সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

আমরণ অনশন সোনাম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ,মৃত্যুর ঝুঁকি

দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ১৯ দিন ধরে চলছে এক নীরব লড়াই। একদিকে তীব্র শীত ও শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে যুদ্ধ, অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থানে থাকা লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুক। তার এই আমরণ অনশন কেবল একটি দাবি আদায়ের লড়াই নয়, বরং এটি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর এক গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি।

আমরণ অনশন সোনাম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ,মৃত্যুর ঝুঁকি
ছবি -সংগৃহীত


 গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের ছাত্রসমাজ যখন উত্তাল, তখনই এর প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংহতি জানিয়ে সোনাম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে নিজের অবস্থান শুরু করেন। ৫৯ বছর বয়সী এই কর্মীর শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। আদালতের দেওয়া তথ্যমতে, অনশনের ফলে তার শরীরের ওজন ইতিমধ্যে সাড়ে ৮ কেজি হ্রাস পেয়েছে এবং রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনক হারে কমেছে। দিল্লি হাইকোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের প্রতি তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে।

আদালত যখন জানতে চান, কেন একজন নাগরিকের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে সরকারি তদারকি নিরবচ্ছিন্ন নয়, তখন সরকারপক্ষের উত্তর পরিস্থিতি নিয়ে তাদের দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন, প্রতিটি নাগরিকের জীবন অমূল্য এবং তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অথচ, সোনাম ওয়াংচুকের মতো একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘থ্রি ইডিয়টস’ চলচ্চিত্রের ফুনশুখ ওয়াংড়ুর মতো জননন্দিত চরিত্রের অনুপ্রেরণা, তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েও সরকারের এমন নীরব থাকা দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর এক প্রকার আঘাত।

 একটি গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু যখনই এই প্রতিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সরকার তা উপেক্ষার চেষ্টা করে, তখনই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সোনাম ওয়াংচুকের মৃত্যু হলে তা কেবল ভারতের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি বড় লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এটি শুধু একটি একক আন্দোলন নয়, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত এক বৃহত্তর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

 সোনাম ওয়াংচুক গত কয়েক ঘণ্টা আগের ভিডিও বার্তায় তার মনোবল অটুট থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। আগামী ২০ জুলাই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যন্তর মন্তরে এসে সংহতি জানানোর ডাক দিয়েছেন তিনি।

এখন প্রশ্ন হলো, সরকার কি জনমতের চাপে নতি স্বীকার করে আলোচনার টেবিলে বসবে, নাকি আরও একটি বড় অঘটন ঘটতে দেবে? সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই অনশন কেবল ওয়াংচুকের জীবনের পরীক্ষার বিষয় হয়ে থাকছে না, বরং এটি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার এক বড় পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যেকার এই বিরোধের সমাধান কেবল বলপ্রয়োগ বা উদাসীনতায় সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানবিক সংবেদনশীলতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সোনাম ওয়াংচুকের মতো একজন সচেতন নাগরিকের কণ্ঠ যেন নিস্তব্ধ না হয়ে যায়, সেটাই এখন সচেতন সমাজের প্রত্যাশা।

বিষয় : সোনাম ওয়াংচুক আমরণ অনশন

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


আমরণ অনশন সোনাম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ,মৃত্যুর ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image


 গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের ছাত্রসমাজ যখন উত্তাল, তখনই এর প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংহতি জানিয়ে সোনাম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে নিজের অবস্থান শুরু করেন। ৫৯ বছর বয়সী এই কর্মীর শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। আদালতের দেওয়া তথ্যমতে, অনশনের ফলে তার শরীরের ওজন ইতিমধ্যে সাড়ে ৮ কেজি হ্রাস পেয়েছে এবং রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনক হারে কমেছে। দিল্লি হাইকোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের প্রতি তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে।

আদালত যখন জানতে চান, কেন একজন নাগরিকের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে সরকারি তদারকি নিরবচ্ছিন্ন নয়, তখন সরকারপক্ষের উত্তর পরিস্থিতি নিয়ে তাদের দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন, প্রতিটি নাগরিকের জীবন অমূল্য এবং তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অথচ, সোনাম ওয়াংচুকের মতো একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘থ্রি ইডিয়টস’ চলচ্চিত্রের ফুনশুখ ওয়াংড়ুর মতো জননন্দিত চরিত্রের অনুপ্রেরণা, তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েও সরকারের এমন নীরব থাকা দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর এক প্রকার আঘাত।

 একটি গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু যখনই এই প্রতিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সরকার তা উপেক্ষার চেষ্টা করে, তখনই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সোনাম ওয়াংচুকের মৃত্যু হলে তা কেবল ভারতের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি বড় লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এটি শুধু একটি একক আন্দোলন নয়, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত এক বৃহত্তর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

 সোনাম ওয়াংচুক গত কয়েক ঘণ্টা আগের ভিডিও বার্তায় তার মনোবল অটুট থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। আগামী ২০ জুলাই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যন্তর মন্তরে এসে সংহতি জানানোর ডাক দিয়েছেন তিনি।

এখন প্রশ্ন হলো, সরকার কি জনমতের চাপে নতি স্বীকার করে আলোচনার টেবিলে বসবে, নাকি আরও একটি বড় অঘটন ঘটতে দেবে? সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই অনশন কেবল ওয়াংচুকের জীবনের পরীক্ষার বিষয় হয়ে থাকছে না, বরং এটি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার এক বড় পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যেকার এই বিরোধের সমাধান কেবল বলপ্রয়োগ বা উদাসীনতায় সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানবিক সংবেদনশীলতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সোনাম ওয়াংচুকের মতো একজন সচেতন নাগরিকের কণ্ঠ যেন নিস্তব্ধ না হয়ে যায়, সেটাই এখন সচেতন সমাজের প্রত্যাশা।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত