লোকাল ফোকাস
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টা ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. রবিউল চৌধুরীর স্ত্রী মোছাঃ জেবউন নেহার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোছাঃ জেবউন নেহার বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার রাঙামাটি মৌজার এসএ খতিয়ান নং-১৭৪ ও ১১৪৫ এবং দাগ নং-১১৪৫-এর মোট ৩২ শতক জমির মধ্যে ১৯৫৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। এরপর অবশিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক দলিল, নামজারি, খারিজ এবং আদালতের কার্যক্রম হয়েছে। ১৯৮২ সালের ৯ আগস্টের ৯৩৭৪ ও ৯৩৮০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল ১৯৮৮ সালের ২৪৫৭ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে তাঁর শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন বলে দাবি করেন জেবউন নেহার।
অন্যদিকে, তাঁর লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, একই দাগে একই দাতাদের কাছ থেকে ১৯৯১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে মমিনুল ইসলাম চৌধুরী, মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ও মাজেদ চৌধুরী মোট ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে ১৫০০ নম্বর দলিলে মমিনুল ইসলাম চৌধুরী ৫ শতক, ১৫০১ নম্বর দলিলে মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ৬ শতক এবং ১৫০২ নম্বর দলিলে মাজেদ চৌধুরী ৫ শতক জমি ক্রয় করেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৮৮ সালে মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর ১৬ শতক জমি কেনার পর একই দাগে ১৯৯১ সালে অন্য ব্যক্তিদের নামে পুনরায় ১৬ শতক জমি বিক্রির বিষয়টি থেকেই মূল বিরোধের সূত্রপাত।
জেবউন নেহার বলেন, ১৬ শতক জমি খারিজের জন্য আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারা সরেজমিন তদন্ত ও কাগজপত্র যাচাই করেন। পরবর্তীতে ওই তদন্ত ও খারিজ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও আদালত পর্যায়ে একাধিক কার্যক্রম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, চলমান জরিপে তাঁর শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর নামে ১৬ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ডিপি খতিয়ান নং-৫০৯ এবং হাল দাগ নং-৮০৯ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মার্কেট ও ভবন রয়েছে এবং সেখানে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জেবউন নেহার বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য মূল দলিল, সরকারি রেকর্ড, নামজারি-খারিজের নথি এবং আদালতের কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেবউন নেহার অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ইমরান চৌধুরী নিশাদের কোনো তৎপরতা তিনি দেখেননি। তাঁর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর জমি দখলের উদ্দেশ্যে নতুন করে তৎপরতা শুরু করা হয় এবং তাঁর দখলে থাকা জায়গায় জোরপূর্বক টিনের ছাউনি নির্মাণ ও মাটি ফেলার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এতে বাধা দিতে গেলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং ইমরান চৌধুরী নিশাদ তাঁর ভবন ভেঙে হলেও জমি দখল করার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেবউন নেহার বলেন, দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো সরকারি দপ্তরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তাহলে এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই তাঁর অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিষয় : ফুলবাড়ী এনসিপি নেতা সংবাদ সম্মেলন
2.png)
রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টা ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. রবিউল চৌধুরীর স্ত্রী মোছাঃ জেবউন নেহার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোছাঃ জেবউন নেহার বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার রাঙামাটি মৌজার এসএ খতিয়ান নং-১৭৪ ও ১১৪৫ এবং দাগ নং-১১৪৫-এর মোট ৩২ শতক জমির মধ্যে ১৯৫৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। এরপর অবশিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক দলিল, নামজারি, খারিজ এবং আদালতের কার্যক্রম হয়েছে। ১৯৮২ সালের ৯ আগস্টের ৯৩৭৪ ও ৯৩৮০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল ১৯৮৮ সালের ২৪৫৭ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে তাঁর শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন বলে দাবি করেন জেবউন নেহার।
অন্যদিকে, তাঁর লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, একই দাগে একই দাতাদের কাছ থেকে ১৯৯১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে মমিনুল ইসলাম চৌধুরী, মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ও মাজেদ চৌধুরী মোট ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে ১৫০০ নম্বর দলিলে মমিনুল ইসলাম চৌধুরী ৫ শতক, ১৫০১ নম্বর দলিলে মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ৬ শতক এবং ১৫০২ নম্বর দলিলে মাজেদ চৌধুরী ৫ শতক জমি ক্রয় করেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৮৮ সালে মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর ১৬ শতক জমি কেনার পর একই দাগে ১৯৯১ সালে অন্য ব্যক্তিদের নামে পুনরায় ১৬ শতক জমি বিক্রির বিষয়টি থেকেই মূল বিরোধের সূত্রপাত।
জেবউন নেহার বলেন, ১৬ শতক জমি খারিজের জন্য আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারা সরেজমিন তদন্ত ও কাগজপত্র যাচাই করেন। পরবর্তীতে ওই তদন্ত ও খারিজ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও আদালত পর্যায়ে একাধিক কার্যক্রম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, চলমান জরিপে তাঁর শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর নামে ১৬ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ডিপি খতিয়ান নং-৫০৯ এবং হাল দাগ নং-৮০৯ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মার্কেট ও ভবন রয়েছে এবং সেখানে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জেবউন নেহার বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য মূল দলিল, সরকারি রেকর্ড, নামজারি-খারিজের নথি এবং আদালতের কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেবউন নেহার অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ইমরান চৌধুরী নিশাদের কোনো তৎপরতা তিনি দেখেননি। তাঁর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর জমি দখলের উদ্দেশ্যে নতুন করে তৎপরতা শুরু করা হয় এবং তাঁর দখলে থাকা জায়গায় জোরপূর্বক টিনের ছাউনি নির্মাণ ও মাটি ফেলার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এতে বাধা দিতে গেলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং ইমরান চৌধুরী নিশাদ তাঁর ভবন ভেঙে হলেও জমি দখল করার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেবউন নেহার বলেন, দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো সরকারি দপ্তরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তাহলে এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই তাঁর অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
2.png)