আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে মুখ খুললো ভারত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের আবেদন নিয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ভারত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণের বিষয়েও নতুন তথ্য না আসা পর্যন্ত আগের অবস্থানই জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে মুখ খুললো ভারত
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থানে এখনো বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ঢাকার করা প্রত্যর্পণ আবেদন দেশটির প্রচলিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগেও স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশটির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এর আগে জুলাইয়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বাংলাদেশের করা প্রত্যর্পণ অনুরোধ আইনি ও বিচারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় কোনো ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি শর্ত, অপরাধের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের অনুরোধ পাওয়ার পরও সিদ্ধান্তটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়ার বিষয় নয়।

সম্পর্কের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এর আগে বলেছিলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা জানতে চান, নয়াদিল্লিও কি মনে করে যে বর্তমানে সেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি।

জয়সওয়াল বলেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ সময় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়টিও সামনে আসে। জয়সওয়াল বলেন, হাদির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এবং এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে সফরের আমন্ত্রণ এবং সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ফেব্রুয়ারিতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে এসব আমন্ত্রণ নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা তথ্য আছে কি না, সে বিষয়ে জয়সওয়াল বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি জানান, নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

এর এক দিন আগে, ১০ আগস্ট, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাস পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ভারতকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার অনুরোধ করেছে বলেও জানান তিনি।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ও ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিষয় : শেখ হাসিনা রনধীর জয়সোয়াল

কাল মহাকাল

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে মুখ খুললো ভারত

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থানে এখনো বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ঢাকার করা প্রত্যর্পণ আবেদন দেশটির প্রচলিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগেও স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশটির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এর আগে জুলাইয়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বাংলাদেশের করা প্রত্যর্পণ অনুরোধ আইনি ও বিচারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় কোনো ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি শর্ত, অপরাধের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের অনুরোধ পাওয়ার পরও সিদ্ধান্তটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়ার বিষয় নয়।

সম্পর্কের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এর আগে বলেছিলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা জানতে চান, নয়াদিল্লিও কি মনে করে যে বর্তমানে সেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি।

জয়সওয়াল বলেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ সময় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়টিও সামনে আসে। জয়সওয়াল বলেন, হাদির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এবং এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে সফরের আমন্ত্রণ এবং সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ফেব্রুয়ারিতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে এসব আমন্ত্রণ নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা তথ্য আছে কি না, সে বিষয়ে জয়সওয়াল বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি জানান, নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

এর এক দিন আগে, ১০ আগস্ট, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাস পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ভারতকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার অনুরোধ করেছে বলেও জানান তিনি।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ও ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত