সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

সীমান্ত নিরাপত্তায় ভারতের কুমির, সাপের বিপরীতে বাংলাদেশ বসাচ্ছে স্মার্ট 'লেজার ওয়াল'

প্রচলিত কাঁটাতারের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তিতে সাজছে বাংলাদেশের সীমান্ত। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই বৈপ্লবিক পদক্ষেপ বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় ঘটাবে।

সীমান্ত নিরাপত্তায় ভারতের কুমির, সাপের বিপরীতে বাংলাদেশ বসাচ্ছে স্মার্ট 'লেজার ওয়াল'
ছবি -সংগৃহীত

দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়ার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এবার সীমান্ত পাহারায় যুক্ত হচ্ছে ইনফ্রারেড লেজার এবং থার্মাল ইমেজিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সংযোজন নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে এক দূরদর্শী পদক্ষেপ। যখন প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাপ ও কুমির ব্যবহারের মতো আদিম কৌশল নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে, বাংলাদেশ তখন সময়োপযোগী আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।

রাতের আঁধার, ঘন কুয়াশা কিংবা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যে চোরাকারবারিরা এতদিন দাপিয়ে বেড়িয়েছে, তাদের জন্য এই ‘অদৃশ্য দেয়াল’ হবে বড় এক দুঃস্বপ্ন। হিসাব কষে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে সীমান্তে মাদক, স্বর্ণ ও গবাদিপশু চোরাচালানসহ নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারলে, তা পরোক্ষভাবে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি থেকে দেশকে রক্ষা করবে।

প্রযুক্তির এই জাদুকরী রূপটি মূলত কাজ করবে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। বিশেষ করে নাফ নদী বা পাহাড়ি যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বসানো অসম্ভব, সেখানে থার্মাল ক্যামেরার চোখ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন পাহারা চলবে। ৫ কিলোমিটার দূর থেকেও এই ক্যামেরা ঘুটঘুটে অন্ধকারে মানুষের শরীরের তাপ শনাক্ত করে সরাসরি কন্ট্রোল রুমে ছবি ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। মাটির নিচে থাকা ফাইবার অপটিক ক্যাবল এবং ওপরে থাকা অদৃশ্য লেজার রশ্মির এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো পাচারকারী অতিক্রম করলেই বিজিবি’র কন্ট্রোল রুমে চলে যাবে তাৎক্ষণিক জিপিএস লোকেশনসহ সতর্কতা সংকেত। একইসাথে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বয়ংক্রিয় এআই ড্রোন নজরদারি নিশ্চিত করবে, যা পাচারকারী শনাক্ত হওয়া মাত্রই লাইভ ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে দেবে ক্যাম্পে।

টেকনাফ, উখিয়া, বান্দরবান কিংবা যশোরের মতো সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলগুলো দিয়ে যে অবৈধ পারাপার ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছিল, তা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুন্ডি সিন্ডিকেট ও মাদক চোরাকারবারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এটি হবে একটি মাইলফলক। প্রযুক্তিনির্ভর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে যে, দেশের সীমানার প্রতিটি ইঞ্চি এখন আধুনিক নজরদারিতে সুরক্ষিত। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের এই দৃঢ় অবস্থান জানান দিচ্ছে, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের বিকল্প নেই।

বিষয় : বি এস এফ বাংলাদেশ ভারত কূটনীতি বিএসএফ-বিজিবি ঘটনা লেজার ওয়াল সীমান্ত নিরাপত্তা

সীমান্ত নিরাপত্তায় ভারতের কুমির, সাপের বিপরীতে বাংলাদেশ বসাচ্ছে স্মার্ট 'লেজার ওয়াল'
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬


সীমান্ত নিরাপত্তায় ভারতের কুমির, সাপের বিপরীতে বাংলাদেশ বসাচ্ছে স্মার্ট 'লেজার ওয়াল'

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়ার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এবার সীমান্ত পাহারায় যুক্ত হচ্ছে ইনফ্রারেড লেজার এবং থার্মাল ইমেজিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সংযোজন নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে এক দূরদর্শী পদক্ষেপ। যখন প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাপ ও কুমির ব্যবহারের মতো আদিম কৌশল নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে, বাংলাদেশ তখন সময়োপযোগী আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।

রাতের আঁধার, ঘন কুয়াশা কিংবা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যে চোরাকারবারিরা এতদিন দাপিয়ে বেড়িয়েছে, তাদের জন্য এই ‘অদৃশ্য দেয়াল’ হবে বড় এক দুঃস্বপ্ন। হিসাব কষে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে সীমান্তে মাদক, স্বর্ণ ও গবাদিপশু চোরাচালানসহ নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারলে, তা পরোক্ষভাবে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি থেকে দেশকে রক্ষা করবে।

প্রযুক্তির এই জাদুকরী রূপটি মূলত কাজ করবে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। বিশেষ করে নাফ নদী বা পাহাড়ি যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বসানো অসম্ভব, সেখানে থার্মাল ক্যামেরার চোখ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন পাহারা চলবে। ৫ কিলোমিটার দূর থেকেও এই ক্যামেরা ঘুটঘুটে অন্ধকারে মানুষের শরীরের তাপ শনাক্ত করে সরাসরি কন্ট্রোল রুমে ছবি ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। মাটির নিচে থাকা ফাইবার অপটিক ক্যাবল এবং ওপরে থাকা অদৃশ্য লেজার রশ্মির এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো পাচারকারী অতিক্রম করলেই বিজিবি’র কন্ট্রোল রুমে চলে যাবে তাৎক্ষণিক জিপিএস লোকেশনসহ সতর্কতা সংকেত। একইসাথে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বয়ংক্রিয় এআই ড্রোন নজরদারি নিশ্চিত করবে, যা পাচারকারী শনাক্ত হওয়া মাত্রই লাইভ ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে দেবে ক্যাম্পে।

টেকনাফ, উখিয়া, বান্দরবান কিংবা যশোরের মতো সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলগুলো দিয়ে যে অবৈধ পারাপার ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছিল, তা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুন্ডি সিন্ডিকেট ও মাদক চোরাকারবারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এটি হবে একটি মাইলফলক। প্রযুক্তিনির্ভর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে যে, দেশের সীমানার প্রতিটি ইঞ্চি এখন আধুনিক নজরদারিতে সুরক্ষিত। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের এই দৃঢ় অবস্থান জানান দিচ্ছে, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের বিকল্প নেই।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত