অর্থনীতি
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্র্যাংক, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আমানত কমার প্রবণতা দেখা গেছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঊর্ধ্বমুখী পরিসংখ্যান নতুন করে অর্থ পাচার নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই আমানতের পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ফ্র্যাংক। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বৃদ্ধির বিষয়টি খোদ আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। অথচ দেশীয় আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো নাগরিকের বিদেশে অর্থ জমার সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কোনো নাগরিককেই বিদেশে টাকা জমা রাখার এমন কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে সুইস ব্যাংকে জমা হওয়া এই পুরো অর্থই অবৈধ পথে বা পাচারের মাধ্যমে বিদেশে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফলেই পাচারের লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ব্যবহারের আড়ালে এখন পাচারের প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। তিনি পাচার রোধের পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন জানিয়েছেন, অর্থ পাচার ঠেকাতে এবং আগের পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে তারা কাজ করছেন। সুইস ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি কোনো সমঝোতা স্মারক না থাকলেও, আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘এগমন্ড গ্রুপের’ মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানসহ আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে সরকার পাচারকারীদের সম্পদ জব্দসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সুইস ব্যাংকে ক্রমবর্ধমান আমানতের এই চিত্র প্রমাণ করে, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় এবং অর্থপাচার রোধে আরও সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।
2.png)
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্র্যাংক, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আমানত কমার প্রবণতা দেখা গেছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঊর্ধ্বমুখী পরিসংখ্যান নতুন করে অর্থ পাচার নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই আমানতের পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ফ্র্যাংক। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বৃদ্ধির বিষয়টি খোদ আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। অথচ দেশীয় আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো নাগরিকের বিদেশে অর্থ জমার সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কোনো নাগরিককেই বিদেশে টাকা জমা রাখার এমন কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে সুইস ব্যাংকে জমা হওয়া এই পুরো অর্থই অবৈধ পথে বা পাচারের মাধ্যমে বিদেশে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফলেই পাচারের লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ব্যবহারের আড়ালে এখন পাচারের প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। তিনি পাচার রোধের পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন জানিয়েছেন, অর্থ পাচার ঠেকাতে এবং আগের পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে তারা কাজ করছেন। সুইস ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি কোনো সমঝোতা স্মারক না থাকলেও, আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘এগমন্ড গ্রুপের’ মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানসহ আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে সরকার পাচারকারীদের সম্পদ জব্দসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সুইস ব্যাংকে ক্রমবর্ধমান আমানতের এই চিত্র প্রমাণ করে, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় এবং অর্থপাচার রোধে আরও সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।
2.png)