সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

আছে ছয় তলা বাডি, থাকেন ভাড়া বাসায়ঃ ছেলের সাথে চলছে আইনি লড়াই

জীবনের শেষপ্রান্তে এসে নিজের গড়া ছয়তলা বাড়ির চৌকাঠে পা রাখার অনুমতিটুকুও নেই এম মো. আলীর। সম্পত্তির লোভে ছোট সন্তানের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে আজ তিনি উত্তরার এক ভাড়া ফ্ল্যাটে দিন গুনছেন।

আছে ছয় তলা বাডি, থাকেন ভাড়া বাসায়ঃ ছেলের সাথে চলছে আইনি লড়াই
ছবি -সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুতে ঘাম ঝরিয়ে যে ইটের দালান গড়েছিলেন, আজ সেই দালানই এম মো. আলীর কাছে এক নিষিদ্ধ দুর্গ। পঙ্গুত্ব আর বার্ধক্যের ভারে নুইয়ে পড়া এই বৃদ্ধের কাছে বাড়ির প্রতিটি কোণ ছিল স্বপ্নের মতো। অথচ আজ নিজেরই গড়া ছয়তলা বাড়ির বারান্দায় আর দাঁড়ানোর সুযোগ নেই তাঁর। অভিযোগের আঙুল উঠেছে নিজেরই ছোট সন্তান এম এম মাহমুদ সাঈদের দিকে। বৃদ্ধ পিতার ভাষ্যমতে, সম্পত্তির লোভে ছোট ছেলে ও তাঁর স্ত্রী গলায় ছুরি ধরে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত দীর্ঘ সময় আগে, যখন কঠোর পরিশ্রম করে মিরপুরের কাফরুলে এই বাড়ি আর পোশাক কারখানা গড়েছিলেন মো. আলী। অসুস্থতার পর কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলেও বাড়িটিই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি নিজের বাড়িতেই পরবাসী। এখন বড় ছেলে ওয়াহিদ জুবায়েরের আশ্রয়ে উত্তরার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে কোনোমতে টিকে আছেন তিনি। বড় ছেলের দাবি, বাবাকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি নিজের কাছে নিয়ে এসেছেন, আর এই অপরাধেই তাঁকে পড়তে হচ্ছে ছোট ভাইয়ের নানা হয়রানির মুখে।

এই পারিবারিক বিবাদ কেবল বাড়ির সীমানায় আটকে থাকেনি, বরং তা রূপ নিয়েছে এক জটিল আইনি গোলকধাঁধায়। বাবা, দুই ছেলে এবং ভাড়াটিয়া—সবাই জড়িয়ে পড়েছেন পাল্টাপাল্টি মামলার জালে। বাড়িটির দখল নিয়ে যেমন চলছে রেষারেষি, তেমনি ভাড়াটিয়ার বকেয়া টাকা নিয়ে মালিকের করা মামলায় পিবিআই একরকম তদন্ত প্রতিবেদন দিলেও, পাল্টা মামলায় সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। যেন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেছে এক বৃদ্ধের শেষ বয়সের শান্তিতে বসবাসের আকুতি।

ছোট ছেলে মাহমুদ সাঈদের দাবি, তাঁর বড় ভাই বড় ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন। বড় ভাইয়ের ইন্ধনেই নাকি বাবা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেছেন, যাতে পুরো সম্পত্তির দখল নিতে পারেন। অন্যদিকে, ওয়াহিদ জুবায়েরের অভিযোগ, ছোট ভাই নিয়মিত বাবাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন, এমনকি মেরে ফেলারও চেষ্টা করেছিলেন। সত্যের এই পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে পঙ্গু বৃদ্ধ মো. আলী আজ সত্যিই অসহায়। বারবার আইনি সুরক্ষা চেয়েও মিলছে না স্বস্তি। আদালতের বারান্দায় মামলার নথির স্তূপ বাড়ছে, কিন্তু এই বৃদ্ধের নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দিনকে দিন ফিকে হয়ে আসছে। আইনের মারপ্যাঁচে যখন আপন রক্তের সম্পর্কেও এমন ভাঙন ধরে, তখন সম্পত্তির মালিকানা তো কেবল কাগজের দলিল হয়েই রয়, কিন্তু হারিয়ে যায় সম্পর্কের আসল দলিল—ভালোবাসা।

সূত্রঃ প্রথম আলো 

বিষয় : বৃদ্ধ এম মো. আলী মিরপুর বাড়ি দখল সন্তান বনাম পিতা আইনি জটিলতা বাংলাদেশের বৃদ্ধাশ্রম সংকট

আছে ছয় তলা বাডি, থাকেন ভাড়া বাসায়ঃ ছেলের সাথে চলছে আইনি লড়াই
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


আছে ছয় তলা বাডি, থাকেন ভাড়া বাসায়ঃ ছেলের সাথে চলছে আইনি লড়াই

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image


মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুতে ঘাম ঝরিয়ে যে ইটের দালান গড়েছিলেন, আজ সেই দালানই এম মো. আলীর কাছে এক নিষিদ্ধ দুর্গ। পঙ্গুত্ব আর বার্ধক্যের ভারে নুইয়ে পড়া এই বৃদ্ধের কাছে বাড়ির প্রতিটি কোণ ছিল স্বপ্নের মতো। অথচ আজ নিজেরই গড়া ছয়তলা বাড়ির বারান্দায় আর দাঁড়ানোর সুযোগ নেই তাঁর। অভিযোগের আঙুল উঠেছে নিজেরই ছোট সন্তান এম এম মাহমুদ সাঈদের দিকে। বৃদ্ধ পিতার ভাষ্যমতে, সম্পত্তির লোভে ছোট ছেলে ও তাঁর স্ত্রী গলায় ছুরি ধরে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত দীর্ঘ সময় আগে, যখন কঠোর পরিশ্রম করে মিরপুরের কাফরুলে এই বাড়ি আর পোশাক কারখানা গড়েছিলেন মো. আলী। অসুস্থতার পর কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলেও বাড়িটিই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি নিজের বাড়িতেই পরবাসী। এখন বড় ছেলে ওয়াহিদ জুবায়েরের আশ্রয়ে উত্তরার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে কোনোমতে টিকে আছেন তিনি। বড় ছেলের দাবি, বাবাকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি নিজের কাছে নিয়ে এসেছেন, আর এই অপরাধেই তাঁকে পড়তে হচ্ছে ছোট ভাইয়ের নানা হয়রানির মুখে।

এই পারিবারিক বিবাদ কেবল বাড়ির সীমানায় আটকে থাকেনি, বরং তা রূপ নিয়েছে এক জটিল আইনি গোলকধাঁধায়। বাবা, দুই ছেলে এবং ভাড়াটিয়া—সবাই জড়িয়ে পড়েছেন পাল্টাপাল্টি মামলার জালে। বাড়িটির দখল নিয়ে যেমন চলছে রেষারেষি, তেমনি ভাড়াটিয়ার বকেয়া টাকা নিয়ে মালিকের করা মামলায় পিবিআই একরকম তদন্ত প্রতিবেদন দিলেও, পাল্টা মামলায় সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। যেন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেছে এক বৃদ্ধের শেষ বয়সের শান্তিতে বসবাসের আকুতি।

ছোট ছেলে মাহমুদ সাঈদের দাবি, তাঁর বড় ভাই বড় ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন। বড় ভাইয়ের ইন্ধনেই নাকি বাবা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেছেন, যাতে পুরো সম্পত্তির দখল নিতে পারেন। অন্যদিকে, ওয়াহিদ জুবায়েরের অভিযোগ, ছোট ভাই নিয়মিত বাবাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন, এমনকি মেরে ফেলারও চেষ্টা করেছিলেন। সত্যের এই পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে পঙ্গু বৃদ্ধ মো. আলী আজ সত্যিই অসহায়। বারবার আইনি সুরক্ষা চেয়েও মিলছে না স্বস্তি। আদালতের বারান্দায় মামলার নথির স্তূপ বাড়ছে, কিন্তু এই বৃদ্ধের নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দিনকে দিন ফিকে হয়ে আসছে। আইনের মারপ্যাঁচে যখন আপন রক্তের সম্পর্কেও এমন ভাঙন ধরে, তখন সম্পত্তির মালিকানা তো কেবল কাগজের দলিল হয়েই রয়, কিন্তু হারিয়ে যায় সম্পর্কের আসল দলিল—ভালোবাসা।

সূত্রঃ প্রথম আলো 


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত