বাংলাদেশ
রংপুরের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে এখন গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। বিশেষ করে ভারতীয় হাইকমিশনারের ওই অঞ্চলে সফর এবং কৌশলগত স্থানে নতুন মন্দির নির্মাণকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন। এই পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে সামনে আসছে কিছু বিতর্কিত মুখ, যারা ধর্মীয় ইস্যুকে পুঁজি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায় কি না—তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘটনাপ্রবাহের রেশ না কাটতেই এবার পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন সন্তোষ শর্মা। এর আগে চৈতালী চক্রবর্তীর ‘সনাতনী’ পরিচয়ে রাজনীতির মাঠে আবির্ভূত হওয়া এবং তার ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, সন্তোষ শর্মার ক্ষেত্রেও তা যেন একই বৃত্তের পুনরাবৃত্তি। পূজা উদযাপন পরিষদের দাবি অনুযায়ী, সারা দেশে মন্দির ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে তারা রাজপথে নেমেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হলো—এই হুমকির প্রকৃত উৎস কোথায়? কোথায় বা কবে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ভিত্তি সাধারণের জানা নেই। বরং রংপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ভারতীয় অর্থায়নে মন্দির নির্মাণের বিষয়টিই এখন মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রাজনৈতিক সমীকরণটিও এখন বেশ জটিল হয়ে উঠছে। সন্তোষ শর্মা যে সংবাদপত্রের সম্পাদক, সেই পত্রিকার প্রকাশক বিএনপির হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপু। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই অপতৎপরতার সঙ্গে দলের সম্পর্ক কী? এছাড়া সরকার দলীয় হুইপ এবং পত্রিকার প্রকাশক হিসেবেই বা তিনি তার সম্পাদকের বিতর্কিত ভূমিকার কী ব্যাখ্যা দেবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে এখনই জনসমক্ষে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যদি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করে, তবে দল হিসেবে তাদের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ বা ছক স্পষ্ট। একদিকে ধর্মীয় অধিকার আদায়ের মোড়কে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সচেতন মহল মনে করছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য যদি কেবল সাধারণের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা হতো, তবে তা প্রশংসিত হতো। কিন্তু যদি এর পেছনে কোনো বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন কিংবা অস্থিতিশীলতা তৈরির দূরভিসন্ধি থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ মানুষ এখন সতর্ক; তারা চায় না ধর্মের নামে দেশের মাটি কোনো ষড়যন্ত্রের খেলার মাঠ হয়ে উঠুক।
2.png)
রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
রংপুরের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে এখন গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। বিশেষ করে ভারতীয় হাইকমিশনারের ওই অঞ্চলে সফর এবং কৌশলগত স্থানে নতুন মন্দির নির্মাণকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন। এই পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে সামনে আসছে কিছু বিতর্কিত মুখ, যারা ধর্মীয় ইস্যুকে পুঁজি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায় কি না—তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘটনাপ্রবাহের রেশ না কাটতেই এবার পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন সন্তোষ শর্মা। এর আগে চৈতালী চক্রবর্তীর ‘সনাতনী’ পরিচয়ে রাজনীতির মাঠে আবির্ভূত হওয়া এবং তার ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, সন্তোষ শর্মার ক্ষেত্রেও তা যেন একই বৃত্তের পুনরাবৃত্তি। পূজা উদযাপন পরিষদের দাবি অনুযায়ী, সারা দেশে মন্দির ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে তারা রাজপথে নেমেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হলো—এই হুমকির প্রকৃত উৎস কোথায়? কোথায় বা কবে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ভিত্তি সাধারণের জানা নেই। বরং রংপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ভারতীয় অর্থায়নে মন্দির নির্মাণের বিষয়টিই এখন মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রাজনৈতিক সমীকরণটিও এখন বেশ জটিল হয়ে উঠছে। সন্তোষ শর্মা যে সংবাদপত্রের সম্পাদক, সেই পত্রিকার প্রকাশক বিএনপির হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপু। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই অপতৎপরতার সঙ্গে দলের সম্পর্ক কী? এছাড়া সরকার দলীয় হুইপ এবং পত্রিকার প্রকাশক হিসেবেই বা তিনি তার সম্পাদকের বিতর্কিত ভূমিকার কী ব্যাখ্যা দেবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে এখনই জনসমক্ষে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যদি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করে, তবে দল হিসেবে তাদের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ বা ছক স্পষ্ট। একদিকে ধর্মীয় অধিকার আদায়ের মোড়কে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সচেতন মহল মনে করছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য যদি কেবল সাধারণের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা হতো, তবে তা প্রশংসিত হতো। কিন্তু যদি এর পেছনে কোনো বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন কিংবা অস্থিতিশীলতা তৈরির দূরভিসন্ধি থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ মানুষ এখন সতর্ক; তারা চায় না ধর্মের নামে দেশের মাটি কোনো ষড়যন্ত্রের খেলার মাঠ হয়ে উঠুক।
2.png)