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ, দেশের কল্যাণ এবং সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাফল্য কামনায় দোয়া করা হয়। সব মিলিয়ে, বৃষ্টিস্নাত এক সকালে প্রতিকূলতাকে জয় করে ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত সম্পন্ন হলো এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী আবহে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত