বিনোদনবিনোদন

বিধ্বস্ত গাজার মানুষের জীবন নিয়ে সুইজারল্যান্ডের তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ' যাচ্ছে অস্কারে

গাজা থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া নয়জন ফিলিস্তিনির স্মৃতি, স্বজন হারানোর বেদনা ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’কে ২০২৭ সালের অস্কারের জন্য সুইজারল্যান্ডের নির্বাচিত ছবি করা হয়েছে।

বিধ্বস্ত গাজার মানুষের জীবন নিয়ে সুইজারল্যান্ডের তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ' যাচ্ছে অস্কারে
ছবি-সংগৃহিত

গাজা যুদ্ধ থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা এবার জায়গা করে নিচ্ছে অস্কারের প্রতিযোগিতায়। সুইজারল্যান্ড ২০২৭ সালের ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছে ফিলিস্তিনের গাজাকে ঘিরে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’। জেনেভাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা নিকোলা ওয়াদিমফ ছবিটি নির্মাণ করেছেন।


২০২৫ সালে নির্মিত প্রায় ১১৪ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে গাজার নয়জন ফিলিস্তিনি তাঁদের নিজেদের জীবনের কথা বলেছেন। যুদ্ধের আগে তাঁদের জীবন কেমন ছিল, কীভাবে সংঘাত তাঁদের বাস্তুচ্যুত করেছে, স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা কীভাবে তাঁদের বদলে দিয়েছে—এসবই উঠে এসেছে তাঁদের ব্যক্তিগত বয়ানে। ছবিটির মূল ভাষা আরবি।

ছবিটির নির্মাণশৈলীও প্রচলিত যুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্রের চেয়ে আলাদা। গাজার শহর, শরণার্থী শিবির ও বিভিন্ন এলাকার একটি সরল মানচিত্র কালো মেঝের ওপর সাদা রঙে আঁকা হয়েছে। সেই মানচিত্রের ভেতর দাঁড়িয়ে নয়জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের প্রচলিত দৃশ্যের বদলে তাঁদের স্মৃতি, হারানোর বেদনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাই এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে।


পরিচালক নিকোলা ওয়াদিমফের এই নির্মাণে গাজার সংকটকে বৃহৎ রাজনৈতিক পরিসরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে। ছবিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের পুরোনো জীবন, হারিয়ে যাওয়া স্বজন, বাস্তুচ্যুতি এবং গাজা ছেড়ে পালানোর অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তাঁদের কথার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসংখ্যানের আড়ালে থাকা ব্যক্তিমানুষের জীবন সামনে আসে।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনেও ছবিটি এরই মধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের গিওর্নাতে দেগলি অটোরি আয়োজনে এটি সিনেমা অ্যান্ড আর্টস অ্যাওয়ার্ড পায়। একই বছর তিবিলিসি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্রের পুরস্কারও জেতে। ২০২৬ সালের সোলোথার্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি অর্জন করে সুইজারল্যান্ডের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রিক্স দ্য সোলৌর পুরস্কার।


সুইস চলচ্চিত্রবিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির কেন্দ্রীয় বিষয় হলো যুদ্ধের মধ্যে মানুষের পরিচয় ধরে রাখার সংগ্রাম। বাস্তুচ্যুতির পর নিজের শেকড়, স্মৃতি ও হারিয়ে যাওয়া জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টাও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে কোনো দেশের নির্বাচিত ছবি প্রথমে চূড়ান্ত মনোনয়ন পায় না। এবারের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্মের ১৫টি ছবির শর্টলিস্ট প্রকাশ করা হবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬। এরপর চূড়ান্ত পাঁচটি মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে ২১ জানুয়ারি ২০২৭

৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত হবে ১৪ মার্চ ২০২৭, লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে। ফলে সুইজারল্যান্ডের নির্বাচিত ছবিটির সামনে এখন প্রথম লক্ষ্য শর্টলিস্টে জায়গা করে নেওয়া, এরপর চূড়ান্ত মনোনয়নের দৌড়ে টিকে থাকা।

বিষয় : অস্কার হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ গাজার মানুষের জীবন সুইজারল্যান্ড তথ্যচিত্র

কাল মহাকাল

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


বিধ্বস্ত গাজার মানুষের জীবন নিয়ে সুইজারল্যান্ডের তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ' যাচ্ছে অস্কারে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাজা যুদ্ধ থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা এবার জায়গা করে নিচ্ছে অস্কারের প্রতিযোগিতায়। সুইজারল্যান্ড ২০২৭ সালের ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছে ফিলিস্তিনের গাজাকে ঘিরে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’। জেনেভাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা নিকোলা ওয়াদিমফ ছবিটি নির্মাণ করেছেন।


২০২৫ সালে নির্মিত প্রায় ১১৪ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে গাজার নয়জন ফিলিস্তিনি তাঁদের নিজেদের জীবনের কথা বলেছেন। যুদ্ধের আগে তাঁদের জীবন কেমন ছিল, কীভাবে সংঘাত তাঁদের বাস্তুচ্যুত করেছে, স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা কীভাবে তাঁদের বদলে দিয়েছে—এসবই উঠে এসেছে তাঁদের ব্যক্তিগত বয়ানে। ছবিটির মূল ভাষা আরবি।

ছবিটির নির্মাণশৈলীও প্রচলিত যুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্রের চেয়ে আলাদা। গাজার শহর, শরণার্থী শিবির ও বিভিন্ন এলাকার একটি সরল মানচিত্র কালো মেঝের ওপর সাদা রঙে আঁকা হয়েছে। সেই মানচিত্রের ভেতর দাঁড়িয়ে নয়জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের প্রচলিত দৃশ্যের বদলে তাঁদের স্মৃতি, হারানোর বেদনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাই এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে।


পরিচালক নিকোলা ওয়াদিমফের এই নির্মাণে গাজার সংকটকে বৃহৎ রাজনৈতিক পরিসরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে। ছবিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের পুরোনো জীবন, হারিয়ে যাওয়া স্বজন, বাস্তুচ্যুতি এবং গাজা ছেড়ে পালানোর অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তাঁদের কথার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসংখ্যানের আড়ালে থাকা ব্যক্তিমানুষের জীবন সামনে আসে।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনেও ছবিটি এরই মধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের গিওর্নাতে দেগলি অটোরি আয়োজনে এটি সিনেমা অ্যান্ড আর্টস অ্যাওয়ার্ড পায়। একই বছর তিবিলিসি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্রের পুরস্কারও জেতে। ২০২৬ সালের সোলোথার্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি অর্জন করে সুইজারল্যান্ডের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রিক্স দ্য সোলৌর পুরস্কার।


সুইস চলচ্চিত্রবিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির কেন্দ্রীয় বিষয় হলো যুদ্ধের মধ্যে মানুষের পরিচয় ধরে রাখার সংগ্রাম। বাস্তুচ্যুতির পর নিজের শেকড়, স্মৃতি ও হারিয়ে যাওয়া জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টাও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে কোনো দেশের নির্বাচিত ছবি প্রথমে চূড়ান্ত মনোনয়ন পায় না। এবারের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্মের ১৫টি ছবির শর্টলিস্ট প্রকাশ করা হবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬। এরপর চূড়ান্ত পাঁচটি মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে ২১ জানুয়ারি ২০২৭

৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত হবে ১৪ মার্চ ২০২৭, লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে। ফলে সুইজারল্যান্ডের নির্বাচিত ছবিটির সামনে এখন প্রথম লক্ষ্য শর্টলিস্টে জায়গা করে নেওয়া, এরপর চূড়ান্ত মনোনয়নের দৌড়ে টিকে থাকা।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  মোঃ ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত