সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজধানীরাজধানী

যুগ্মসচিব ও বুয়েট শিক্ষকের মায়ের পচাগলা লাশ উদ্ধার, জানেন না ছেলেরা

একপাশে সরকারের যুগ্ম সচিব ও বুয়েটের শিক্ষক সন্তান, অন্যপাশে চরম অবহেলায় পোকা ধরা মায়ের দেহ। মিরপুরের এই ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী।

যুগ্মসচিব ও বুয়েট শিক্ষকের মায়ের পচাগলা লাশ উদ্ধার, জানেন না ছেলেরা
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট। বাসার ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। তবে ভেতরে যে মৃত্যুপুরী অপেক্ষা করছে, তা হয়তো প্রতিবেশীরা কল্পনাও করেননি। রবিবার রাতে পুলিশ যখন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল, তখন নুরজাহান বেগমের (৭২) মরদেহ আর চেনার উপায় ছিল না। দীর্ঘ ৭-৮ দিন পড়ে থাকায় শরীরে পচন ধরেছে, পোকা ধরেছে। অথচ, এই মানুষটির সন্তানেরা সমাজের বড় বড় পদে আসীন।

ঘটনাটি শুনে গা শিউরে ওঠে। নুরজাহান বেগম যে ঘরে থাকতেন, সেটি ছিল আবর্জনায় ভরা, চরম অপরিচ্ছন্ন। দেখলে মনে হয়, বহু বছর ধরে কোনো মানুষের সেবা বা যত্ন পাননি তিনি। আমাদের সমাজে সফলতার মাপকাঠি হিসেবে আমরা উচ্চপদ, ডিগ্রি আর বিদেশের বাড়িকেই বুঝি। কিন্তু দিনশেষে মানুষ হিসেবে আমরা কতটা সফল, সেই প্রশ্নটাই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।

এখানেই আসল বিষয়টি চোখে পড়ে। এই বৃদ্ধার তিন ছেলেই সুপ্রতিষ্ঠিত। একজন সরকারের উচ্চপদস্থ যুগ্ম সচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, আর অন্যজন থাকেন কানাডায়। তবে মায়ের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, কিংবা থাকলেও কেন এই অবস্থা—তা নিয়ে এখন মানুষের মনে হাজারো প্রশ্ন।

তবে আরও রহস্যময় হলো তার মেয়ের বিষয়টি। বৃদ্ধা যে ফ্ল্যাটে মারা গেলেন, সেই ফ্ল্যাটেই থাকতেন তার মেয়ে। মেয়ে পাশে থেকেও টের পেলেন না, নাকি পেলেও পাত্তা দিলেন না? পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার বৃদ্ধার মেয়ে একজন নার্সকে ডেকেছিলেন। সেই নার্সই প্রথম মরদেহটি দেখতে পান। মেয়েকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কিন্তু তিনি মায়ের মৃত্যু বা অবস্থা নিয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

পল্লবী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর আসল কারণ হয়তো রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে। তবে তার আগেই যা বেরিয়ে এসেছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের এক ভয়াবহ চিত্র। উচ্চশিক্ষিত হয়ে, বড় পদে কাজ করেও কি আমরা আমাদের মা-বাবার দায় নিতে শিখলাম না?

আমাদের চারপাশে এমন অনেক পরিবার আছে, যারা বাইরে থেকে ঝকঝকে দেখায়। কিন্তু ভেতরের গল্পটা বড়ই করুণ। ক্যারিয়ারের দৌড়ে, নিজের সংসারের চাপে আমরা কি খুব বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি? নুরজাহান বেগমের এই করুণ বিদায় কি আমাদের সেই শিক্ষা দেবে? নাকি আমরা শুধু সাফল্যের পেছনে ছুটব, আর পেছনে ফেলে যাবো আমাদের জন্মদাতা মা-বাবাকে? প্রশ্নটা থাকল সবার জন্য।

বিষয় : মিরপুর বৃদ্ধার গলিত লাশ

যুগ্মসচিব ও বুয়েট শিক্ষকের মায়ের পচাগলা লাশ উদ্ধার, জানেন না ছেলেরা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


যুগ্মসচিব ও বুয়েট শিক্ষকের মায়ের পচাগলা লাশ উদ্ধার, জানেন না ছেলেরা

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট। বাসার ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। তবে ভেতরে যে মৃত্যুপুরী অপেক্ষা করছে, তা হয়তো প্রতিবেশীরা কল্পনাও করেননি। রবিবার রাতে পুলিশ যখন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল, তখন নুরজাহান বেগমের (৭২) মরদেহ আর চেনার উপায় ছিল না। দীর্ঘ ৭-৮ দিন পড়ে থাকায় শরীরে পচন ধরেছে, পোকা ধরেছে। অথচ, এই মানুষটির সন্তানেরা সমাজের বড় বড় পদে আসীন।

ঘটনাটি শুনে গা শিউরে ওঠে। নুরজাহান বেগম যে ঘরে থাকতেন, সেটি ছিল আবর্জনায় ভরা, চরম অপরিচ্ছন্ন। দেখলে মনে হয়, বহু বছর ধরে কোনো মানুষের সেবা বা যত্ন পাননি তিনি। আমাদের সমাজে সফলতার মাপকাঠি হিসেবে আমরা উচ্চপদ, ডিগ্রি আর বিদেশের বাড়িকেই বুঝি। কিন্তু দিনশেষে মানুষ হিসেবে আমরা কতটা সফল, সেই প্রশ্নটাই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।

এখানেই আসল বিষয়টি চোখে পড়ে। এই বৃদ্ধার তিন ছেলেই সুপ্রতিষ্ঠিত। একজন সরকারের উচ্চপদস্থ যুগ্ম সচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, আর অন্যজন থাকেন কানাডায়। তবে মায়ের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, কিংবা থাকলেও কেন এই অবস্থা—তা নিয়ে এখন মানুষের মনে হাজারো প্রশ্ন।

তবে আরও রহস্যময় হলো তার মেয়ের বিষয়টি। বৃদ্ধা যে ফ্ল্যাটে মারা গেলেন, সেই ফ্ল্যাটেই থাকতেন তার মেয়ে। মেয়ে পাশে থেকেও টের পেলেন না, নাকি পেলেও পাত্তা দিলেন না? পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার বৃদ্ধার মেয়ে একজন নার্সকে ডেকেছিলেন। সেই নার্সই প্রথম মরদেহটি দেখতে পান। মেয়েকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কিন্তু তিনি মায়ের মৃত্যু বা অবস্থা নিয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

পল্লবী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর আসল কারণ হয়তো রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে। তবে তার আগেই যা বেরিয়ে এসেছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের এক ভয়াবহ চিত্র। উচ্চশিক্ষিত হয়ে, বড় পদে কাজ করেও কি আমরা আমাদের মা-বাবার দায় নিতে শিখলাম না?

আমাদের চারপাশে এমন অনেক পরিবার আছে, যারা বাইরে থেকে ঝকঝকে দেখায়। কিন্তু ভেতরের গল্পটা বড়ই করুণ। ক্যারিয়ারের দৌড়ে, নিজের সংসারের চাপে আমরা কি খুব বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি? নুরজাহান বেগমের এই করুণ বিদায় কি আমাদের সেই শিক্ষা দেবে? নাকি আমরা শুধু সাফল্যের পেছনে ছুটব, আর পেছনে ফেলে যাবো আমাদের জন্মদাতা মা-বাবাকে? প্রশ্নটা থাকল সবার জন্য।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত