সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করেই লেবাননে স্থায়ী সেনাঘাঁটি তৈরি করছে ইসরায়েল

দক্ষিণ লেবাননে নজরদারি বাড়াতে স্থায়ী সেনাপোস্ট নির্মাণ শুরু করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও সামরিক উপস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদী রূপ দিচ্ছে তেল আবিব।

যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করেই লেবাননে স্থায়ী সেনাঘাঁটি তৈরি করছে ইসরায়েল
ছবি -সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের আন্তর্জাতিক দাবি এবং কূটনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এক উল্টো পথে হাঁটছে ইসরায়েল। লেবাননের ভেতরে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা তো দূরের কথা, বরং সেখানে স্থায়ী সেনাপোস্ট নির্মাণের কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। সম্প্রতি ইসরায়েলি দৈনিক ‘মারিভ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এনেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইডিএফ-এর অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই সেনাপোস্টগুলোর সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক কৌশলেরই প্রতিফলন।

গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে যে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েল, তা এখনো থামার কোনো লক্ষণ নেই। সরকারি পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে এক রক্তক্ষয়ী চিত্র; এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২২৪ জনেরও বেশি মানুষ। আর এই সংঘাতের সরাসরি শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ১০ লাখ লেবানিজ নাগরিক। এমন মানবিক বিপর্যয় সত্ত্বেও ইসরায়েলের এই নতুন নির্মাণকাজ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু সময় ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতালির রাজধানী রোমে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনাও হয়েছে। সেই আলোচনার মূল এজেন্ডা ছিল দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং এর শর্তাবলী। এমনকি গত জুনের শেষদিকে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত সেনা রাখার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছিল, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল পর্যায়ক্রমে পুরো এলাকা খালি করে দেওয়া।

তবে বর্তমানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান এবং মার্কিন প্রশাসনের নীতির মধ্যে যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যেখানে সংঘাত কমিয়ে সেনা অভিযান বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে, সেখানে নেতানিয়াহু কোনোভাবেই সামরিক অভিযান থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। ওয়াশিংটন থেকে তেল আবিবের প্রতি বারবার কড়া বার্তা পাঠানো হলেও ইসরায়েল তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কৌশলে অটল।

বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক মহল এবং কূটনৈতিক চাপের তোয়াক্কা না করে ইসরায়েল এখন লেবাননের মাটিতে পাকাপোক্ত অবস্থান তৈরির দিকে এগোচ্ছে। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন কূটনীতি এই জেদ ভাঙতে পারে, নাকি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির একটি নতুন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বিষয় : ইসরায়েল লেবাননে স্থায়ী সেনাঘাঁটি ইসরায়েল

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করেই লেবাননে স্থায়ী সেনাঘাঁটি তৈরি করছে ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের আন্তর্জাতিক দাবি এবং কূটনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এক উল্টো পথে হাঁটছে ইসরায়েল। লেবাননের ভেতরে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা তো দূরের কথা, বরং সেখানে স্থায়ী সেনাপোস্ট নির্মাণের কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। সম্প্রতি ইসরায়েলি দৈনিক ‘মারিভ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এনেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইডিএফ-এর অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই সেনাপোস্টগুলোর সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক কৌশলেরই প্রতিফলন।

গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে যে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েল, তা এখনো থামার কোনো লক্ষণ নেই। সরকারি পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে এক রক্তক্ষয়ী চিত্র; এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২২৪ জনেরও বেশি মানুষ। আর এই সংঘাতের সরাসরি শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ১০ লাখ লেবানিজ নাগরিক। এমন মানবিক বিপর্যয় সত্ত্বেও ইসরায়েলের এই নতুন নির্মাণকাজ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু সময় ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতালির রাজধানী রোমে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনাও হয়েছে। সেই আলোচনার মূল এজেন্ডা ছিল দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং এর শর্তাবলী। এমনকি গত জুনের শেষদিকে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত সেনা রাখার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছিল, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল পর্যায়ক্রমে পুরো এলাকা খালি করে দেওয়া।

তবে বর্তমানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান এবং মার্কিন প্রশাসনের নীতির মধ্যে যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যেখানে সংঘাত কমিয়ে সেনা অভিযান বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে, সেখানে নেতানিয়াহু কোনোভাবেই সামরিক অভিযান থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। ওয়াশিংটন থেকে তেল আবিবের প্রতি বারবার কড়া বার্তা পাঠানো হলেও ইসরায়েল তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কৌশলে অটল।

বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক মহল এবং কূটনৈতিক চাপের তোয়াক্কা না করে ইসরায়েল এখন লেবাননের মাটিতে পাকাপোক্ত অবস্থান তৈরির দিকে এগোচ্ছে। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন কূটনীতি এই জেদ ভাঙতে পারে, নাকি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির একটি নতুন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত