লোকাল ফোকাস
সিলেটের বিয়ানীবাজারে স্থানীয় যুবদল নেতা কামাল আহমেদ ওরফে ‘চাক্কু কামাল’-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি শাখা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিনের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় কামাল ও তার অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মঈন উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কামাল আহমেদ আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। সর্বশেষ তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীরও ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় উল্টো তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত এপ্রিলে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকে হুমকির মুখে তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ানীবাজার পৌর যুবদল থেকে জেলা কমিটির কাছে তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বারবার সুপারিশ করার পরও জেলা যুবদল তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আহমদ দুলন বলেন, "আমরা তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা যুবদলের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। এরপর বিষয়টি আর এগোয়নি।"
সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন এ বিষয়ে বলেন, "গত বছর বহিষ্কারের সুপারিশে সুনির্দিষ্ট সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মঈন উদ্দিনের চাঁদা দাবির নতুন অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। মামলার কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আমাদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল ও প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে।"
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিষয় : চাঁদাবাজি
2.png)
রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
সিলেটের বিয়ানীবাজারে স্থানীয় যুবদল নেতা কামাল আহমেদ ওরফে ‘চাক্কু কামাল’-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি শাখা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিনের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় কামাল ও তার অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মঈন উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কামাল আহমেদ আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। সর্বশেষ তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীরও ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় উল্টো তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত এপ্রিলে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকে হুমকির মুখে তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ানীবাজার পৌর যুবদল থেকে জেলা কমিটির কাছে তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বারবার সুপারিশ করার পরও জেলা যুবদল তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আহমদ দুলন বলেন, "আমরা তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা যুবদলের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। এরপর বিষয়টি আর এগোয়নি।"
সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন এ বিষয়ে বলেন, "গত বছর বহিষ্কারের সুপারিশে সুনির্দিষ্ট সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মঈন উদ্দিনের চাঁদা দাবির নতুন অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। মামলার কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আমাদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল ও প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে।"
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
2.png)