প্রবাস
পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কেউ নওগাঁর আত্রাই থেকে, কেউ নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে। কিন্তু প্রবাসের সেই কর্মস্থলই হয়ে উঠল তাদের শেষ ঠিকানা। সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেছে অন্তত ১৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজন রয়েছেন। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নওগাঁর নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কলি (৩০), লুৎফর (৩২), জান্ডার, রুবেল, বিশা এলাকার সাগর, মজিদুল, দুবাই এলাকার শুভ, সুমন, পারকাসুন্দা গ্রামের জালাল এবং উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখ।
নাটোরের নিহত তিনজন হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দিঘির পাড় গ্রামের শামীম হোসেন, শ্রীপুর গ্রামের সাব্বির হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল আউয়াল।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
অগ্নিকাণ্ডের পর সৌদি ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের রিয়াদস্থ লেবার কাউন্সেলর মো. রেজা রাব্বির মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে ঘটনাস্থলে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিহত সবাই বাংলাদেশি। তবে মরদেহ শনাক্ত ও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করার কাজ এখনো চলছে।
ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক পরিবার এখনো স্বজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতদের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনেরা বলছেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের আশায় এসব শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন। নিয়মিত আয় করে দেশে টাকা পাঠিয়ে পরিবারের ব্যয় চালাতেন তারা। হঠাৎ এমন মৃত্যুর খবর তাদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে সরকার
অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জীবিকার জন্য সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও সৌদি আরবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নিহতদের পরিবার যাতে সরকারি সহায়তা ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : বাংলাদেশি নিহত সৌদি কারখানা আগুন
2.png)
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কেউ নওগাঁর আত্রাই থেকে, কেউ নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে। কিন্তু প্রবাসের সেই কর্মস্থলই হয়ে উঠল তাদের শেষ ঠিকানা। সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেছে অন্তত ১৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজন রয়েছেন। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নওগাঁর নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কলি (৩০), লুৎফর (৩২), জান্ডার, রুবেল, বিশা এলাকার সাগর, মজিদুল, দুবাই এলাকার শুভ, সুমন, পারকাসুন্দা গ্রামের জালাল এবং উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখ।
নাটোরের নিহত তিনজন হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দিঘির পাড় গ্রামের শামীম হোসেন, শ্রীপুর গ্রামের সাব্বির হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল আউয়াল।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
অগ্নিকাণ্ডের পর সৌদি ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের রিয়াদস্থ লেবার কাউন্সেলর মো. রেজা রাব্বির মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে ঘটনাস্থলে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিহত সবাই বাংলাদেশি। তবে মরদেহ শনাক্ত ও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করার কাজ এখনো চলছে।
ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক পরিবার এখনো স্বজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতদের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনেরা বলছেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের আশায় এসব শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন। নিয়মিত আয় করে দেশে টাকা পাঠিয়ে পরিবারের ব্যয় চালাতেন তারা। হঠাৎ এমন মৃত্যুর খবর তাদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে সরকার
অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জীবিকার জন্য সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও সৌদি আরবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নিহতদের পরিবার যাতে সরকারি সহায়তা ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
2.png)