জাতীয়
‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া কারও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে মানুষের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ভিডিও ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬–এর ধারা ২৫ অনুযায়ী ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য, ভিডিও বা ছবি প্রচার বা প্রচারের হুমকি দেওয়া অপরাধ।
এই অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী যদি নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তাহলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি করলে তা সাইবার স্পেসে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
তিনি জানান, আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
এ ছাড়া জাতীয় সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার সাইবার অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করবে।
মন্ত্রী বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও আইনটিতে রাখা হয়েছে।
সরকার ভবিষ্যতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ দ্রুত শনাক্ত ও তদন্ত করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া বিদেশ থেকে পরিচালিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা থাকবে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া কারও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে মানুষের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ভিডিও ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬–এর ধারা ২৫ অনুযায়ী ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য, ভিডিও বা ছবি প্রচার বা প্রচারের হুমকি দেওয়া অপরাধ।
এই অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী যদি নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তাহলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি করলে তা সাইবার স্পেসে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
তিনি জানান, আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
এ ছাড়া জাতীয় সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার সাইবার অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করবে।
মন্ত্রী বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও আইনটিতে রাখা হয়েছে।
সরকার ভবিষ্যতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ দ্রুত শনাক্ত ও তদন্ত করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া বিদেশ থেকে পরিচালিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা থাকবে।
